উত্তরের ৬ স্থলবাণিজ্য কেন্দ্রে
নজরদারি বাড়ানোর দাবি

ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মানুষের স্বার্থে

জয়ন্ত সাহা

মাথাভাঙা : ১২ই মার্চ— উত্তরবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলবাণিজ্য ও ভিসা নিয়ে যাতায়াতের জন্য মোট ৬টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র রয়েছে। এই সব বাণিজ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটানের মতো দেশও আমদানি, রপ্তানি করে। আবার এই ৬কেন্দ্র দিয়েই চলে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈধ যাতায়াত। প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী লরি যাতায়াত করে। যাতায়াত করেন ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মানুষও। স্থলবাণিজ্যের জন্য যেমন যায় লরি, তেমনি বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া-আসা নাগরিকদের কাছে থাকে ব্যাগ। এইসব লরি বা ব্যাগে কি আসছে বা যাচ্ছে তা জানতে পারছেন না নিরাপত্তারক্ষীরা। কারণ ৬ বাণিজ্যকেন্দ্রেই নেই কোনও স্ক্যানার।

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা স্ক্যানার না থাকায় এই পথগুলিতে অনায়াসে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র পাচার হওয়া অসম্ভব নয়। সম্প্রতি একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা স্ক্যানার না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী নাশকতাও চালাতে পারে। কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা, জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি, মালদহের মহদিপুর এই ৪ কেন্দ্র দিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারত ছাড়াও নেপাল ও ভুটান স্থলপথে বাণিজ্য করে। এছাড়াও, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিঙের পানিট্যাঙ্কি দিয়ে চলে ইন্দো-নেপাল স্থলবাণিজ্য। আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ দিয়েও ইন্দো-ভুটান স্থলবাণিজ্য চলে। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করে বি এস এফ এবং ইন্দো-নেপাল ও ইন্দো-ভুটান স্থলবাণিজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে এস এস বি।

এছাড়াও প্রতিটি বাণিজ্যকেন্দ্রে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়টি দেখবার জন্য রয়েছে শুল্ক বিভাগের একটি উইং। লরির ভিতরে কি কি আমদানি রপ্তানি হচ্ছে তা নজরদারির দায়িত্ব শুল্কদপ্তরের। কিন্তু ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভিযোগ রয়েছে ৬ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধেই। সম্প্রতি, ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বোল্ডার ভর্তি লরি তল্লাশি করে দেখা যায় পাথরের পরিবর্তে লোহা পাচার করা হচ্ছিল। বি জি বি ওই লরির চালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তার করে। একই ঘটনার উদাহরণ আছে হিলি ও মহদিপুরে। আর কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধায় সম্প্রতি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় সোনাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

তবুও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট গুলিতে কোনও কোনও সময় মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ব্যাগ তল্লাশি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তল্লাশি হয় হাত দিয়ে। যাঁরা তল্লাশির দায়িত্বে আছেন তাঁদের যদি সন্দেহ হয় তবেই ব্যাগ খুলে দেখা হয়। ঢিলেঢালা তল্লাশির অভিযোগ রয়েছে দিনের পর দিন। প্রতিটি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এবং বাণিজ্যকেন্দ্রে অত্যাধুনিক স্ক্যানার বসানো জরুরি। এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। কেন্দ্রীয় সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও সবুজ সংকেত দেয়নি বলে জানা গেছে।

এস এস বি-র শিলিগুড়ি ফ্রন্টিয়ারের ডি আই জি(প্রশাসন)অসিতকুমার দাস জানিয়েছেন, ইন্দো-নেপাল ও ইন্দো-ভুটান বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় দেখে শুল্কদপ্তর। আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি লক্ষ্য রাখি। স্ক্যানার বসানো অত্যন্ত জরুরি। কয়েকটি ছোট স্ক্যানার বসানোর ভাবনা চিন্তা চলছে এই দুই বাণিজ্যকেন্দ্রে।

শুল্কদপ্তরের আধিকারিকরাও স্ক্যানারের বিষয়ে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে।

বি এস এফ-র উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডি আই জি জানিয়েছেন, স্ক্যানার বসানো না হলে লরির ভেতরে কি আছে সেটা বোঝা খুব কঠিন। কেন্দ্রীয় সরকার যদিও এখনো বাণিজ্য কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু জানায়নি।

Featured Posts

Advertisement