অযোধ্যা থেকে রাম রথ
উদ্বেগ পলিট ব্যুরোর

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ১৪ই ফেব্রুয়ারি-অযোধ্যা থেকে ‘রাম রাজ রথ যাত্রা’ শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো। মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে এই রথযাত্রা শুরু হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৪১ দিন ধরে ৬রাজ্যে পরিক্রমা করবে এই রথ। এই যাত্রায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পলিট ব্যুরো।

১৯৯০সালে রথযাত্রা বের করেছিলেন বি জে পি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি। দেশজুড়ে দাঙ্গার চিহ্ন রেখে গিয়েছিল ওই যাত্রা। সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে জোরালো করেছিল। ২৮বছর পরে ফের অযোধ্যায় ভি এইচ পি-র করসেবকপুরম থেকে ওই রথ বেরিয়েছে মঙ্গলবার। ভি এইচ পি ছাড়াও এই যাত্রায় মহারাষ্ট্রের সংস্থা শ্রী রামদাস মিশন ইউনিভার্সালকে যুক্ত করা হয়েছে। আর এস এস নিজের নাম সরাসরি যুক্ত করতে চাইছে না বলেই এই কৌশল। যদিও যাত্রা শুরু করিয়েছেন ভি এইচ পি-র সাধারণ সম্পাদক, ফৈজাবাদের বি জে পি সাংসদ, অযোধ্যার বি জে পি মেয়র। ছিলেন অন্যান্য বি জে পি নেতারাও। বিপুল অর্থ খরচ করে রথ বানানো হয়েছে অযোধ্যায় প্রস্তাবিত ‘রামমন্দিরের’ ধাঁচে।

উদ্যোক্তাদের ঘোষণা রামায়ণে বর্ণিত অযোধ্যা থেকে শ্রীলঙ্কার যাত্রাপথে এই রথ যাবে। মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র হয়ে রথ যাবে কর্ণাটকে। সেখানে একপক্ষকাল থাকবে। কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচন সামনেই। এরপর কেরালা হয়ে তামিলনাডুর রামেশ্বরমে যাবে। কেরালার তিরুবনন্তপুরমে পদ্মনাভ মন্দিরের সামনে রাম রাজ্য সম্মেলন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। সেখানেই এই রথ থাকবে। ২০১৯সালে সেখান থেকে রথ ফের অযোধ্যা অভিমুখে ফেরত আসবে।

এই রথযাত্রার মুখ্য দাবি অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই রামমন্দির নির্মাণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীনই এই দাবিতে রথযাত্রা করা হচ্ছে। এছাড়াও ‘রাম রাজ্য’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্কুলে রামায়ণকে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা, রবিবারের বদলে বৃহস্পতিবারকে ছুটির দিন ঘোষণা করা, ওই দিনকে জাতীয় হিন্দু দিবস হিসাবে ঘোষণা করার দাবিও তোলা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কর্ণাটক, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্য প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই যাত্রার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০১৯সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করতে এই যাত্রাকে ব্যবহার করা হবে।

পলিট ব্যুরো এদিন বলেছে, আর এস এস-বি জে পি’র সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্বের ভোট ব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ তীক্ষ্ণতর করার হাতিয়ার হিসাবে এই যাত্রাকে ব্যবহার করা হতে পারে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, হিংসা, নৈরাজ্য তৈরি হবার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে, সাম্প্রদায়িক শান্তির পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, নাগরিকদের জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে উদ্যোগ নিতে হবে। আর এস এস-বি জে পি’র সাম্প্রদায়িক সমাবেশের জঘন্য পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ, শান্তিকামী মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে পলিট ব্যুরো।

Featured Posts

Advertisement