মহাসড়ক নির্মাণে কৃষিজমি
বসতবাড়ি দেবেন না ঝুমুর
বারঘরিয়ার বাসিন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা

ধূপগুড়ি, ১৩ই মার্চ— মহাসড়ক নির্মাণের জন্য জমি জট কাটিয়ে উঠতে পারছে না রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প এই মহাসড়ক। নির্মাণকাজ থমকে আছে গত ৫ বছরের বেশি সময় ধরে। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি থেকে ধূপগুড়ি অভিমুখে আসবার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ঝুমুর এলাকা। সেখান থেকে ডানদিকে ঘুরে বারঘরিয়া অঞ্চল, পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ড হয়ে জংলি বাড়ির কাছে এসে ধূপগুড়ি থেকে ফালাকাটা-কোচবিহার-আলিপুরদুয়ারগামী রাস্তায় মেশানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রাস্তা নির্মাণের জন্য বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকার কৃষিজমি দিতে চাইছেন না কৃষকেরা। তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। জমি জরিপ করতে এসে মহাসড়ক কর্তৃপক্ষকে রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের মদত নিয়েও কয়েকবার পালিয়ে আসতে হয়।

ঝুমুর থেকে কলেজপাড়া প্রায় দশ কিলোমিটারজুড়ে এলাকার মানুষ আন্দোলনে নেমেছেন। গত ১০ই মার্চ ধূপগুড়ি পৌরসভায় জেলা প্রশাসন এবং রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব মহাসড়ক নির্মাণ কর্তৃপক্ষের সাথে সভা করে সিদ্ধান্ত নেন ১২ই মার্চ থেকে জমি জরিপ ফের শুরু হবে। সেই মতো ঝুমুর এলাকায় জমি জরিপ শুরু করা হয়। কিন্তু বাধা আসে মঙ্গলবার। এদিন কলেজ পাড়া এক নম্বর ওয়ার্ডে জমি জরিপ করতে এলে দেখা যায় নতুন পরিকল্পনায় প্রায় ৩০টি পরিবারকে একেবারেই ভিটেমাটি ছাড়া হতে হবে। এই ঘটনায় এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছেন শাসকদলের প্রাক্তন ও বর্তমান দুই কাউন্সিলরের বসত বাড়ি এবং জমি। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বিশ্বনাথ রায় বলেন, আগের পরিকল্পনা কেন বাদ দেওয়া হলো জানি না। নতুন পরিকল্পনায় যাদের জমি যাবে সকলেই গরিব মানুষ। নামমাত্র জমির মালিক। অনেকের শুধু বসত বাড়িটুকু সম্বল। ক্ষতিপূরণ দিলেও অন্য স্থানে জমি পাওয়া সম্ভব না। বসত এবং জমি ছাড়ব না। আজ রাতেই সভা করবেন। আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

তাদের দাবি আগের পরিকল্পনায় রাস্তা হোক। জানা গেছে, রাজ্যের শাসকদলের পরিকল্পনায় মহাসড়ক নির্মাণে নয়া বিরোধের জন্ম। অন্যদিকে দুদিন আগে পৌরসভায় জেলা প্রশাসনের সভা করার পর জীবন জীবিকা জমি এবং বাস্তুভূমি রক্ষা কমিটির সম্পাদক অসীম সরকার বলেন, মন্ত্রী গৌতম দেব আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন আমার জমি নেওয়া হচ্ছে না। তাই আমার কোনও বক্তব্য নেই। এর থেকেই পরিষ্কার ভূমিরক্ষা আন্দোলনের নেতাদের অনেককেই খুশি করার মধ্য দিয়েই নয়া পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ ঝুমুর এলাকাতেও শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য তার জমি রক্ষা করে এবং সামান্য কিছু জমি দিয়ে তার দর চড়া হারে বাড়িয়ে নিয়েছেন বলেই তার উপস্থিতিতে জমি জরিপের কাজ নির্বিঘ্নে করা হয়েছে সোমবার। এদিন বিধায়ক, উপপৌরপ্রধান, বি ডি ও-সহ শাসকদলের একঝাঁক নেতা-কর্মী কলেজপাড়ায় গিয়ে জমি জরিপের কাজে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই বিক্ষোভ দেখান।

Featured Posts

Advertisement