অর্থবিল গিলোটিনে
ফেলতে তৎপর কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ১৩ই মার্চ — আলোচনা ছাড়াই অর্থবিল সরাসরি গিলোটিনে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। নতুন করে যেভাবে সংসদের কার্যবিবরণীর তালিকা করা হয়েছে তা দেখে এমন আশঙ্কাই করছে বিরোধীরা। প্রতিবাদে বিরোধীরা একযোগে চিঠিও দিয়েছে লোকসভার অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজানকে।

আবার সংসদে উভয় কক্ষে গত কয়েকদিনের হইচই গন্ডগোলকে নজিরবিহীন অ্যাখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার সি পি আই (এম) সাংসদ মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেছেন যে, গোটাটাই শাসকদলের পরিকল্পনামাফিক হচ্ছে। নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এন ডি এ শরিক তেলুগু দেশম এবং সমর্থনকারী দল এ ডি এম কে-র মতো দলকে দিয়ে হট্টগোল তৈরি করা হচ্ছে প্রতিদিন। আর এখন আলোচনা করা যাচ্ছে না এই ওজর দেখিয়ে অর্থবিল গিলোটিনে দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। অথচ পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, বেকারত্ব, কৃষকদের জ্বলন্ত সমস্যা, সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার ওপর আঘাত বা সাম্প্রতিককালে ত্রিপুরায় সঙ্ঘবাহিনীর তাণ্ডব নিয়ে অনেক কিছুই বলার ছিল। সেগুলি আলোচনার জন্য তোলাই গেল না। এমনকি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক নিয়ে প্রস্তাব আলোচনার জন্য দাখিল করা হলেও তার ভাষা বদলে দেওয়া হচ্ছে। একথা অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সংসদের এই অচলাবস্থা কাটাতে কোনও উদ্যোগই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না অধ্যক্ষের কিংবা সরকারের তরফে। সেলিম অভিযোগ করেন পুরোটাই সরকারপক্ষের গেমপ্ল্যান বলে। দেশের সমস্যা নিয়ে যাতে সংসদে বিরোধীরা আলোচনা তুলতে না পারে সেজন্যই শরিক বা সমর্থনকারী দল অথবা ভবিষ্যতে শরিক হতে পারে এমন দলগুলিকে দিয়ে হইচই বাধানো হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে বি জে পি-র সম্ভব্য মিত্র বলে কটাক্ষও করেন।

অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজনকে দেওয়া চিঠিতে বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে, বরাদ্দ অনুমোদনের বকেয়া দাবিগুলি স্পষ্টতই গিলোটিনে ফেলার উদ্যোগ চলছে। অথচ গত ৫ই মার্চ কার্য উপদেষ্টা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে রেল, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, যুবকল্যাণ এবং সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়কের মতো ছটিদপ্তর অথবা মন্ত্রকের ব্যয়বরাদ্দ নিয়ে আলোচনার সময়সূচি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অর্থবিল এবং গিলোটিনের জন্য কোনও সময় বরাদ্দ ছিল না। সংসদীয় রীতিনীতি অনুসারে বিরোধীপক্ষকে গিলোটিন অথবা অর্থবিল পাশের দিনক্ষণ আড়ালে রেখে কার্যবিবরণীতে যুক্ত করা যায় না। এটা সম্পূর্ণ অসংসদীয় কাজ বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা।

বিরোধী দলগুলি মনে করে, এই উদ্যোগেই স্পষ্ট সরকার যাবতীয় আর্থিক সংক্রান্ত আলোচনা ঔদ্ধত্যের সঙ্গে এবং একতরফাভাবে সংসদে কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই পাশ করিয়ে নিতে চাইছে। অধ্যক্ষকে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের জালিয়াতি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব এনে আলোচনার জন্য দাবি জানানো হলেও তিনি মানেননি। এজন্য বিরোধীরা সমস্বরে প্রতিবাদ এবং বিরোধিতা করেছে। এমনকি সংসদ সুষ্ঠু এবং শান্তি চলুক এমন উদ্যোগও লক্ষ্য করা যায়নি সরকারের তরফে বলে তারা অভিযোগ করেছে। একারণেই তারা তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিরোধীরা সাংসদরা।

এদিনও সংসদের উভয় কক্ষে হট্টগোলের জন্য অর্থবিল তোলা যায়নি। তেলুগু দেশম অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দানের প্রশ্নে বেশ কয়েকদিন যাবৎ চেঁচামেচি করে যাচ্ছে। কাবেরীর জল বণ্টনের পাশাপাশি ব্যাঙ্ক জালিয়াতি নিয়ে সোচ্চার এ ডি এম কে। সেকারণে এদিন ২০১৮-১৯র অর্থ বিল এবং ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯র ব্যয়বরাদ্দ মঞ্জুর বিল তোলা সম্ভব হয়নি। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জিরো আওয়ার বানচাল হয়ে যায়। সভার কাজ বারবার ব্যাহত হয়। দুপুরে সভার কাজ শুরু হলেও বেশিক্ষণ চলেনি। লোকসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করে দেন অধ্যক্ষ। একইভাবে রাজ্যসভাতেও কোনও আলোচনা সম্ভব হয়নি হইচইতে। আর এই সুযোগ নিয়ে বি জে পি সরকার গিলোটিনে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি পাশ করিয়ে নিতে উদ্যত হয়েছে।

এদিন সেলিমের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন টি কে রঙ্গরাজন এবং ত্রিপুরার সাংসদ জিতেন চৌধুরি। জিতেন চৌধুরি অভিযোগ করেন,সন্ত্রাস পেরিয়ে এদিনই হাজির হতে পেরেছেন সংসদে। ত্রিপুরায় সন্ত্রাস নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনতে চাইলেও খারিজ হয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement