পদত্যাগ চান বিরোধীরা
দুর্নীতিতে অভিযুক্ত
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী

সংবাদসংস্থা

জেরুজালেম, ১৪ই ফেব্রুয়ারি — দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিবি’, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

দুর্নীতির দুটি পৃথক মামলায় নেতানিয়াহুকে ‘অভিযুক্ত’ করতে ‘যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ’ রয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইজরায়েলি পুলিশ। উৎকোচ, প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের কারণে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাঁর সরে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। ইতিমধ্যেই বিরোধীরা তুলেছেন তাঁর পদত্যাগের দাবি। যথারীতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘একপেশে, সুইস চিজের মতো পুরোটাই ফাঁপা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নেতানিয়াহু। জানিয়েছেন পদত্যাগ করছি না।

সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইজরায়েলি পুলিশের বিবৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন বিদেশদপ্তরের মুখপাত্র হিথার নাউয়ার্ট বলেছেন, ‘একমাত্র যে বিষয়টা আমি এ সম্পর্কে বলতে পারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুবই দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে, শুধু প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেই নয়, ইজরায়েলি সরকারের সঙ্গেও। আমরা নিশ্চিতভাবেই বিষয়টি নিয়ে অবগত, তবে আমরা একে ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করি।’

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিপক্ষ এম কে লাপিদ, যিনি দুর্নীতির সেই সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন এবং তদন্তের সময় তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের জন্য যাঁকে ডাকা পর্যন্ত হয়েছিল, সেই লাপিদ চেয়েছেন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ। ‘প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য যদি আইনের প্রয়োজন না হয়, যার বিরুদ্ধে এমন সাংঘাতিক অভিযোগ উঠেছে, যার অধিকাংশই তিনি অস্বীকার করতে পারছেন না, তিনি কখনোই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইজরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন না।’

যে দুটি পৃথক মামলায় নেতানিয়াহু সন্দেহভাজন, সেগুলি মামলা ১০০০ এবং মামলা ২০০০ নামে পরিচিত। প্রথম মামলায়, ২০০৭ থেকে ২০১৬’র মধ্যে নেতানিয়াহু শ্যাম্পেন, সিগার, অলঙ্কারসহ ২,৮০,০০০ ডলার ‘উপহার’ নিয়েছেন। এই মামলায়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইজরায়েলি বিলিওনেয়ার ও হলিউড মুঘল আরনন মিলচ্যানের সম্পর্ককে জোর দিয়েছে ইজরায়েলি পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, এই ‘উপহারের’ বিনিময়ে অর্থমন্ত্রীর বাধা সত্ত্বেও মিলচ্যানকে কর ছাড়ের সুযোগ করে দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। যার আর্থিক ফায়দা তুলেছিলেন হলিউডের নির্মাতা। পুলিশ জানিয়েছে, মিলচ্যানের বিরুদ্ধে উৎকোচ দেওয়ার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। পালটা মিলচ্যান দাবি করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। পুলিশ বলছে, অস্ট্রেলীয় ধনকুবের জেমস প্যাকারের কাছ থেকেও ‘উপহার’ গ্রহণেও অভিযুক্ত হতে পারেন নেতানিয়াহু। তারা বলছে, নেতানিয়াহুকে এসব বিষয়ে এ পর্যন্ত সাতবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারী অফিসারেরা।

দ্বিতীয় মামলাটি হলো, সরকারের সমালোচক ইয়েদিয়ত আহারোনত পত্রিকাকে নিজের পক্ষে খবর প্রচার করতে বলেন নেতানিয়াহু। বিনিময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ইয়েদিয়ত আহারোনত-কে সাহায্য করার আশ্বাস দেন তিনি। পুলিশ বলছে, পত্রিকাটির সম্পাদকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হবে।

নেতানিয়াহু যতই দাবি করুক ‘জোট স্থিতিশীল, আমি এবং কেউই চাইছি না নতুন করে নির্বাচন’, তবে ইজরায়েলি পত্রিকা হার্তজের ব্যাখ্যা, ‘নেতানিয়াহু এখন দুর্বল, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তাঁর ভবিষ্যৎ এবং তা বিলক্ষণ জানেন তাঁর সঙ্গীরা।’

আল-জাজারি জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর জোটসঙ্গীদের প্রতিক্রিয়ার উপরই নির্ভর করছে তাঁর ভবিষ্যৎ। নিজের লিকুইদ পার্টি তাঁর সঙ্গেই রয়েছে, তবে বিরোধীরা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে একজোট। নজর করার মতো ঘটনা হলো দুই মন্ত্রীর দুরকম বক্তব্য। অর্থমন্ত্রী মোশে কাহলোন বলেছেন, এটা এখন অ্যাটর্নি জেনারেলের উপর নির্ভর করছে, আগাম কিছু এনিয়ে বলা ঠিক হবে না। শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেত বলেছেন, ইজরায়েলি নেতাদের প্রত্যাশার মানে নেই নেতানিয়াহু।

ইজরায়েলি সংসদে প্যালেস্তিনীয় রাজনৈতিক দলগুলির ব্লক জয়েন্ট লিস্টের প্রধান মঙ্গলবার এক টুইটে বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘দুর্নীতিগ্রস্ত, বিপজ্জনক— ওর এখন ঘরে ফেরা উচিত।’

পুলিশ সমস্ত তথ্যপ্রমাণ তুলে দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের হাতে, যিনি এখন সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করা হবে, কি না। খুব শীঘ্রই এই সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আগের প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে ২০১২-তে অভিযুক্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর ছবছর জেল হয়েছিল।

Featured Posts

Advertisement