খুনের চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত
তৃণমূলনেতা স্কুলের মাথায়

তথ্য প্রশাসনেরই, দাবি আক্রান্ত শিক্ষিকার

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৪ই মার্চ , ২০১৮

কলকাতা, ১৩ই মার্চ— এক মামলার প্রেক্ষিতে স্কুলের পরিচালন কমিটির শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে তথ্যের অধিকার আইনে আবেদন জানানো হয়েছিল। যার ফলে বেরিয়ে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। পুলিশেরই দেওয়া রিপোর্টে খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ইত্যাদি মামলায় অভিযুক্ত কাশীপুর-বরানগর এলাকার ওই তৃণমূল নেতা এখনও স্কুলের সভাপতি পদে আসীন রয়েছেন বলে অভিযোগ।

ভয়ংকর এই অভিযোগ উঠেছে বরানগর এলাকার নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দির প্রাইমারি স্কুলের সভাপতি স্বপন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। প্রশ্ন উঠেছে, এতগুলি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পরও তিনি কি করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাথায় থাকেন। এর আগে কোনও রকম লিখিত নোটিস ছাড়াই ওই স্কুলের শিক্ষিকা তনুজা সামন্তকে স্কুল থেকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বরানগর থানায় সব জানানোর পরও নিশ্চুপ পুলিশ। স্কুলে ঢুকতে গেলে এখনও তাঁকে দেওয়া হচ্ছে হুমকি। শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষিকা। মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। এরপর তথ্যের অধিকার আইন, আর টি আই-এ আবেদন করেন শিক্ষিকা।

এই শিক্ষিকা তনুজা সামন্তের বক্তব্য, স্কুলের পাঠ্য বই নির্বাচনে কিছু ভুল করার অজুহাতে তাঁকে স্কুলে আসতে বারণ করে দেন প্রধান শিক্ষিকা মুনমুন দাস, এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর সুস্মিতা চ্যাটার্জি ও স্কুলের সম্পাদক এবং তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুবীর চ্যাটার্জি। শিক্ষিকা তনুজা সামন্তের অভিযোগ, সমস্ত কিছুর মূলে রয়েছেন সভাপতি স্বপন চক্রবর্তী। তিনিই কলকাঠি নাড়ছেন। সভাপতির অনুগামীদের সঙ্গে ওঠাবসা না করায় এভাবে আমার ওপর কোপ এসে পড়ল। ওই স্কুলে দীর্ঘ ১৬বছর কাজ করার পর এমন আচরণ করা হলো আমার সঙ্গে। শিক্ষিকা বলেছেন, সাসপেনশন নোটিস বা সাসপেনশন অ্যালাওয়েন্স কোনোটাই দেওয়া হয়নি তাঁকে।

কী হয়েছিল ঘটনার দিন? শিক্ষিকার বক্তব্য, কয়েক মাস আগে অজুহাত দিয়ে তাঁকে ঠেলে ধাক্কা মেরে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে স্কুল থেকে বার করে দেওয়া হয়েছিল। রাস্তায় কিছু অচেনা লোকজনও তাঁকে হুমকি দিয়ে স্কুলের সামনে আসতে বারণ করে। এরপরেই এফ আই আর দায়ের করেন শিক্ষিকা। কিন্তু পুলিশ কোনও উদ্যোগ নেয়নি। বারাকপুর আদালত বরানগর থানার ওসিকে যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে হাইকোর্টের বক্তব্য ছিল, তদন্ত যেমন চলছে চলুক। এবার আর টি আই হয়েছে। পুলিশ সেই আর টি আই-এর জবাবে জানিয়েছে স্বপন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ৩০২, ৩০৭, ৫০৬, ৫০৪, ৩৪, ১১৪, ১৪৭, ১৪৮, ৩৪, ১৪৯, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪ প্রভৃতি বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে নানান সময়ে। মামলাকারীর আইনজীবী অনুপম ভট্টাচার্যের বক্তব্য, আমাদের প্রশ্ন- পুলিশের কাছে এতগুলি অভিযোগ থাকার পরও ওই ব্যক্তি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালন কমিটির শীর্ষে থাকেন কি করে। এবার এই মামলায় সেকথা জোরালো ভাবে বলা হবে।

Featured Posts

Advertisement