সব্যসাচীর তোলাবাজির অভিযোগে
নীরব তৃণমূল, পুলিশ প্রশাসনও

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৫ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

কলকাতা, ১৪ই ফেব্রুয়ারি— তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটেছে। সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে কোটি টাকা তোলাবাজির ঘটনায় বিধাননগরের তৃণমূল নেতারাও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। ভোট প্রচারে ত্রিপুরায় থাকা সব্যসাচী দত্ত মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে অভিযোগকারী মধুসূদন চক্রবর্তীর দাবি, সব্যসাচী দত্ত যে টাকা চেয়ে হুমকি দিয়েছেন তা তো ফোন রেকর্ডিং’য়ে স্পষ্ট। আমি ও আমার পরিবার প্রাণনাশের আশঙ্কায় আছি।

যদিও এর মাঝেই বুধবার আবার বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের সেই তোলাবাজির কাণ্ডের নতুন একটি অডিও রেকর্ডিং সামনে আসে। সল্টলেকের বাসিন্দা জমির-বাড়ির কারবারি মধুসূদন চক্রবর্তী মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, মেয়র ত্রিপুরার ভোটের জন্য যে এক কোটি টাকা তোলা চেয়েছিল তা দেওয়ার সময়সীমা ছিল ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা। যদিও তিনি সেই টাকা দেননি। এরপর ১৩ই ফেব্রুয়ারি সকালে ত্রিপুরা থেকে ফোন করে আবার সেই টাকার তাগাদা দেন সব্যসাচী দত্ত। দুপুর বারোটায় সময় মধুসুদন চক্রবর্তী এরপর নিজেই ফোন করে জানান যে তিনি এক কোটি টাকা দিতে পারবেন না। আর তারপরেই ফোনে সব্যসাচী দত্ত কলকাতায় ফিরে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি করেন মধুসূদন চক্রবর্তী। সেই কথোপকথনের নতুন অডিও রেকর্ডিও’ও সামনে এসেছে।

সেই অডিও ক্লিপিংসে শোনা গিয়েছে মধুসূদন চক্রবর্তী সরাসরি সব্যসাচী দত্তকে জানান, আমার কাছে ১কোটি টাকা নেই দাদা, আমি কোথা থেকে পাবো। আমি পায়ের তলাতেও থাকতে রাজি আছি। প্রত্যুত্তরে সব্যসাচী দত্ত বলেন, ঠিক আছে ছেড়ে দিন। লোকের টাকা আপনি মেরেছেন তো। আমি কলকাতায় ফিরে যাই তারপরে দেখছি কী করতে পারি আপনার।

সব্যসাচী দত্তের এই হুমকি বার্তাতেই তিনি শঙ্কিত বলে জানান মধুসূদন চক্রবর্তী। ইতিমধ্যে বিধাননগর উত্তর থানায় গোটা ঘটনা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও পুলিশের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। এব্যাপারে বিধাননগর উত্তর থানার তরফে কোনরকম প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই গোটা ঘটনাটাই বেশ রহস্যজনক। অভিযোগকারী ব্যক্তিও শাসক তৃণমূলের একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত। একটি মামলায় তিনি জেলও খেটেছিলেন। সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে ভালোই যোগাযোগ ছিল। সেই ব্যক্তি কেন এভাবে রীতিমত প্রেস ক্লাবে বসে প্রভাবশালী সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে সাংবাদিক বৈঠক করলেন? তাহলে কি শাসক তৃণমূলেরই একটি অংশের মদত রয়েছে? সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তৃণমূলের একটি অংশের মদত রয়েছে। যদিও তোলাবাজির হুমকি ও অভিযোগ যে ভিত্তিহীন তা দাবি করছেন না কেউই।

এমনকি যেভাবে ১কোটি টাকা তোলা চাওয়ার হুমকি ফোনে মুখ্যমন্ত্রীকে টেনে এনেছেন সব্যসাচী দত্ত তাতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বও ক্ষুব্ধ এই বিধায়কের ওপরে। তাঁর তোলাবাজি নিয়ে কোনও জায়গাতেই অভিযোগ জানিয়ে যে কিছু হবে না তা বোঝাতে সব্যসাচী দত্ত রীতিমত হুমকির সুরেই মদুসূদন চক্রবর্তীকে ফোনে বলেন, ‘আপনি তার জন্য যার কাছে খুশি যেতে পারেন। আপনি মমতা ব্যানার্জিকে বললেও আমার কিছু হবে না কেন না তিনি জানেন ভালো করে’। অর্থাৎ খোদ দলীয় বিধায়ক স্বীকার করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েই ত্রিপুরা ভোটের জন্য ১কোটি টাকা তোলা চাওয়া হচ্ছে এক ব্যবসায়ীর কাছে। ত্রিপুরার ভোটের নাম করে ১কোটি টাকা চাওয়ার আগেই যদিও ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই আরও ২লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তিনি। ত্রিপুরায় তৃণমূলের ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন ব্যানারের জন্যই এই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মধুসুদন চক্রবর্তীর। শুধু তৃণমূল নয় ত্রিপুরায় মমতা ব্যানার্জির জোটসঙ্গী আই এন পি টি-র ফ্ল্যাগ, ফেস্টুনও এই তোলাবাজির টাকায় ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে অডিও ক্লিপিংস থেকে।

Featured Posts

Advertisement