লাগাতার প্রয়াসের পরেই
আজ কৃষকরা আন্দোলনে

বললেন হান্নান মোল্লা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৪ই মার্চ , ২০১৮

নয়াদিল্লি : ১৩ই মার্চ— মহারাষ্ট্র, রাজস্থানে কৃষক আন্দোলনের তীব্রতায় সারা দেশেই কৃষিজীবী মানুষ উৎসাহিত হবেন। মঙ্গলবার একথা জানিয়েছেন, সারা ভারত কিষানসভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, একের পর এক রাজ্যে সারা ভারত কিষানসভার নেতৃত্বে যে কৃষক আন্দোলন আছড়ে পড়ছে তা হঠাৎ করে হয়নি। গত দুই বছর ধরে সংগঠনের পক্ষ থেকে লাগাতার কৃষকের নানা সমস্যা তুলে ধরে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেছে কৃষকসভা। এদিন গণশক্তির সঙ্গে আলোচনায় সারা ভারত কিষানসভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বলেছেন, দুই বছর আগে আমরা কৃষকদের ১৫টি সমস্যার বিষয়কে চিহ্নিত করি সারা দেশে। সেইগুলিকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে দেশের চার প্রান্ত থেকে চারটি জাঠা ২২টি রাজ্যের ১৮হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। গোটা পথে কয়েকশো সভা করা হয়। দিল্লিতে সমাপ্তি সমাবেশের মধ্য দিয়ে সেই জাঠা কর্মসূচি শেষ হয়। তিনি বলেন, কর্পোরেট মিডিয়া তা দেখায়নি। মধ্যবিত্তরাও তাতে নজর করেননি।

নাসিক থেকে মুম্বাইয়ে কিষানসভার ডাকে লঙ মার্চকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের চাপ অস্বীকার করতে পারেনি মহারাষ্ট্র সরকার। কর্পোরেট সংবাদমাধ্যমকেও গুরুত্ব দিতে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং মুম্বাইয়ের মধ্যবিত্তও সমর্থনে নেমে পড়েছিল। সেইদিকেই ইঙ্গিত করেই সম্ভবত হান্নান মোল্লা এদিন আগের কথাগুলি উল্লেখ করেছেন।

হান্নান মোল্লা জানিয়েছেন, কিভাবে ধাপে ধাপে কৃষিসংকট নিয়ে আন্দোলন তীব্র করেছে কৃষকসভা। ১৫টি দাবির মধ্যে জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে এরপর মহকুমা, জেলা এবং রাজ্যস্তরে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। হান্নান মোল্লা বলেন, ভারতের মত বিরাট দেশে ফসলের বিভিন্নতা, আবহাওয়ার বৈচিত্র্য, বিভিন্ন ধরনের কৃষিসংকটের কারণে সর্বভারতীয় কোনও কৃষক বিক্ষোভ আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পরিবর্তে রাজ্যওয়াড়িই বিরাট বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ফসল ধরেও আন্দোলনের দাবি এবং সংগ্রাম গড়ে তুলেছিল কিষানসভা। তিনি বলেন, কেরালায় কৃষক ধর্মঘট হয়েছে। কর্ণাটকেও বড় আন্দোলন হয়েছে আঞ্চলিকস্তরে চালু প্রথা বাগরিখেরার বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ শাসনে তৈরি আইনে আদিবাসী জমি অবাধে লুট চলছিল ঝাড়খণ্ডে। কিষানসভার আন্দোলনের জেরেই সেই আইন প্রত্যাহারে বাধ্য হয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। রাজস্থানেও দুই বছর আগে রাজ্যের বি জে পি সরকার বিদ্যুতের মাশুল ৪০শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল। মহকুমা এবং জেলাস্তরে ধরনা, অবস্থানের পরে সারা ভারত কিষানসভা জয়পুরে বিরাট অবস্থানের ডাক দেয়। শেষ পর্যন্ত সরকার কৃষকদের দাবি মেনে বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গেও কিষানসভা দুইবার নবান্ন অভিযানে অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণ বিল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিল মোদী সরকার। সারা ভারত কিষাসভা অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনকে নিয়ে ভূমি অধিকার আন্দোলন মঞ্চের মাধ্যমে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনের তীব্রতাতেই পিছু হটে মোদী সরকার।

দেশজুড়ে কৃষক আত্মহত্যা বিপুল বৃদ্ধি পেয়েছে। কারও সেদিকে নজর নেই। সারা ভারত কিষানসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্যের এমন পাঁচশোর বেশি আত্মঘাতী কৃষক পরিবারের কাছে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ২৫০জনকে নিয়ে আসা হয়েছিল দিল্লিতে। কৃষিসংকট তীব্রতর হয়েছে। স্বামীনাথন কমিটি কৃষিসংকট মোকাবিলার জন্য নানাবিধ সুপারিশ করেছিল। ফসল উৎপাদন খরচের দেড়গুণ বেশি দাম দেওয়ার সুপারিশ তারমধ্যে অন্যতম। মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করবেন। আরও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্রের কৃষক তাঁদের ফসল রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। মন্দসৌরে এমনই আন্দোলনে ৬জন কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। ঋণ মকুব এবং স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার দাবি জোরদার হয়ে উঠেছে। ১০২টি সংগঠন নিয়ে সারা ভারত কৃষক কো-অর্ডিনেশন কমিটি গড়ে উঠেছে। দুটি বিষয়ে সকলেই একমত হয়েছেন। ঋণমকুব এবং ফসলের ন্যূনতম মূল্যের ক্ষেত্রে স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ কার্যকর করা। এই দুই দাবি এবং মন্দসৌরে কৃষকদের উপর গুলিচালনার প্রতিবাদে ব্যাপক প্রতিবাদ এবং পদযাত্রা হয়েছে। বিভিন্ন ধাপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই জাঠা হয়েছে। এখন সারা ভারত কৃষক কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে ১৯২টি সংগঠন যুক্ত হয়েছে।

হান্নান মোল্লা বলেছেন, এক রাজ্যের কৃষক আন্দোলনকে অনুকরণ করে অন্য রাজ্যে আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। রাজ্যে রাজ্যে কৃষকদের সমস্যা ভিন্নতর। কৃষিসম্পর্ক পৃথক, ফসলের ধরন আলাদা, সেচের সমস্যা এবং সাংগঠনিক শক্তিও পৃথক। কিন্তু রাজস্থানের কৃষকদের সংগ্রামের পর, মহারাষ্ট্রের এই লড়াইয়ের পর সারা দেশেই কৃষকরা উৎসাহিত হবেন।

Featured Posts

Advertisement