পোস্তার উড়ালপুল
ভেঙে ফেলা হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৬ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

কলকাতা, ১৪ই ফেব্রুয়ারি — পোস্তার বিবেকানন্দ উড়ালপুল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলো। ওই উড়ালপুল যান চলাচলের উপযোগী নেই বলে রাজ্যের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট মেলার পরেই এই সিদ্ধান্ত। পোস্তার উড়ালপুল ভেঙে পড়ার রিপোর্ট গত সপ্তাহে জমা দেয় বিশেষজ্ঞ কমিটি। এর পরেই এই ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। বিবেকানন্দ উড়ালপুল ব্যবহারের অযোগ্য বলে এর আগে মত দিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্ট হাউস এবং আন্তর্জাতিক নির্মাণ সংস্থা রাইটস।

কমিটি পরিষ্কার জানায়, অত্যন্ত নিম্নমানের মালমশলা দিয়ে ওই উড়ালপুলটি তৈরি করা হচ্ছিল। এর জেরেই ওই উড়ালপুল ভেঙে পড়ে। আর তা সারিয়ে যান চলাচলের উপযুক্ত করা সম্ভব নয়। ওই বিশেষজ্ঞ কমিটিতে ছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, খড়্গপুর আই আই টি-র তিন অধ্যাপকসহ পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। কমিটি খতিয়ে দেখার শুরুতেই অবশ্য জানিয়ে দিয়েছিল, ২০১৭সালের পর ভারী গাড়ি বহনের ক্ষমতা আর থাকবে না পোস্তার উড়ালপুলের। খড়্গপুর আই আই টি এবং পূর্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে উঠে এসেছিল একাধিক প্রশ্ন। পোস্তার বিবেকানন্দ উড়ালপুলের আশেপাশে রয়েছে প্রচুর বাড়ি ও দোকান। এখন ভাঙার কথা বিশেষজ্ঞ কমিটি বললেও তা করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে। ঘনবসতি এলাকার ক্ষেত্রে কী করে ওই উড়ালপুল ভাঙা যাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে তা না করলেও নয়। কারণ নাকি জরাজীর্ণ হয়ে চলেছে উড়ালপুলের স্তম্ভগুলো। দেখা গিয়েছে, আড়াআড়ি স্তম্ভদুটি থেকে অনেকটা বেরিয়ে গিয়েছে পিয়ার ক্যাপ। এমনকি অধিকাংশ পিয়ার ক্যাপের ঢাকাও নেই। আর ওই ফাঁক গলে পিয়ার ক্যাপে বাসা বাঁধছে পায়রা। পায়রার বিষ্ঠার অ্যাসিডে একটু একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছে লোহার কাঠামো। উড়ালপুলের বহু বোল্ট ইতিমধ্যে ক্ষয়ে গর্ত হয়ে গিয়েছে। এমনকি ঝুরঝুরে কাঠের মতো হয়ে গিয়েছে উড়ালপুলের লোহার খাঁচা। তাই তাড়াতাড়ি না ভেঙেও উপায় নেই। যেকোন মুহূর্তে তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর ওই বিপজ্জনক উড়ালপুলের নিচ দিয়ে প্রত্যহ চলছে জনস্রোত। ভয় উপেক্ষা করেই চলছে ছোট গাড়ি আর অটো।

এক বছর পার হয়ে যাওয়ার পর বিশেষজ্ঞ কমিটি রিপোর্টে জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব তা ভেঙে ফেলাই উচিত। গত ২০১৬ সালের ৩১শে মার্চ নির্মীয়মাণ বিবেকানন্দ উড়ালপুলটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ওই ঘটনায় ২৭জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন শতাধিক। গিরিশ পার্ক থেকে পোস্তাগামী উড়ালপুলের বাঁদিকের অংশটি ভেঙে পড়েছিল। আগের দিন রাতেই ঢালাই করা হয়েছিল ভেঙে পড়া অংশটি। পরের দিনই গণেশ টকিজ মোড়ের কাছে পিলারের ওপর অংশটি ভেঙে পড়ে। তৃণমূলের দাপুটে নেতা সঞ্জয় বক্সির ভাই রজত বক্সি ওই উড়ালপুল তৈরিতে ঠিকাদারি নেওয়ার পাশাপাশি উড়ালপুল নিয়ে শাসকদলের একাধিক দুর্নীতি সামনে চলে আসতে থাকায় দুর্ঘটনা চাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে প্রশাসন। এত বড় ঘটনার পরে পুলিশ নির্মাণের ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থার অধিকর্তাদের গ্রেপ্তার করলেও পরে তাঁরা জামিন পেয়ে যান।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement