কুঁদঘাট থেকে নিখোঁজদের
সন্ধান মিলল বখতিয়ারপুরে

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৪ই ফেব্রুয়ারি— অবশেষে উৎকণ্ঠার অবসান হলো। কুঁদঘাট থেকে নিখোঁজ কিশোর-কিশোরীদের সন্ধান মিলল বিহারে। নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরের বাড়িতেই বাকিরা আশ্রয় নিয়েছিল বলে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ জানতে পেরেছে। সোমবার শিয়ালদহ থেকে বাড়ি ফিরে আসা কিশোরের দেওয়া সূত্র ধরেই বিহারের বখতিয়ারপুরে বাকি নিখোঁজদের সন্ধান মিলেছে। বুধবার বিহারে গিয়ে নিখোঁজ পাঁচ কিশোর-কিশোরীকে নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে রিজেন্ট পার্ক পুলিশের একটি দল। খুব তাড়াতাড়ি তাদের কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

কুঁদঘাটের কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজ রহস্যের কিনারা করা গেল। গত ১১ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার বিকালে খেলতে বেরিয়ে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায় কুঁদঘাটের নতুনপল্লির ছয় কিশোর-কিশোরী। রাতভর খোঁজাখুঁজি করে তাদের কোনও সন্ধান না মেলায় ওই দিন রাতে রিজেন্ট পার্ক থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করে পরিবারের লোকজন। অভিভাবকরা জানিয়েছিলেন, একসঙ্গে তারা খেলতে বেরিয়ে আর কেউই বাড়িতে ফেরেনি। এরই মধ্যে সোমবার সকালে ফিরে আসে ১৬ বছরের এক কিশোর। ওই কিশোরের কাছে পুলিশ কিছুটা তথ্য পায়।

ওই কিশোর জানায়, ঘটনার দিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে রিজেন্ট পার্কের ইটখোলা এলাকায় তারা জড়ো হয়েছিল। প্রত্যেকেই বাড়ি থেকে ব্যাগপত্র গুছিয়ে এনেছিল অন্যত্র চলে যাবে বলে। কারণ বাবা-মায়ের বকুনি তাঁদের কাছে নাকি অসহ্য হয়ে উঠেছিল। তারা ঠিক করেছিল, বর্ধমানে যাবে। কিন্তু শিয়ালদহ স্টেশন থেকেই একজন বাড়ির জন্য মন খারাপ লাগায় ফিরে আসে। আর বাকিরা চলে যায়।

ফিরে আসা কিশোরের কাছে ওই খবর শোনার পর আরও উৎকন্ঠা বেড়ে গিয়েছিল বাকি অভিভাবকদের। ছেলে-মেয়েরা কীভাবে আছে, তা ভেবে তাঁরা রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। ফিরে আসা কিশোরই পুলিশের কাছে একমাত্র তথ্যসূত্র হওয়ায় তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। ওই কিশোরই জানায়, নিখোঁজ এক বন্ধুর মামার বাড়ি বিহারে বখতিয়ারপুরে। সেখানে হয়ত তারা গিয়েছে।

ওই কিশোরের কথাতেই কার্যত বাকিদের খোঁজ মিলল। রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ বিহার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সত্যতা জানার পরেই বখতিয়ারপুরের উদ্দেশে রওনা হয়ে যায়। এরপর বুধবার নিখোঁজ দুই কিশোরী আর তিন কিশোরকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে কলকাতা ফেরার তোড়জোর শুরু করেছে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ।

বকাবকির জেরে বাড়ি থেকে হঠাৎ এইভাবে ছেলে-মেয়েদের চলে যাওয়াটা মহানগরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেনি। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বাড়িতে তাঁদের সামান্য বকাবকি করলেও এমন কিছু অত্যাচার করা হতো না যে, তাদের বাড়ি ছাড়তে হবে। কিন্তু পরদিন বাড়ি ফিরে আসা কিশোর পুলিশ আধিকারিকদের পরিষ্কার বলেছে, বকাবকির জেরেই তারা বাড়ি ছেড়েছিল।

পুলিশ আধিকারিকদের একটি বিষয়ে খটকা লেগেছে। তা অবশ্য প্রকাশ্যে পুলিশ বলতেও ছাড়েনি। দুই কিশোরী আর চার কিশোর বাড়ি থেকে ব্যাগে জিনিসপত্র ভরে বেমালুম বেরিয়ে গেল, আর অভিভাবকদের কেউ তা জানতে পারলেন না! তাহলে সন্তানের প্রতি দেখাশোনায় তাঁদের ঘাটতি পরিষ্কার।

Featured Posts

Advertisement