রাসবিহারী দত্তের
জীবনাবসান

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই মার্চ— মঙ্গলবার ভোরে বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক এবং সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক রাসবিহারী দত্তের জীবনাবসান হয়েছে দমদমের নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭। সাতের দশক থেকে তিনি সি পি আই (এম)-র সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বহু মানুষ হাসপাতালে ও বাড়িতে যান এবং প্রয়াত সাহিত্যিকের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অধ্যাপক রাসবিহারী দত্তের জীবনাবসানে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পার্থ রাহা এবং রজত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়াত অধ্যাপকের বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন সি পি আই (এম)-র দক্ষিণ দমদম ১নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক উদয় সাহা এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুরের রানিচক গ্রামে ১৯৫১ সালে জন্ম রাসবিহারী দত্তের। গ্রামে স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি কাঁথি কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক হন। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে এম এ পাশ করেন এবং সেখানেই গবেষণা সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনে বঙ্গবাসী কলেজে দর্শন বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন, বিভাগীয় প্রধান হন এবং পরে রামনগর কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে অবসরগ্রহণ করেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করার সময়েই ড. দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের সংস্পর্শে আসেন রাসবিহারী দত্ত। তাঁর কাছেই মার্কসবাদের অধ্যয়ন করে রাসবিহারী দত্ত মার্কসবাদী হয়ে ওঠেন এবং নিজের জীবনের যাত্রাপথে তার অনুশীলন শুরু করেন। সাতের দশকের আধা ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসের সময় তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র সদস্য হন। আমৃত্যু তিনি পার্টির সদস্য ও সাংস্কৃতিক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাতের দশক থেকেই তিনি কবিতা গল্প ছড়া রম্যরচনা প্রবন্ধ এবং সমাজ গবেষণাধর্মী রচনার কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘের রাজ্য সংসদের সদস্য ছিলেন, নিখিল ভারত শিশু সাহিত্য সংসদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, ইন্ডিয়ান স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সের অন্যতম সম্পাদক ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘তিন বাংলার লেখক শিল্পী সমিতি’-র ভারত চ্যাপ্টারের সম্পাদক ছিলেন। আলোর ফুলকি, ক্রান্তিক ইত্যাদি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। শিশুসাহিত্য, কবিতা, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা অনেক। দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুগ্ম উদ্যোগে সাতখণ্ডের গ্লোবাল ফিলোজফি তাঁর জীবনের অন্যতম কীর্তি।

গণশক্তি পত্রিকার সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল। পত্রিকার ‘নতুন পাতা’ বিভাগে দীর্ঘ সময় তিনি যুক্ত ছিলেন।

রাজনীতি, সমাজনীতি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতে তাঁর অবাধ বিচরণের কারণে তাঁর অজস্র অনুরাগী রয়েছেন। বাগ্মী, উদারচেতা, স্পষ্টবাক রাসবিহারী দত্ত তাঁর অমায়িক ব্যবহারের জন্যও সকলের প্রিয় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী এবং এক পুত্র রয়েছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement