লড়াইয়ে জিত, যুদ্ধ চলছে
বলছেন কৃষক নেতারা

দাবি মেনে বিধানসভায় বিবৃতি মুখ্যমন্ত্রীর

সংবাদসংস্থা   ১৪ই মার্চ , ২০১৮

মুম্বাই, ১৩ই মার্চ— ‘লড়াইয়ে জিতেছি, যুদ্ধ এখনও চলছে’, বললেন মহারাষ্ট্রের কৃষক ও গণআন্দোলনের নেতা অশোক ধাওলে। প্রায় ২০০কিলোমিটার পথ হেঁটে আসা কৃষক জনতার প্রত্যয়ের কাছে নতিস্বীকার করে তাঁদের অধিকাংশ দাবিই মেনে নিয়েছে মহারাষ্ট্রের সরকার। সোমবার রাজ্যের মন্ত্রীকে কৃষক জমায়েতে এসে বলতে হয়েছে দাবি মেনে নেওয়ার কথা। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েই দাবি মেনে নেবার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সারা ভারত কৃষকসভার সর্বভারতীয় সভাপতি ধাওলে বলেছেন, সরকার আমাদের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবার বাস্তবে দেখতে হবে সেই প্রতিশ্রুতি রূপায়ণ করা হচ্ছে কিনা।

সোমবার শেষ বিকালে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষে আজাদ ময়দানে আসেন কৃষক নেতারা, রাজ্যের তিন মন্ত্রী। রাজস্ব ও পূর্ত মন্ত্রী চন্দ্রকান্ত পাতিল সমাবেশকে বলেন, আপনাদের প্রায় সব দাবিই সরকার মেনে নিচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে তা রূপায়ণ করার চেষ্টা করব। কৃষকসভার ঝান্ডা তুলে ধরে, লাল টুপি উড়িয়ে এই ঘোষণাকে স্বাগত জানান কৃষকরা। লিখিত প্রতিশ্রুতি ব্যাখ্যা করেন কৃষক সভার নেতারা। প্রথম ঘোষণা ছিল বনাঞ্চল অধিকার আইনে আদিবাসীদের জমি দেবার কাজ শুরু করা হবে। সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখার কাজ চালু করা হবে। গোটা ময়দান এই ঘোষণাকে সোচ্চারে স্বাগত জানায়, করতালি এবং স্লোগানের ঝড় বয়ে যায়। এরপর হয় ঋণ মকুবের ঘোষণা। সরকার ঋণ মকুবের পরিধি বৃদ্ধি করেছে, মেয়াদী ঋণকে ছাড়ের আওতায় এনেছে, বকেয়া ঋণ মকুবের সময়সীমাও বাড়িয়েছে। কৃষকসভার রাজ্য সম্পাদক অজিত নাওয়ালে কৃষক সমাবেশে বলেন, ‘সরকার আমাদের আগের প্রজন্মকে লুট করেছে, শোষণ করেছে। ঋণ মকুব লুট-ওয়াপসি। আমরা তার প্রথম কিস্তি ফেরত পাচ্ছি।’

জয়ের চিহ্ন কৃষকদের চোখেমুখে। নাসিক থেকে আসা রামু ভোয়ের কথায়, বহু প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আমরা অংশ নিয়েছি। কিন্তু এই প্রথম লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেল। নাসিকেরই সঞ্জয় সুখদেব বলেন, সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে, আমরা খুশি। মুম্বাইয়ের মানুষ আমাদের সমর্থন করেছেন। আমরা জমি ফেরত পাব। জমি আমাদের কাছে মায়ের মতো।

সোমবার রাত থেকেই ফিরে যেতে শুরু করেন কৃষকরা। নাসিক থেকে আসা কৃষকদের জন্য দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা হয়েছিল। কৃষকরা টিকিট কিনে সেই ট্রেনে চড়েন। বিনা ভাড়ায় যেতে তাঁরা রাজি হননি। ‘সরকারের কাছ থেকে কোনও সুবিধা নেওয়া ঠিক হবে না’, বলেছেন ধাওলে। তিনি জানান, মুম্বাই শহরে ঢুকে সোমাইয়া ময়দানে যখন আমরা জমায়েত হয়েছিলাম তখন প্রশাসন সরকারি বাসে দক্ষিণ মুম্বাই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কৃষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। আমরা মধ্যরাতে হেঁটেই পেরিয়েছি বাকি রাস্তা। ধাওলের কথায়, ‘কৃষকরা ফিরছেন মুখে হাসি নিয়ে। বহুদিন পরে তাঁদের দাবিদাওয়া নিষ্পত্তির রাস্তা খুলেছে।’

মঙ্গলবার বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ জানান, ২০০১ থেকে ২০০৯-এর মধ্যে যাঁরা ঋণ নিয়ে শোধ করতে পারেননি, তাঁদের ঋণ মকুবের প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। গত বছর ঋণ মকুব ঘোষণার সময়ে যে সমস্ত শর্ত আরোপ করা ঝয়েছিল তা শিথিল করা হচ্ছে। ফসলের জন্য ঋণ ছাড়াও দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত মেয়াদী ঋণও মকুবের আওতায় আসবে। ২০১৬-১৭তে যাঁরা ঋণ শোধ করতে পারেননি, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হবে। তা পর্যালোচনা করে ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে। ঋণ মকুবের প্রকল্প রূপায়ণের জন্য একটি কমিটি তৈরি হবে। কমিটিতে মন্ত্রীরা ছাড়াও কৃষক নেতারা থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বনাঞ্চল অধিকার আইন অনুযায়ী আদিবাসীদের জমির অধিকার দেবার কাজের জন্য ছ মাস সময় নিয়েছে সরকার।

কৃষক আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল, বুলেট ট্রেনসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণ বন্ধ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন, বুলেট ট্রেন এবং মুম্বাই-নাগপুর সমৃদ্ধি সড়কের জন্য কৃষকদের সম্মতি ছাড়া জমি নেওয়া হবে না।

পদযাত্রার দাবি ছিল আদিবাসীদের সকলের জন্য গণবণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানান, আদিবাসীদের অনেকের রেশন কার্ড নেই বা তা খারাপ অবস্থায় আছে বলে রেশন দেওয়া হয় না। আদিবাসীদের নতুন রেশন কার্ড করা হবে। ছ মাসের মধ্যে সরকার এই কাজ শেষ করবে।

কার্পাসখেতে পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল কৃষকসভা। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, একরপ্রতি ৪০হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেবার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেনশন ও বিভিন্ন সামাজিক ভাতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছিল। ফড়নবীশ জানিয়েছেন, ইতিবাচক ভাবে এই দাবি খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে এদিন মহারাষ্ট্র সরকারের শরিক শিব সেনা বলেছে, কৃষক পদযাত্রা রাজ্য সরকারের গালে একটি সজোর চপেটাঘাত। কৃষকরা সরকারকে প্রতিশ্রুতি পূরণের শেষ সুযোগ দিয়েছেন।

মহারাষ্ট্রের কৃষকদের আন্দোলনকে অভিনন্দন জানিয়েছে সি আই টি ইউ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সি আই টি ইউ বলেছে, এই আন্দোলন শ্রমিক শ্রেণির লড়াইকেও অনুপ্রাণিত করবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement