স্ক্রিপালকাণ্ডে ব্রিটেনের
অভিযোগে ক্ষুব্ধ রাশিয়া

সংবাদসংস্থা   ১৪ই মার্চ , ২০১৮

লন্ডন, ১৩ই মার্চ — বেআইনি নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করে ব্রিটিশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তাঁর মেয়ে ইউলিয়াকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে রুশ-ব্রিটেন চাপানউতোর ক্রমশই তীব্র হচ্ছে। যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই ঘটনায় রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে সোমবার ব্রিটিশ সংসদে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে যে একতরফা বিষোদ্গার করেছেন, তার তীব্র নিন্দা করেছে রুশ সরকার। মস্কোতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লরি ব্রিসটাওকে ডেকে পাঠিয়ে এসব মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে রুশ বিদেশমন্ত্রক। এই ঘটনা নিয়ে ব্রিটেনের একতরফা অপপ্রচারের বিরোধিতা করেছেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ সরকারের হয়ে গুপ্তরচরগিরি করার দায়ে একসময়ে রাশিয়ায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই স্ক্রিপাল। চরবৃত্তি দায়ে স্ক্রিপালের ১৩বছরের জেল হলেও পরে ২০১০সালে তাঁকে ব্রিটেনের হাতেই তুলে দেয় রাশিয়া। তাঁর মেয়ে ইউলিয়া মস্কোতে বসবাস করলেও বাবাকে দেখাশোনা করতে প্রায়শই ব্রিটেনে যেতেন। গত ৪ঠা মার্চ একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়ার পরে সালিসবেরির উইল্টশায়ারে একটি পার্কের বেঞ্চে অজ্ঞান অবস্থায় পড়েছিলেন স্ক্রিপাল (৬৬) এবং ইউলিয়া (৩৩)। ব্রিটিশ পুলিশ পরে জানায়, বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ করে এই দুজনকে মেরে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তারপর থেকেই এই ঘটনায় রাশিয়াকে জড়িয়ে নানান পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে প্রধানমন্ত্রী মে-র সরকার।

সোমবার হাউস অব কমন্সে দাঁড়িয়ে এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হুমকি দেন, এই হত্যাপ্রচেষ্টা সম্পর্কে মঙ্গলবারের রাতের মধ্যেই রাশিয়া যদি সব কথা না জানায়, তাহলে এই ঘটনাকে ‘ব্রিটেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বেআইনি বলপ্রয়োগ’ হিসেবেই বিবেচনা করবেন তাঁরা। তিনি বলেন, আমাদের মাটিতে নিরিহ নাগরিকদের হত্যার এই নির্লজ্জ প্রচেষ্টার সঙ্গে ‘যতদূর মনে হয়’ রাশিয়াই জড়িত। রাশিয়াতেই সামরিক উদ্যোগে ‘নভিচক’ নামে এই নার্ভ গ্যাস তৈরি করা হয়েছে। এটি আমাদের ওপর রাশিয়ার সরাসরি আক্রমণ। অথবা এমনও হতে পারে এই ভয়ংকর নার্ভ গ্যাসের ওপর থেকে রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, এখন তা অন্য কারুর হাতে পড়েছে।

তবে স্ক্রিপালকাণ্ডে কোনও যোগাযোগের কথা প্রথম থেকেই জোরের সঙ্গেই অস্বীকার করে চলেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার মস্কোয় রুশ বিদেশমন্ত্রী লাভরভ বলেন, লন্ডনে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর হুমকির কথা আমাদের কানেও এসেছে। এব্যাপারে আমাদের দেশের বক্তব্য তো বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েই দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগেই ব্রিটিশ সংসদে প্রধানমন্ত্রী মে-র ভাষণকে ‘সার্কাস’ আখ্যা দেন রুশ বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা।

এদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে কূটনৈতিকস্তরে প্রচার তীব্র করতে ইউরোপের বিভিন্ন মিত্র দেশ, এমনকি ন্যাটো-র কর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন। মঙ্গলবার তিনি নিজেই একথা জানিয়ে দাবি করেছেন, সমস্ত দেশই ব্রিটেনের প্রতি ‘সংহতি’ জানিয়েছে। লন্ডনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে তিনি বলেছেন, নভিচক সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিকেল উইপনস (ও পি সি ডবলিউ)-র কাছে জমা দিতে হবে রাশিয়াকে।

রাশিয়া এবং ব্রিটেন দুই দেশই ও পি সি ডবলিউ-র সদস্য। স্ক্রিপালকাণ্ডের ব্রিটিশ তদন্তে কার্যত অনাস্থা প্রকাশ করে রুশ বিদেশমন্ত্রী লাভরভ এদিন বলেন, রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত তো ঠিকঠাক পদ্ধতিতেই হওয়া উচিত। ঘটনাস্থলে যে নার্ভ গ্যাস মিলেছে বলে অভিযোগ, ও পি সি ডবলিউ-র নিয়ম অনুযায়ী তার নমুনা তো আমাদেরও পরীক্ষা করে দেখা দরকার। তাছাড়া ইউলিয়া তো রাশিয়ার নাগরিক। সুতরাং তাঁকে খুনের চেষ্টা হলে তদন্তে তো আমাদেরও অংশ নেওয়া উচিত। আলোচ্য নার্ভ গ্যাসের নমুনা পরীক্ষা করতে চেয়ে সরকারিভাবেই আমরা অনুরোধ পাঠিয়েছি ব্রিটেনের কাছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করছে না তারা।

রুশ বিদেশমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কোনও জবাব না দিলেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, স্ক্রিপালকাণ্ডে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কূটনীতিক বহিষ্কার, নিষেধাজ্ঞাসহ আরও বেশ কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছে থেরেসা মে-র সরকার।

Featured Posts

Advertisement