ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের ফের
হামলায় নিহত ৯ জওয়ান

সংবাদসংস্থা   ১৪ই মার্চ , ২০১৮

রায়পুর, ১৩ই মার্চ — এক বছরের মাথায় ছত্তিশগড়ে সুকমায় ফের বড়সড় হামলা চালাল মাওবাদীরা। মাওবাদীদের শক্তিশালী আই ই ডি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন কেন্দ্রীয় আধা সামরিকবাহিনীর (সি আর পি এফ) ৯ জওয়ান। দুজন জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন এই বিস্ফোরণে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারের মাধ্যমে রায়পুরে উড়িয়ে আনা হয়েছে বলে মঙ্গলবার সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

এদিন সুকমায় দুপুরে সাড়ে বারোটা নাগাদ মাইন প্রতিরোধক গাড়িতে করে জঙ্গল ঘেরা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন সি আর পি এফ-র ২১২তম ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা। গভীর জঙ্গলের ভিতর অভিযান চালাতে যাওয়ার সময় কিস্তারাম-পালোদি রাস্তায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ১০ফুট উচ্চতায় উড়ে গিয়ে পড়ে মাইন প্রতিরোধক গাড়িটি। রাস্তা থেকে বেশ কয়েক ফুট দূরে গিয়ে পড়ে গাড়িটি। বিস্ফোরণের জেরে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়িতে থাকা ৮জন জওয়ানই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। জওয়ানরা গাড়ি থেকে ছিটকে বেশ কিছুটা দূরে মাটিতে গিয়ে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে একজন জওয়ানের মৃত্যু হয়। দুজন জওয়ান আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই নাশকতা চালাতে আগে থাকতেই ওই রাস্তায় ৫০কেজিরও বেশি ওজনের বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছিল মাওবাদীরা। সি আর পি এফ-র মাইন প্রতিরোধক গাড়িটিও একসঙ্গে এত পরিমাণের আই ই ডি বিস্ফোরণের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে রাস্তা থেকে বেশ কিছুটা দূরে গিয়ে পড়ে। এর পরপরই ওই এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তাবাহিনীকে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে এই বিস্ফোরণে জড়িত মাওবাদীদের সন্ধানে আভিযানে নেমেছে পুলিশ।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। সি আর পি এফ-র ডিরেক্টর জেনারেল আর আর ভাটনগরকে দ্রুত ছত্তিশগড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। তিনি ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংয়ের সঙ্গেও এই বিষয়ে কথা বলেছেন। নিহত জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত জওয়ানদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।

সি আর পি এফ-র ডিরেক্টর জেনারেল আর আর ভাটনগর এদিন জানিয়েছেন সুকমার গভীর জঙ্গলের ভিতর পালোদি এলাকায় সদ্য তৈরি হওয়া চৌকিতে প্রহরারত সি আর পি এফ-র কোবরাবাহিনীর জওয়ানদের ওপর হামলা চালায় মাওবাদীরা। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ মাওবাদীরা ওই চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালালে জওয়ানদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ ধরে প্রচণ্ড গুলি বিনিময় হয়। এই হামলার জেরে পালোদির চৌকির উদ্দেশে দুটি মাইন প্রতিরোধক গাড়িতে করে রওনা দেন সি আর পি এফ-র জওয়ানরা। প্রথম গাড়িটি বিস্ফোরণের হাত থেকে কোনওক্রমে রক্ষা পেলেও দ্বিতীয় গাড়িটি বিস্ফোরণের মুখে পড়ে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে এই হামলার পিছনে মাওবাদী নেতা হিডমার হাত রয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির ১নম্বর ব্যাটেলিয়নের সদস্যরা এই হামলায় জড়িত। তারা বিশাল ইলেকট্রিক তারের মাধ্যমে দূর থেকে আই ই ডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। সুকমার পুলিশসুপার অভিষেক মীনা জানিয়েছেন, মাওবাদীদের বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন সি আর পি এফ-র ২১২তম ব্যাটালিয়নের অ্যাসিস্টেন্ট সাবইন্সপেক্টার কে এস তোমার, হেড কনস্টেবল লক্ষ্মণ, কনস্টেবল অজয় কুমার যাদব, মনোরঞ্জন লঙ্কা, জীতেন্দ্র সিং, শোভিত শর্মা, মনোজ সিং, ধর্মেন্দ্র সিং এবং চন্দ্রা এইচ এস। আহত জওয়ানরা হলেন মদন কুমার এবং রাজেশ কুমার। তাঁদের হেলিকপ্টারের সাহায্যে রায়পুরে নিয়ে আসা হয়েছে।

গতবছরই ১১ই মার্চ সুকমা জেলায় ভেজি এলাকায় মাওবাদীদের হামলায় ১২জন সি আর পি এফ জওয়ান নিহত হন। নিহত জওয়ানদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র লুট করে পালায় মাওবাদীরা। তার দিনকয়েক বাদেই ২৪শে এপ্রিল এই জেলাতেই ফের বড়সড় হামলা চালায় মাওবাদীরা। বরকাপাল এলাকায় ভয়াবহ হামলায় সি আর পি এফ-র ২৫জন জওয়ান নিহত হন। গত ৮বছরের মধ্যে এত বড় হামলা চালায়নি মাওবাদীরা। এদিকে, ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। এদিনের হামলায় নিহত জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি মাওবাদী সমস্যা নিয়ন্ত্রণে মোদী সরকারের ব্যর্থতা নিয়েও সরব হয়েছেন কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, এই সমস্য নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র দিশাহীন ও ভ্রান্ত নীতি চলছে কেন্দ্র। এই নীতির জেরেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বেহাল অবস্থায় পৌঁছেছে। মাওবাদীরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছিল তা নিছকই ফাঁকা বুলি ছিল। এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে এদিন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা।

Featured Posts

Advertisement