বাজেটে আলোচনায় মাত্র
১০ মিনিট রইলেন মেয়র

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৪ই মার্চ , ২০১৮

কলকাতা, ১৩ই মার্চ – কলকাতা কর্পোরেশনে বাজেটের উপরে আলোচনা পর্বের প্রথম দিনে কার্যত ছিলেনই না মেয়র শোভন চ্যাটার্জি। মঙ্গলবার ৫ঘণ্টা ধরে বাজেট নিয়ে আলোচনা চললেও মেয়রের উপস্থিতি সাকুল্যে ১০মিনিট। যখন কাউন্সিলররা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছেন, মেয়র তখন নিজের ঘরে বসে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রেখেছেন। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা। মেয়রের কাছে এই বাজেটের আদৌ গুরুত্ব আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

গত শনিবার অধিবেশন শুরুর বেশ কিছু সময় কাটার পরে মেয়র কক্ষে ঢুকে বাজেট পেশ করেন। মেয়র কোথায়? এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বাম কাউন্সিলররা। বাজেট আলোচনা পর্বের প্রথম দিনে যেন মেয়র নজির গড়লেন। বেলা ১২টা থেকে আলোচনা শুরু হলে এদিনও তাঁর দেখা মেলেনি শুরু থেকে। বেশ কিছু সময় বাদে এসে বসেন চেয়ারে। মিনিট তিনেক শুনেই আবার চলে যান। আর তাঁকে দেখা যায়নি গোটা আলোচনা পর্বে। শেষ হওয়ার আগে ফের কক্ষে ঢোকেন ঘড়ির কাঁটায় তখন ৬টা বাজতে ৭মিনিট বাকি। ৬টায় শেষ হয় প্রথম দিনের বাজেটের ওপর আলোচনা।

বাজেটের আলোচনা পর্বে চেয়ারপার্সন থেকে শাসক, বিরোধী দলের ১৪৩জন কাউন্সিলর যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত তখন মেয়র কোথায়? এই অবস্থায় আদৌ কি এই বাজেটের কোনও গুরুত্ব আছে? এই প্রশ্ন তুলে সোচ্চার হন বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা। শাসক শিবিরের কাউকে অবশ্য এর প্রতিবাদে গলা চড়াতে দেখা যায়নি। জানা যায়, সেই সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে কর্পোরেশনে নিজের ঘরে বসে তাঁর ব্যক্তি জীবন ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যস্ত ছিলেন। যদিও বিরোধীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে চেয়ারপার্সন মালা রায় বিরোধীদের উদ্দেশে জানান, ‘মেয়র সব শুনছেন। উনি প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত আছেন। আপনারা আলোচনা করুন।’

এদিন আলোচনায় সি পি আই (এম) কাউন্সিলর মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী বাজেটকে তীব্র ভাবে ভর্ৎসনা করেন। বলেন, মুখের ভাষণে উন্নয়ন হয় না। টাকা নেই, বরাদ্দ করলেও খরচ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। টাকা ছাড়াই উন্নয়নের বন্যা। কাউন্সিলর তহবিল বাড়ানোর আবেদন জানান। মিথ্যা ভাষণে ভরা বাজেট বলে কটাক্ষ করেন। মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তীর বক্তব্যের পালটা বলেন মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ। তিনি যুক্তি দেন, কিছু প্রকল্পের একাধিকবার টেন্ডার ডাকতে হয়। বছর পেরিয়ে যাওয়াতে সেই প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করা হলেও সংশোধিত বাজেটে ধরা হয় না। তাই কমে যায়। তার মানেই বাজেট ব্যর্থ নয়। তিনি জানান, আগামী বছর থেকেই হেলথ ইউনিট গুলিতে ‘অটো এলাইজা’ পরীক্ষাসহ একাধিক পরীক্ষা করাতে পারবেন নাগরিকরা। শুরু হচ্ছে শববাহী গাড়ির পরিষেবাও। সি পি আই কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব জঞ্জাল সাফাইসহ একাধিক বিভাগে কর্মী নিয়োগের দাবি জানান। কর্পোরেশনের বাইরে বিভিন্ন কাজে কর্পোরেশনের টাকা খরচ না করে ১০০দিনের কর্মীদের মজুরি বাড়ানোর দাবি করেন। শাসক দলের তরফে বক্তব্য রাখেন অরুপ চক্রবর্তী, সন্দীপন সাহা। সি পি আই (এম) কাউন্সিলর বিলকিস বেগম দাবি করেন শহরে গরিব মানুষদের স্বার্থে টাকা বরাদ্দ হয় কম, আর খরচও হয় কম। তখন বলা হয় টাকা নেই। আর আলো দিয়ে সাজানো, বাগান বানানোর জন্য বিপুল টাকা ব্যয় হয়। তিনি উদাহরণ হিসাবে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৃণমূল বোর্ড সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিরাট বিরাট কথা বলে। আর চলতি বছরে সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ১০লক্ষ টাকা, খরচ করেছে ৮লক্ষ টাকা। আগামী বাজেটে এই খাতে মাত্র ০.০০২৭শতাংশ ধরা হয়েছে। তিনি দাবি করেন ৩বার লাইফ সার্টিফিকেট দেওয়ার পরেও ভাতা প্রাপকদের ব্যাঙ্কে টাকা ঢুকছে না। বি পি এল তালিকা প্রকাশ করেনি। বিরোধী দলের কাউন্সিলর বলে তাঁর ওয়ার্ডের নাগরিকদের নানা ভাবে বঞ্চিত করার অভিযোগও করেছেন। এদিন আলোচনার শেষ পর্বে এসেও মেয়রের দেখা না মেলায় এই বাজেটের কোনও গুরুত্ব আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আর এস পি কাউন্সিলর দেবাশিস মুখার্জি। আলোচনায় অংশ নিয়ে সি পি আই (এম) কাউন্সিলর চয়ন ভট্টাচার্য বলেন, শাসকের পিঠ চাপড়াতে আসিনি। শহরের মানুষের না পাওয়ার কথাই তুলে ধরতে এসেছি। অস্থায়ী কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ১০হাজার টাকা করার দাবি করেন তিনি। পানীয় জল নিয়ে মেয়র চারিদিকে ঢাক পিটিয়ে বেড়ান। বাস্তবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল কষ্টে ভুগছেন বাসিন্দারা। তা না মিটলে মানুষকে নিয়ে আন্দোলনে নামার কথা জানান তিনি। বড় বড় ওয়ার্ডগুলিতে মূল হেলথ ইউনিটের সঙ্গে আরও একটি ছোট ইউনিট করে স্বাস্থ্য পরিষেবা সকলের কাছে পৌঁছানোর আবেদন জানান। বাতিস্তম্ভের গায়ে নীল সাদা আলো না লাগিয়ে ‘নো লাইট’ এবং ‘লো লাইট’ জোনগুলিতে পর্যাপ্ত আলো লাগানোর দাবি করেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement