মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু
মাধ্যমিকের ইংরেজি পরীক্ষা
দেওয়া হলো না মেয়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই মার্চ , ২০১৮

রায়গঞ্জ, ১৩ই মার্চ—  মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে রাস্তা থেকেই বাড়ি চলে এল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ইংরেজি পরীক্ষা দেওয়া হলো না মেয়ের। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য রায়গঞ্জে। বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে আমগাছে মায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে রাস্তা থেকেই ঘুরে এল মেয়ে। মাধ্যমিকে ইংরেজি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হলো না তার। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের লৌহজগ্রাম এলাকায়। মৃত গৃহবধূর নাম পদ্মারানি দাস (৩৯)। মা আত্মহত্যা করেননি, খুন করা হয়েছে মাকে। মৃতদেহ উদ্ধারের পর এমনই অভিযোগ করে পদ্মারানি দাসের মেয়ে পরীক্ষার্থী জ্যোৎস্না দাস। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। জানা গেছে, রায়গঞ্জের লৌহজগ্রামের বাসিন্দা মৃত পদ্মারানি দাসের স্বামী ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। স্বামীর কোনও খোঁজ খবর নেই। পদ্মারানি দাস এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। দুই ছেলে মেয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি ছেলে-মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন। মেয়ে জ্যোৎস্না দাস এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বলল, অনেক খুঁজেছি। খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছে গিয়েছি। কেউ খবর দিতে পারেনি। অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে, পরীক্ষা দিতে যেতে দেরি হয়ে যাবে। তাই চিন্তা বুকে চেপে পরীক্ষার জন্য বেরিয়ে পড়ি। পরে খবর পাই, বাড়ির বাইরে পাশের একটি আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মায়ের মৃতদেহ দেখতে পেয়েছে প্রতিবেশীরা। মেয়ের  অভিযোগ, প্রতিবেশী স্বপন দাস তার মাকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে। তার  আরও অভিযোগ, বেশ কিছুদিন থেকেই স্বপন দাস তার মাকে নানা প্রলোভন দেখাত, বিরক্ত করত, উত্ত্যক্ত করত। অনেক নিষেধ করা হলেও সোমবার রাতে স্বপন দাস বাড়িতে এসেছিল। নিজে পরীক্ষার জন্য তেমন কোনও গুরুত্ব দিতে ইচ্ছে করেনি। এরপরেই মঙ্গলবার সকালে মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিশ্চিত যে অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় মাকে খুন হতে হয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement