গজ-তুলো নেই, দুর্ঘটনায় আহতকে
ফেরৎ পাঠালো জলপাইগুড়ি
জেলা সদর হাসপাতাল

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই মার্চ , ২০১৮

জলপাইগুড়ি, ১২ই মার্চ— গজ নেই, তুলোও নেই এই অজুহাতে জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতাল থেকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। রবিবার রাতে দুর্ঘটনায় আহত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালের এমারজেন্সিতে নিয়ে আসা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, এমারজেন্সিতে তুলো, গজ কিছুই নেই। তাই প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও দেওয়া যাবে না। আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

রবিবার রাতে জলপাইগুড়ি শহরের মার্চেন্ট রোডে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত হন। টোটোচালক ও সহৃদয় কিছু ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের এমারজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তুলো, গজ কিছুই নেই। আপনারা সুপার স্পেশ‌্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। বারবার ড্রেসিং করার অনুরোধ জানানো হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এগিয়ে আসেননি। আহত ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন দীর্ঘক্ষণ। অভিযোগ, তাঁকে হাসপাতালের কোন কর্মীই স্পর্শ করেননি। স্ট্রেচার আনা হলেও আহতকে টোটো থেকে নামাতেও দেওয়া হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, আমাদের কিছুই করার নেই। এখানে পরিষেবা বন্ধ আছে। বড় বাড়িতেই যেতে হবে। আহতকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা ব্যক্তিরা এমনও জানান তুলো,গজ তাঁরাই এনে দিচ্ছেন। তাঁরা অনুরোধ করেন, অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। সেই প্রস্তাবেও রাজি হননি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

কয়েকমাস আগেই কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে সদর হাসপাতালের এমারজেন্সি ঢেলে সাজানো হয়েছে। সেখানে ১০টি বেডও রাখা আছে। কেন আহত ব্যক্তি জায়গা পেলেন না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, জেলা সদর হাসপাতালের এমারজেন্সিতে কেন ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে না? রোগীকে কেন কয়েক কিমি দূরে সুপার স্পেশ‌্যালিটি হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যেতে হবে। এমারজেন্সি বোর্ড লাগানোর অর্থ কি?

হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, অভিযোগ উঠতেই পারে। রবিবার একজন রোগীকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানকার সার্জারি বিভাগ সুপার স্পেশ‌্যালিটি হাসপাতালে চলে গেছে। জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে কোন সেটআপ আর নেই। কেউ ভুলবশত এলে তাঁকে ডাক্তার দেখেন বলে জানান সুপার।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement