জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল
বন্ধ স্ত্রী রোগ চিকিৎসার আউটডোর

নিজস্ব সংবাদদাতা

জলপাইগুড়ি, ১২ই মার্চ — আগাম নোটিস না দিয়েই সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার বন্ধ করে দেওয়া হলো জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালের স্ত্রী রোগ চিকিৎসার আউটডোর। আউটডোর বন্ধের আগাম নোটিস না থাকায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে ফিরে গেলেন। জেলা সদর হাসপাতালের ই এন টি এবং অর্থোপেডিক বিভাগের মোট দুজন চিকিৎসককে বদলি করার ফলে ওই দুই বিভাগের আউটডোরে স্বাস্থ্য পরিষেবা সপ্তাহে ছয় দিনের পরিবর্তে তিন কি চার দিন করে দেওয়া হয়েছে।। এই বিষয়ে হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। কোনও চিকিৎসক ছুটিতে থাকলে আউটডোর বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এই হাসপাতালে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন ৫ জন। এই ৫জন সপ্তাহে একদিন করে আউটডোরে রোগী দেখেন। জলপাইগুড়ি শহর, শহরতলি ছাড়াও রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ, হলদিবাড়ি এলাকার বাসিন্দারাও জেলা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রতিদিন স্ত্রী রোগের চিকিৎসার জন্য এই আউটডোরে প্রায় দেড়শো রোগী আসেন। এদিনও আউটডোরের ১১নং ঘরে স্ত্রী রোগের চিকিৎসা করাতে ভিড় জমান শতাধিক রোগী। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও ডাক্তার না আসায় খোঁজ করতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ১১নং ঘরের দরজায় ‘আজকে ডাক্তার বসিবে না’ বলে নোটিস ঝোলানো রয়েছে। বাধ্য হয়ে রোগীরা ফিরে যান।

মণ্ডলঘাটের বাসিন্দা তাপসী মণ্ডল জানান, গত মাসের ২২তারিখে আউটডোরে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছিলেন। মাঝে একদিন ঘুরে যান। ডাক্তার না থাকায় দেখাতে পারেননি। সোমবারও এসে দেখেন ১১নং ঘরের দরজায় ওই নোটিস ঝোলানো রয়েছে। এদিন মেয়েকে সাথে নিয়ে আসেন জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা সুশান্ত সরকার। তিনিও ফিরে যান। ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাবার কারণে রোগিণী ও পরিজন হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

Featured Posts

Advertisement