লঙ্কেশ হত্যায় অভিযুক্ত আরেক
লেখককে হত্যারও ছক কষছিল

দাবি বেঙ্গালুরু পুলিশের

সংবাদসংস্থা

বেঙ্গালুরু, ১৩ই মার্চ- গৌরী লঙ্কেশকে হত্যায় সহায়তার জন্য নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হিন্দু যুব সেনা নেতা কে টি নবীনকুমারকে। কন্নড় সাহিত্যের লেখক কে এস ভগবানকে হত্যার জন্যও সাহায্য করতে বলা হয়েছিল এই উগ্র হিন্দুত্ববাদীকে। লঙ্কেশ হত্যার তদন্তে গঠিত ‘সিট’ এবার খুনের চেষ্টার অভিযোগও দায়ের করছে ধৃত নবীনকুমারের বিরুদ্ধে।

পুলিশের বক্তব্য, লঙ্কেশ হত্যায় অস্ত্র এবং সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল নবীনকুমার। সেই জন্য নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু, নবীনকুমার সহায়তা কাদের করেছিল এবং কারাই তাকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছিল জানায়নি পুলিশ। হিন্দু যুব সেনার পাশাপাশি সনাতন সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত নবীনকুমার। উগ্র হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনগুলি নানা কায়দায় তীব্র ধর্মীয় মেরুকরণ ছড়ায়। হামলা, ভাঙচুরও করে। পুলিশ সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, গৌরী লঙ্কেশ বাসভবনের সামনে ঘুরে খুঁটিনাটি তথ্য জোগারের কাজও করেছিল নবীনকুমার।

২০১৭-র ৫ই সেপ্টেম্বর বাড়িতে ঢুকে গুলি করা হয়েছিল সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশকে। ধর্মীয় মেরুকরণ এবং অসহিষ্ণুতার রাজনীতির সরব সমালোচক ছিলেন লঙ্কেশ। সাহিত্যিক ভগবানও যুক্তিবাদী এবং ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সরব। গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি অস্ত্র কিনতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে নবীনকুমার। তার কাছে কার্তুজ পাওয়া যায়। বেঙ্গালুরুর ডেপুটি কমিশনার এম এন অনুচেত জানিয়েছেন নবীনকুমারের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ভগবানকে খুনের চক্রান্ত বেরিয়ে পড়ায় খুনের চক্রান্তের অভিযোগও যুক্ত করা হচ্ছে এফ আই আর-এ।

বেআইনি অস্ত্র আইনের ধারায় অভিযুক্ত নবীনকুমারকে আদালত জামিন দেয়। অনুচেত বলেছেন, জামিন বাতিল করার আবেদন দায়ের করবে পুলিশ। সোমবার বেঙ্গালুরুর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে অভিযুক্তকে হাজির করেছিল পুলিশ। নারকো অ্যানালিসিস পরীক্ষায় সম্মত হয়েছে অভিযুক্ত। আপাতত নবীনকুমারকে জেল হেপাজতে রাখা হয়েছে।

গৌরী লঙ্কেশের খুনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ তীব্র হলেও তদন্তে দোষীদের খুঁজে বের করতে পারেনি কর্ণাটকের পুলিশ। রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগও উঠেছে। বাসভবনে ঢুকে একেবারে কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল লঙ্কেশকে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় তা দেখা গেলও আততায়ীর মুখ ধরা পড়েনি। কিন্তু, হত্যার কায়দা নতুন ছিল না। যুক্তিবাদী এবং বিজ্ঞানমনস্কতার পক্ষে আন্দোলনের দুই নেতা নরেন্দ্র দাভোলকর এবং গোবিন্দ পানসারেকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগও ওঠে। কর্ণাটকেই একই কায়দায় খুন করা হয় প্রগতিশীল সাহিত্যিক এম এম কালবুর্গিকেও। লঙ্কেশের মৃত্যুর পর হুমকি দেওয়া হতে থাকে ভগবানকেও।

পুলিশ জানিয়েছে ২রা মার্চ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করা হয় নবীনকুমারকে। লঙ্কেশ হত্যা এবং ভগবানকে হত্যার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করে অভিযুক্ত। সাহিত্যিক ভগবান মহীশূরের বাসিন্দা। প্রশাসন জানিয়েছে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রহরা বাড়ানো হয়েছে।

জেরায় নবীনকুমার দাবি করেছিল যে রাজ্যের বাইরে থেকে অস্ত্র কেনার কথা ছিল। পুলিশ মনে করছে, রাজ্যের ভেতরেই গোপন অস্ত্রব্যবসার জাল ছড়ানো আছে। সেখান থেকেই অস্ত্র কিনেছিল নবীনকুমার। অস্ত্রসহ ধরা হয়েছিল তাকে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement