পি এন বি-তে জালিয়াতিতে
উধাও ১১হাজার কোটি টাকা

সংবাদসংস্থা

মু্ম্বাই ও নয়াদিল্লি, ১৪ই ফেব্রুয়ারি — পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের একটি শাখাতে জালিয়াতিতে লোপাট হয়ে গেছে ১১হাজার ৪০০কোটি টাকা। মাত্র কয়েকজন গ্রাহক ব্যাঙ্কে যোগসাজশের মাধমে এই বিপুল টাকা লোপাট করেছেন বলে জানা গেছে। এই গ্রাহকের মধ্যে কোটিপতি গয়না কারবারি রয়েছেন বলে খবর। তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জালিয়াত কারবারিদের নাম প্রকাশ করেনি। উল্লেখ করা যেতে পারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ইতিহাসে এরকম বড় ধরনের জালিয়াতি কম হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এনিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সি বি আই-তে অভিযোগ দায়ের করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। যে পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়েছে তা গত বছরে পাঞ্জাব ন্যশনাল ব্যাঙ্কের আয়ের প্রায় ৮গুন। বর্তমানে প্রতিদিনই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। বড় কর্পোরেট হলো বেশির ভাগ অনাদায়ী ঋণ খেলাপি। এবারে তার সঙ্গে জালিয়াতি করেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের টাকা লোপাটে নাম উঠে এলো কোটিপতি কারবারিদের। এই জালিয়াতিও ঋণের উপর ভিত্তি করেই। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে এই জালিয়াতিতে আরও তিনটি ব্যাঙ্কের নাম জড়িয়েছে। তার মধ্যে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, একটি বেসরকারি বিদেশি ব্যাঙ্ক।

ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইতে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের একটি শাখাতে এই ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক হীরে কারবারি নিরভ মোদী ও গয়না শিল্প সংস্থা গীতাঞ্জলির মালিক মেহুল চোসকির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে সি বি আই তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, গীতাঞ্জলি নামে গয়নার দোকানের চেইন রয়েছে চোসকির। অন্যদিকে নিরভ মোদীর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে গহনা কারবারে নাম আছে। বেলজিয়ামের হীরা কারবারি হিসাবে তাঁর পরিচিতি। ব্যাঙ্কের অভিযোগ মতো নিরভ মোদীর বিরুদ্ধে ২৮০কোটি টাকার জালিয়াতি নিয়ে গত মাসে তদন্ত শুরু করেছিল সি বি আই। তার মাঝে মঙ্গলবার ব্যাঙ্ক সি বি আই-কে জানায় এই দুই গয়না কারবারির বিরুদ্ধে মোট ১১হাজার ৪০০ কোটি টাকার জালিয়াতি তারা ধরেছে। ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে জানিয়ে দিয়েছে তাদের লেনদেনে এই কারবারিদের বেশ কিছু বেআইনি লেনদেন ধরা পড়েছে। এই অভিযোগে জানা গেছে বিদেশে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এই বেআইনি লেনদেন হয়। এতে আরও তিনটি ব্যাঙ্ক এই বেআইনি লেনদেনে জড়িয়েছে বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে সি বি আই পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কসহ ১২টি আর্থিক সংস্থার ৬হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রার বেআইনি লেনদেন নিয়ে তদন্ত করছে। তার মধ্যে ফের এই জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় এই তদন্ত সি বি আইর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাঙ্ক সি বি আই-কে জালিয়াতির যে অভিযোগ জানিয়েছে তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, কয়েকজনের ফায়দা করে দিতে ভিতরে যোগসাজশের মধ্যে দিয়ে কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে অগ্রিম বা ঋণ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কসূত্রে জানা গেছে, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে অগ্রিম বা ঋণ বাবদ অর্থ নেয় কারবারি। একই সঙ্গে সেই ব্যাঙ্কের অনুমতি চিঠি (লেটার অব আন্ডারটেকিং) সংগ্রহ করে। তার ভিত্তিতে বিদেশে ব্যাঙ্ক থেকে অগ্রিম হিসাবে টাকা তুলেছে অভিযুক্ত গহনা কারবারি। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের এই তদন্তে বিদেশি ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। গহনা কারবারি মোদীর গহনার দোকান আছে হঙকঙ, দুবাই, নিউইয়র্কসহ পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে। এদিকে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের অনুমতি চিঠির মাধ্যমে অন্য ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল ঋণ নেয় সংস্থা। ২০১০ সাল থেকে এইভাবে ঋণ নিতে থাকে মোদীর সংস্থা। সেই ঋণ ফেরত না আসায় এতে জালিয়াতির বিষয় স্পষ্ট হয়। এবছর ২৫শে জানুয়ারি থেকে এই ঋণ ফেরতের কথা ছিল। তা ফেরত না আসায় সি বি আই জালিয়াতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এদিকে সেই চিঠির ভিত্তিতে অন্য ব্যাঙ্ক যারা ঋণ দিয়েছে তারা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কাছে তা ফেরতের দাবি জানায়। তাতেই এই বিপুল ঋণ নিয়ে জালিয়াতি ধরতে পারে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। তবে অন্যদের ঋণ ফেরতের দাবি খারিজ করেছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। জানা গেছে বিদেশে ব্যাঙ্ক থেকে সেই চিঠির ভিত্তিতে ২হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে মোদীর সংস্থা। সেই ব্যাঙ্ক জানিয়েছে চিঠির উপর ভিত্তি করেই ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঐ ঋণের টাকা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক না মেটালে তারা আইনের আশ্রয় নেবে বলে হুমকি দিয়েছে। এছাড়া আরও দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকেও একই ভাবে ঋণ তুলেছে সংস্থা। তারাও এই ঋণ আদায়ে মামলা করার হুমকি দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েই এই জালিয়াতি নিয়ে সি বি আই-তে অভিযোগ জানিয়েছে পি এন বি।

Featured Posts

Advertisement