বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা, কথা
রাখেনি প্রশাসন তৃণমূল থেকে
মুখ ফেরাচ্ছে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা

জয়ন্ত সাহা

মাথাভাঙা : ১৬ই এপ্রিল— তৃণমূল ছক কষছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে। প্রথম দফায় বিরোধীদের মনোনয়ন তুলতে না দেওয়া আর এখন বিরোধীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করানোর জন্য হুমকি দিতে গ্রামে গ্রামে ছুটছে শাসকদলের বাইকবাহিনী।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশায় ক্ষোভে ফুঁসছেন। এলাকার বিধায়ক তথা বনমন্ত্রীর বাড়ির এলাকাতেই বেহাল সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা। উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ বলছেন ঘোকসাডাঙা, প্রেমেরডাঙা, পারাডুবির এলাকার মানুষ। ঘোকসাডাঙার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র আর প্রেমেরডাঙা ও পাড়াডুবির স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশার কারণে তৃণমূল থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

প্রেমেরডাঙা বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দান করা ৮বিঘা জমির ওপর বামফ্রন্ট আমলে গড়ে উঠেছিল উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখন সেখানে ৭দিনে মাত্র একদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য আসেন একজন চিকিৎসক। গত সাত বছর আগে শাসকদল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। আবার ঘোকসাডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল ফেরানোর কথা থাকলেও ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন নিজেই রুগ্‌ণ।

ঘোকসাডাঙার বাসিন্দা দীনবন্ধু দাস বলেন, শাসকদলের প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্যরা উন্নয়নের বরাদ্দ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। আর চলছে ঠিকাদাররাজ। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির কোনও চেষ্টাই দেখা যায়নি গত ৭ বছরে। ক্ষোভের সুর শোনা গেল প্রেমেরডাঙার বিধান বর্মণের গলাতেও। ২০১১ সালে তৃণমূলকে জেতাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি। মোহ কেটেছে তাঁরও। বললেন, মানুষের ক্ষোভের আঁচ পেয়েই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার প্রবণতা বাড়ছে তৃণমূলের। শান্তিপূর্ণ ভোট হলে অনেক হিসেব বদলে যাবে।  

বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবায় ক্ষুব্ধ মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধারণ মানুষ, এমনকি তৃণমূলের সাধারণ সমর্থকরাও। এখানেও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার জন্য গ্রামবাসীদের দেওয়া জমি পড়ে আছে। একাধিকবার দাবি জানিয়েও বিধায়ক, মন্ত্রী আর সাংসদের হুঁশ ফেরানো যায়নি। সাধারণ মানুষকে সামান্য অসুখে ছুটতে হচ্ছে মেখলিগঞ্জ অথবা জলপাইগুড়িতে।

২০১৪ সালের ১৭ই জুন স্বাস্থ্যদপ্তরের এক প্রতিনিধিদল এসে ঘুরে দেখে যান ওই ১২বিঘা জমি। তারপর আর কোনও ইতিবাচক সাড়া নেই স্বাস্থ্যদপ্তরের। চরচরা বাড়ি এলাকায় পূর্বতন সরকারের অধিগৃহীত জমি এখন বেদখল হয়ে দোকান আর বসতবাড়ি গজিয়ে উঠছে।   

স্বাস্থ্যদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা মুখ্যমন্ত্রীকে একটি আবেদনপত্র পাঠিয়েছিলেন। বাসিন্দাদের স্মারকলিপি পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে চিঠি গিয়েছিল স্বাস্থ্য ভবনে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর বলছে, আমরা প্রস্তাব রাজ্যে পাঠিয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে এখনো কোনও উত্তর আসেনি।

উছলপুকুরির বাদিন্দা ধীরাজ বসুনিয়া বললেন, এলাকার বিধায়ক থেকে সাংসদ কেউই আমাদের দাবি নিয়ে ভাবছেন না। আর সেই কারণেই সামান্য পরিষেবাটুকুও মিলছে না।

উছলপুকুরির শাসকদলের নেতারাও ভালো করে জানে মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন পড়বে ভোটের বাক্সে। আর তাই উন্নয়ন নয়, পঞ্চায়েত দখল করতে বিরোধীদের গায়ের জোরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানোর পথে হাঁটছে তৃণমূল।

অন্যদিকে, বামফ্রন্ট মানুষের জোট গড়ে লুটের হাত থেকে পঞ্চায়েত বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement