সামনে বিপদ—জোর লড়াই
জোট বাঁধো তৈরি হও

মইনুল হাসান   ১৩ই মার্চ , ২০১৮

দেশের সামনে অভূতপূর্ব বিপদ। দেশ আর এস এস-র খপ্পরে পড়েছে। লড়াই তার বিরুদ্ধেই। সে সম্পর্কেই এই লেখা।

বিগত ৩/৪ বছরে আমাদের দেশে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লক্ষণীয় পরিবর্তন হয়েছে। এই সময়ে নয়া উদারনীতির আক্রমণ শ্রম‍‌জীবী মানুষের উপর তীব্রতম হয়েছে। আর এস এস-র হিন্দুত্ব কর্মসূচিকে তীব্র গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বি জে পি সরকার। তারই জাঁতাকালে পড়ে সবদিক দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো আক্রান্ত—তার সঙ্গে রয়েছে সংখ্যালঘু মুসলমান ও দলিতদের উপর ভয়াবহ আক্রমণ। এই সময়েই বি জে পি সরকার সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রধান আমেরিকার জোটসঙ্গী হিসাবে পরিগণিত হওয়ার ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছে। সংসদীয় ব্যবস্থাকে পাত্তা না দিয়ে, এক অর্থে ছোট করে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংসদীয় নিয়মকানুনকে অবজ্ঞা করে নিজেদের স্বৈরতান্ত্রিক রূপের প্রকাশ ঘটাচ্ছে বি জে পি সরকার। এই সরকারের ৪ বছর পূর্ণ হতে এখনও কিছুটা বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতের সামনে যে যে বিপদ তারা নামিয়ে এনেছে এবং যে সমস্ত জনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেছে তা অভূতপূর্ব।

সেজন্য একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অন্য যে কোনও সময়ের চাইতে এই সময়ের বিপদটি একেবারে আলাদা। পূর্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই আমরা বামপন্থীরা করেছি। বহু রাজনৈতিক দল, ব্যক্তিবর্গ এই লড়াই‍‌তে সাথি হয়েছেন। অসংখ্য মানুষ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এই লড়াইতে যোগ দিয়েছেন। লড়াইতে মানুষের জয় হয়েছে। স্বৈরতন্ত্র পরাজিত হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার লড়াই দেশে সব সময়ই জোরদার থেকেছে। একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই লড়াই চালানো গেছে। অনেক সমস্যা পেরিয়েও শেষ পর্যন্ত সম্প্রীতি বজায় থেকেছে। ধর্মীয় মেরুকরণের রাস্তা বন্ধ হয়েছে। এখনকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অতীতের কোনও ঘটনার সঙ্গে সাযুজ্য পাওয়া যাচ্ছে না। স্বৈরতন্ত্রের পদধ্বনি, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের হুংকার এবং ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য নোংরা সাম্প্রদায়িক তাস খেলা হচ্ছে। ভারতবাসীকে ধর্মের নামে পরিচিত হওয়ার দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আসলে একটা অন্ধকূপের দিকে এখন দেশের যাত্রা। এই হলো নয়া উদারবাদী নীতির অভিক্ষেপ, আর দক্ষিণপন্থীদের চিরায়ত কৌশল। এমনতর বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে পুরানো চিন্তাভাবনার ঝাড়াই বাছাই করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কার্যত সেই প্রয়োজনটা মেটানোই এখন বড় জরুরি। বামপন্থীদের অত্যন্ত সুচারুভাবে সেই কাজটা করতে হবে।

(২)

দেশের তিনটে ক্ষেত্রের দিকে প্রথমে তাকানো যাক। প্রথম — শ্রমজীবী মানুষ, দ্বিতীয় — কৃষি, তৃতীয় — কর্মসংস্থান। বিকাশের তত্ত্বের বোল তুলে মোদীজী সরকারে এলেন। ন্যূনতম মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা, সমকাজে সমমজুরি বেপাত্তা। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা, ব্যাঙ্ক, রেলের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বেসরকারিকরণের চেষ্টা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় ১০০ ভাগ বিদেশি বিনিয়োগের চেষ্টা, অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলি যেমন বিদ্যুৎ বিতরণ, জল বিতরণ, পরিবহণকে ব্যক্তি মালিকানায় দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা পাকা। দেশি বিদেশি পুঁজির নিকৃষ্ট দালালে যে সরকার পরিণত হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। মানুষের প্রাথমিক চাহিদা স্বাস্থ্য, জল, শিক্ষা, পরিবহণকে পণ্য হিসাবে দেখার পাঠ দিয়েছে নয়া উদারবাদী কৌশল। সেটাকেই আদর্শ বলে ধরেছে বি জে পি সরকার।

এখনও দেশের কর্মসংস্থানের বড় ভাণ্ডার কৃষি। সেখানে প্রায় কোনও বিনিয়োগ নেই। চাষের খরচ বেড়েছে, ঋণ পাওয়া দুঃসাধ্য, মহাজনদের পোয়াবারো, ফসলের দাম নেই। তারমধ্যে বি জে পি শাসিত রাজ্যগুলিতে পশু হত্যা বন্ধ। কৃষিজীবী মানুষের উপর আর একটা আঘাত। এমতাবস্থায় কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। যা আমাদের কাছে জাতীয় লজ্জা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষক সব রং ভুলে রাস্তায় নেমেছে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানে প্রায় দ্বিশতাধিক কৃষক সংগঠন এক ছাতার তলে এসে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষকবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দেশের গণআন্দোলনে এক উজ্জ্বল মাইলফলক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আগামী দিনের ভারতে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জন্য মঞ্চের পরিসর এমনতর চওড়া করার শিক্ষা দিচ্ছে কৃষক সমাজ। বামপন্থী আন্দোলনের কর্মীদের এই শিক্ষা গ্রহণ করে কাজে নেমে পড়ার সময় উপস্থিত হয়েছে।

প্রতি বছরে ২ কোটি বেকার যুবকের চাকরি কোথায়? প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনও জবাব নেই। চাকরি নেই—তার উপর চাকরি হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ চাকরিজীবী। সেন্টার ফর মনিটারিং ইন্ডিয়ান ইকনমির হিসাব মতে জানুয়ারি-এপ্রিল ২০১৭তে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০১৬-র তুলনায় ১৫ লক্ষ জন বেশি চাকরি হারিয়েছেন। নোটবন্দির ফলে শ্রমিকদের কাজে অংশগ্রহণ দারুণভাবে কমে গেছে। ২০১৭ সালের আর্থিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে ৩০ শতাংশ যুব, যাদের বয়স ১৫-২৯ বছর তারা না আছে কোনও চাকরিতে, না শিক্ষাক্ষেত্রে, না প্রশিক্ষণে। ভারতের মতো নবীন প্রজন্মের দেশে এটা একটা ভয়াবহ অবস্থা। সংগঠিত ক্ষেত্রে চাকরি কমছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রে চাকরিতে নিরাপত্তা ও মজুরির জন্য হাহাকার, ১০০ দিনের কাজে কার্যত নতুন বরাদ্দ নেই। সুতরাং নতুন চাকরির কোনও সন্ধান নেই। এই অবস্থাতে দেশ আজ চূড়ান্ত বৈষম্যের মধ্যে পড়েছে। জাতীয় নমুনা সমীক্ষা সংগঠনের মতে ১ শতাংশ ধনী ভারতীয় ২৮ শতাংশ দেশজ সম্পদের মালিক (২০১৬), ১৯৯১ সালে ছিল ১১ শতাংশ। সুতরাং মোদীজীর বিকাশ যে কেমন তা বোঝাই যাচ্ছে। তার সাথে একটার পর একটা জালিয়াত শিল্পপতি প্রকাশ হচ্ছে—যারা ব্যাঙ্ক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়ে বিদেশে পালিয়ে হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলছে। ধান্দার পুঁজিবাদের জবরদস্ত উপমা এখন ভারত।

(৩)

ইতিপূর্বে বলেছি দেশের বহুত্ববাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা নিষ্ঠুরভাবে আক্রান্ত। রামের নামে আর একটা রথযাত্রা শুরু হয়েছে। বাবরি মসজিদ নেই, ভাঙার প্রশ্ন নেই, এবার সেখানে মন্দির তৈরি করার পণ। দেশের গৃহমন্ত্রী তার উদ্বোধন করেছেন। রথের চাকাতে কত রক্ত মাখবে কেউ জানে না। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নন্দীভৃঙ্গীরা বলছেন, মুসলমানরা এদেশে থাকতে পারবে না। একটার পর একটা রাজ্যে স্কুলপাঠ্য ইতিহাস বই পালটানো হয়েছে। যেখানে মধ্যযুগের ইতিহাস নেই বললেই চলে। যতটুকু আছে (কয়েক ছত্রমাত্র) তা বিকৃত এবং যে কোনও পড়ুয়াকে উত্তেজিত করার পক্ষে যথেষ্ট। মুঘল আমলের সমস্ত স্মৃতিসৌধগুলিকে ভাঙার, নাম পালটাবার লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট হয়েছে। দেশের সেনাপ্রধান নির্ভয়ে আর এস এস কর্মীর মতো কথা বলছেন। কেউ একটা নিষেধ করছে না। বরং বাহবা দেবার লোকের অভাব হচ্ছে না।

বিগত ৪ বছর আর এস এস-এর পরিকল্পনা ছিল রাষ্ট্রের বিভিন্ন মূল মূল জায়গাতে তাদের মনোভাবাপন্ন মানুষদের বসানো। বেশির ভাগ রাজ্যপাল আর এস এস-এর প্রাক্তন (!) কর্মী। রাষ্ট্রপ‍‌তি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সবাই আর এস এস-এর প্রচারক। রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে এতজন আর এস এস-এর কর্মকর্তা থাকার ফলে সাম্প্রদায়িক কর্মসূচিকে তড়িৎগতিতে এগিয়ে ‍‌নিয়ে যাওয়া, বিভিন্ন সাংবিধানিক সংগঠনকে ভিতর থেকেই দুর্বল করে দেওয়া সহজ হচ্ছে। তাছাড়া দেশের বর্তমান সংবিধান পালটে ফেলার মতো ভয়ংকর চিন্তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আর এস এস।

প্রথম থেকেই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলির সাম্প্রদায়িকীকরণ করে ফেলা হয়েছে। ইউ জি সি, এন সি ই আর টি, আই সি এইচ আর-এর শীর্ষে আর এস এস-এর কর্তারা বসেছেন। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এখন নিয়োগ হচ্ছেন এভাবেই। শিক্ষক সংগঠন ও নির্বাচিত ছাত্র সংসদগুলি আক্রান্ত হচ্ছে। একটাই হেতু, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষা অঙ্গনে যা হবে সবই ‘ভারতমাতা’র জয়গান করে হবে। কোনও দ্বিমত শোনা হবে না। দেশের সংবিধান নয়, মনুস্মৃতিই উত্তম দাওয়াই বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার তথা আর এস এস প্রধান মোহন ভাগবতজী।

আর এস এস মনে করে দেশরক্ষা করতে পারে কেবল তাদের কর্মীরা। সীমান্তে সেনাপ্রহরা একেবারেই ফালতু। সেনারা ৬ মাসে যা করবে আর এস এস কর্মীরা ৩ দিনে তা করে ফেলবে। এই মনোভাব নিয়েই আর এস এস দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মী সংগ্রহ করছে — বড় বড় অস্ত্রশিবির পরিচালনা করছে। নতুন নতুন অস্ত্র শিক্ষা দিচ্ছে। প্রায় একটা সমান্তরাল সামরিকবাহিনী তৈরি করে ফেলেছে। গোরক্ষাবাহিনী নামে যে সংগঠনটি নিরীহ গোব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের উপর বিনা প্ররোচনায় আক্রমণ নামিয়ে এনেছে, খুন করতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি, সেটা তো সমান্তরালবাহিনীর নামান্তর। বি জে পি-আর এস এস পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলি প্রকাশ্যে গোরক্ষাবাহিনীর পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কোনও পু‍‌লিশি পদক্ষেপ হয়নি। এদের লক্ষ্য মুসলমান ও দলিতরা। অবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার প্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি ডারউইনও যে ঠিক নন এবং ভুল তা বলা হচ্ছে। পুরাণের কাহিনিগুলিকে ইতিহাস বলে চালানো হচ্ছে। মুসোলিনির ইতালির কথা অনেকে ভুলে যেতে পারেন কিন্তু হিটলারের জার্মানির কথা ভোলা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ কায়েম করার আগে এমনতর পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন হিটলার অথবা এভাবেই ফ্যাসিবাদ এসেছিল জার্মানিতে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল উগ্রজাতীয়তাবাদ। যা আর এস এস এদেশে চালিয়ে যাচ্ছে। মুখে দাড়ি রাখ‍‌লে, ফেজ টুপি পরলে, লম্বা ঝুলের পাঞ্জাবি পরলেও ‘দেশদ্রোহী’ বলা হচ্ছে। জুনাইদের খুন হওয়া তারই প্রমাণ।

