হিগুইনের জন্য প্রশংসা থাকল
থাকল সমালোচনাও
পিছিয়ে গিয়েও ফিরল টটেনহ্যাম

সংবাদসংস্থা   ১৫ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

তুরিন, ১৪ই ফেব্রুয়ারি — এক বছর আগের ঘটনা। তুরিনে জুভেন্টাসের রক্ষণ ভাঙতে নাভিশ্বাস উঠেছিল। বার্সেলোনার বিদায় পাকা হয়েছিল এই তুরিনেই। বছর ঘুরেছে। তুরিন থেকেই পথ বন্ধুর হলো জুভেন্টাসের। বিদায়ের রাস্তা খুলেছে বলা যায় না। ফুটবলে অনেক কিছুই সম্ভব!

যেমনটা হলো এদিন। টটেনহ্যাম হটস্পার মুঠো থেকে নিশ্চিত জয় কেড়ে নিল। মাসিমিলানো আলেগ্রির বায়ানকোনেরির জন্য পড়ে থাকল ২-২ ড্র। প্রথম পর্বের ম্যাচে জুভেন্টাসের তারকা যদি কেউ হয়ে থাকেন তাহলে তিনি গঞ্জালো হিগুইন। মৌরিসিও পোচেটিনোর হটস্পার তখনও খেলা শুরু করতেই পারেননি। বলের সঙ্গে পায়ের প্রথম স্পর্শেই গোল উপহার দিলেন আর্জেন্টিনার তারকা। দশ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল। সাদাকালো জুভেন্টাস গ্যালারি তখন গোলের আনন্দে বর্ণময়। দুই গোলের গৌরবের সঙ্গেই গঞ্জালো হিগুইনের জন্য থাকবে সমালোচনাও। যেভাবে ছড়িয়ে আছে ২০১৪ বিশ্বকাপের হতাশা। আর্জেন্টিনা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারতো! যদি বক্সের মাথা থেকে গোল করতে পারতেন হিগুইন। বা শেষ তিন বছরে দুটো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল! হিগুইন যদি একটা গোল করতে পারতেন তাহলে ইতিহাস হয়তো অন্য হতো! প্রথমার্ধেই জয় নিশ্চিত করতে পারতো জুভেন্টাস। যদি ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয় পেনাল্টি করতে পারতেন! গোলের হ্যাটট্রিক করতে পারতেন যদি না স্পট কিক সোজা হুগো লরিসের জিম্মায় তুলে দিতেন।

টটেনহ্যাম শুরুতে অথৈ জলে পড়লেও ধীরে সুস্থে জাল গোটায়। খেলায় ফেরে। সময় নিয়ে। সিরি এ-তে চিয়েলিনি, মেধি বেনাটিয়াদের রক্ষণ ছিল দুর্ভেদ্য কিন্তু হ্যারি কেন বা ডেলে আল্লির আগ্রাসন মাঝেমাঝেই ফাটল ধরিয়েছে। ৩৫ মিনিটে এভাবেই ব্যবধান কমিয়ে আনেন হ্যারি কেন। তার আগেও গোল করতে পারতেন ব্রিটিশ স্ট্রাইকার। এরিকসেনের ক্রস থেকে হেড সোজা গিয়ে জমা পড়ে গিয়ানলুইগি বুঁফোর হাতে। চল্লিশের সীমানা পেরিয়ে যাওয়া বুঁফোর রিফ্লেক্সান কমেছে। কমেছে ঋজুতা। তবে অভিজ্ঞতা এসেছে। কিন্তু ভুল সবার ক্ষেত্রেই হয়। জুভেন্টাস রক্ষণকে অতিক্রম করে পাস বাড়ান ডেলে আল্লি। হ্যারি কেন দৌড় শুরু করলে সামনে বুঁফো ছাড়া আর কেউ ছিল না। প্রথমবারেই শরীর ছুঁড়ে বল ধরতে যান। বিফলে যায় চেষ্টা। আউটিংয়ের ভুলে আর কিছুই করার ছিল না। টটেনহ্যামের সমতা ফিরেছেও ফ্রি কিক থেকে। ৭২ মিনিটে এরিকসেনের ফ্রি কিক নেওয়ার আগেই হাত ফসকে ছুটে পালিয়েছিল মাটি ঘেঁষা শট। নজর এড়িয়ে যায়নি কারোর। বক্সের সামনে ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় হাওয়ায় বল সোয়ার্ভ করানোর বদলে নিচু শট নেন। বুঁফো কিছু বুঝে ওঠার আগে ডানদিকে ঝাঁপাতে গিয়েও, বাঁদিকে বল লক্ষ্য করে ডাইভ দেন। হাতে বল লাগলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও সমতায় ফিরে আসে টটেনহ্যাম।

অ্যাওয়ে ম্যাচে দুই গোল মানে জয়ের সমান। এবার ওয়েম্বলিতে খেলতে হবে জুভেন্টাসকে। রিয়াল মাদ্রিদ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড-এর আগে থরহরি হয়েছিল। জুভেন্টাসের জন্য কি অপেক্ষা করছে তার প্রমাণ মিলবে পরের লেগে। পিছিয়ে থেকেও সমতা ফেরানো সব কৃতিত্ব ফুটবলারদেরই দিয়েছেন টটেনহ্যাম কোচ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement