জঙ্গলের অনিশ্চিত জীবন থেকে
শিক্ষার আঙিনায় দুই বীরহোড়
কন্যা মাধ্যমিক দিচ্ছে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই মার্চ , ২০১৮

পুরুলিয়া, ১২ই মার্চ— ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফসল দুই বোন জানকি শিকারি ও রতনি শিকারি। প্রাচীন জনজাতি বীরহোড় সম্প্রদায়ের এই দুই কিশোরী এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। অযোধ্যা পাহাড়ের ভূপতি পল্লির ৩৪০জন বসবাসকারী বীরহোড় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রথম কোনও মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল। এদের কথা ভেবেই জেলার প্রাণপুরুষ অধুনা প্রয়াত নকুল মাহাতো বাগমুণ্ডির ধসকা-তে গড়ে তুলেছিলেন পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আবাসিক বিদ্যালয়।

বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই বীরহোড়দের সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসার এক ধারাবাহিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল। জঙ্গল থেকে লোকালয়ে এনে বসতি করে দেওয়া হয়েছিল। মানভূম বীরহোড় আকাদেমি-র সম্পাদক চুনু শিকারি-র বক্তব্য, জঙ্গলের অনিশ্চিত জীবন থেকে আলোর উত্তরণের মাধ্যমই হলো শিক্ষা।

বাগমুণ্ডির ভূপতি পল্লির বাসিন্দা ভোলানাথ শিকারি ও তুরী শিকারি-র তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে জানকি ও রতনি এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। ছোট ছেলে পবন শিকারি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। বাবা ও মা যথাক্রমে অষ্টম ও চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। দুই মেয়ে জানকি ও রতনি গ্রামেরই ভূপতি পল্লি আপার প্রাইমারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। তারপর ধসকা-তে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আবাসিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে দুই বোন। সিট পড়েছে বলরামপুরের লালিমতী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষা দিয়ে খুশি ২ বোনই। কদিন আগে মা তুরী শিকারি হস্টেলে এসে মেয়েদের সাথে দেখা করে বলে গিয়েছিল ভালো করে পরীক্ষা দিতে। জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা বাবাও খুশি মেয়েরা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে বলে। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে এসে জানকি জানিয়েছে— এখানেই থামতে চায় না ওরা দুই বোন ভূপতি পল্লির পঞ্চম বিরহোড় মেয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়াতে খুশি গ্রামেরও মানুষও।

Featured Posts

Advertisement