তাছাড়া বহুত্ববাদের তীব্র কণ্ঠস্বর নরেন্দ্র দাভোলকার, গোবিন্দ পানসারে, এম এম কালবুর্গি, গৌরী লঙ্কেশকে খুন হতে হয়েছে। আর এস এস লোকেরা দায়ী এর জন্য। তারা অন্যমত সইতে পারে না। সঙ্ঘ পরিবার চায় ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে — এ নিয়ে বিতর্ক নেই।

(৪)

একদিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়া, জনবিরোধী অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি গ্রহণ, দেশের সাংবিধানিক নিয়মনীতিকে অবজ্ঞা করা, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা, অন্যদিকে বেকারি, দারিদ্র বৈষম্য সৃষ্টিকারী বি জে পি, যারা মূলত আর এস এস-র মূল নীতিগুলি দ্বারা পরিচালিত। সেই বি জে পি-ই দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ শ্রমজীবী মানুষের প্রধানতম শত্রু তা বলার কোনও অপেক্ষা রাখে না। শত্রুকে একা করে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করতে হবে। গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে হতে গিয়েও হয়নি। এন সি পি যদি কংগ্রেসের জোটে থাকতো তাহ‍‌লে বি জে পি হেরে যেত। অঙ্ক তাই বলছে।

পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের মাত্র ১৫ মাস বাকি। মাঝে কয়েকটি বড় বড় রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন আছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া উপনির্বাচনে বি জে পি-র ফলাফল সুখকর নয়। সমানে বি জে পি-র দেশ বিরোধী কার্যকলাপ চলছে। এক কথায় দেশ আর এস এস-এর খপ্পরে পড়েছে। পুরানো যে কোনও ঐক্য বা সমঝোতার মধ্যে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে।

বি জে পি কোনও সাধারণ বুর্জোয়া দল নয়। তার সঙ্গে যুক্ত আছে ফ্যাসিস্ত চরিত্র সম্পন্ন আর এস এস। এরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর নিজেদের হিন্দুত্ববাদী তত্ত্বকে যেভাবে কার্যকর করছে তা অন্য কোনও দল করেনি। অন্য বড় বুর্জোয়া দলগুলির সঙ্গে পার্থক্য এখানেই। আর পার্থক্যটি প্রতিনিয়ত প্রকট হয়ে উঠছে। সুতরাং বি জে পি-ই দেশের সামনে বড় বিপদ।

এই বিপদ মোকাবিলার জন্য সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্য গড়তে হবে, মানুষের বৃহত্তর অংশকে সাম্প্রদায়িকতার হুমকির বিরুদ্ধে টেনে আনতে হবে। শ্রেণি ও গণআন্দোলনকে জোরদার করতে হবে যাতে বিভিন্ন বুর্জোয়া দলের অনুগামীরা বামপন্থীদের দিকে আসতে পারে। সংসদের মধ্যে বি জে পি-র বিরুদ্ধে লড়াইকে কোনোমতেই খাটো করে দেখলে চলবে না। নির্দিষ্ট বিষয়সমূহে কংগ্রেসকে সঙ্গে‍‌ নিয়েই সংসদে (সঙ্গে অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দল) বি জে পি-র বিরুদ্ধাচরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে এই কাজে সফল হলে জনমানসে বিশাল ইতিবাচক প্রভাব আছে।

বিপদ অভূতপূর্ব। তত্ত্ব ও সহজ সত্যের মিশেল চাই। বিপদ রুখতে হবে — জোর লড়াই চাই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement