লিফলেটে সমস্যার কথা জানিয়ে
বিলি করছেন ভাবাদিঘিবাসীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৭ই এপ্রিল , ২০১৮

কলকাতা, ১৬ই এপ্রিল— সোমবার ভোর থাকতে থাকতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা গোঘাট স্টেশন। সকাল সাড়ে সাতটার গোঘাট লোকালে উঠেই ওঁরা বিলি করেছেন নিজেদের ভাষায় লেখা নিজেদের সমস্যার কথা। ‘ভাবাদিঘি বাঁচাও’ কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত লিফলেট সোমবার সারা দিন ধরে হাওড়া স্টেশনে, লঞ্চঘাটে কলকাতার রাস্তায় বিলি করেছেন ভাবাদিঘির মানুষরাই।

প্রকৃতপক্ষে ভাবাদিঘির সমস্যা কী, জলাশয় বাঁচিয়ে রেললাইন করার কথা কর্তৃপক্ষকে কতবার ভাবাদিঘির মানুষ বলেছেন, তা নিজেদের ভাষায় নিজেদের মতো করে লিখেছেন তাঁরা খোলাচিঠিতে। বুধবার সকালের প্রথম হাওড়ামুখী গোঘাট লোকালের কামরায় খোলাচিঠি বিলি করেছেন তাঁরা। মানুষকে জানিয়েছেন তাঁদের বক্তব্য। জীবন জীবিকা রক্ষায় ন্যায্য আন্দোলনের প্রতি বৃহত্তর নাগরিক সমাজের সমর্থন, সংহতি চাইতে ভাবাদিঘির মানুষ বিলি করেছেন সারাদিন ধরে নিজেদের ছাপানো লিফলেট।

গোঘাট থেকে প্রথমে শ্যাওড়াফুলি স্টেশন। স্টেশন চত্বরে পোস্টারিং, লিফলেট বিলির পর আবার শ্রীরামপুরে নেমে সাবওয়ের মুখে পোস্টার সাঁটা, লিফলেট বিলি। ভাবাদিঘির মানুষের হাত থেকে লিফলেট নিয়ে জেনেছেন মানুষ গত এক বছর ধরে কিভাবে শাসকদলের সন্ত্রাসে অবরুদ্ধ হয়ে আছে ভাবাদিঘি। শ্রীরামপুর থেকে আবার ট্রেনে চেপে হাওড়া স্টেশন। হাওড়া স্টেশনের সাবওয়েতে পড়েছে ভাবাদিঘির পোস্টার, বাস স্ট্যান্ডে, লঞ্চঘাটে বিলি হয়েছে লিফলেট।

‘তৃণমূল ও তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বার বার প্রচার করার চেষ্টা চলছে আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে, রেলপথের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা কখনোই রেলপথের বিরোধিতা করিনি, আমাদের বক্তব্য প্রথম থেকেই দিঘি বাঁচিয়ে রেলপথ হোক। দিঘিই আমাদের পেট চালায়। আমাদের নিজস্ব জমি নেই, দিঘি থেকে বছরে সাড়ে ছলক্ষ টাকার মাছ বিক্রির আয়ে আমাদের সংসার চলে। দিঘি চলে গেলে কোথায় দাঁড়াবো আমরা, দিঘি থাকুক, রেলগাড়িও চলুক। আমরা এটাই জানাতে চাই মানুষকে, যাতে তাঁরা তৃণমূল বা সরকারের মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত না হন’, বলেছেন ‘দিঘি বাঁচাও কমিটি’র সদস্যা ঝরনা পণ্ডিত।

আবেদন পত্রে ভাবাদিঘির প্রশ্ন, গত সাড়ে ছবছরে সরকারের কোনও প্রতিনিধি কেন সরেজমিনে দিঘিটুকু দেখতে এলেন না? বার বার কেবলমাত্র লোক ভোলানো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় গ্রামবাসীদের। হুগলির জেলাশাসক কেবল ত্রিপল ও ডজন খানেক ফুটবল নিয়ে কনভয় চেপে গ্রামে এসেছিলেন। ফুটবল আর ত্রিপল নিয়ে তাঁরা কি করবেন? জানতে চেয়েছে ভাবাদিঘি। আবেদন পত্রে তুলে ধরেছে ২০১৭ সালের ১৬ই মার্চের দিন জোর করে শাসকদলের মাটি ভরাট রুখে দেওয়ার পর থেকে কীভাবে একা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। কিভাবে গ্রামের মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দিনের পর দিন।

শুধু ভাবাদিঘি রেল প্রকল্প নয়, বরানগর-ব্যারাকপুর রুটে মেট্রোর কাজ বন্ধ কেন? কারা বন্ধ রেখেছে? বাগনান-আমতা প্রকল্পের কাজ হচ্ছে না কেন? বোঁয়াইচণ্ডী-আরামবাগ রেল প্রকল্পের কাজ বন্ধ কেন? বাঁকুড়া-মুকুটমণিপুর নতুন লাইন তৈরির কাজ বন্ধ কেন? জানতে চাইছে ভাবাদিঘি। শুধু ভাবাদিঘি নয় সরকারের দূরদৃষ্টি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় বন্ধ একাধিক রেল প্রকল্প। শুধু গরিব তফসিলি জাতিভুক্ত বলেই কি এত আক্রমণ ভাবাদিঘির ওপর? প্রশ্ন তুলেছেন ভাবাদিঘির মানুষ আবেদনপত্রে।

এদিনের লিফলেট বিলি কর্মসূচিতে মানুষের সাড়াও পেয়েছেন তাঁরা। অনেকেই নিয়েছেন ফোন নম্বর, পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন পথচলতি সহনাগরিকেরা। চলতি সপ্তাহেই নিজেদের কথা নিয়ে আবার বিষ্ণুপুর থেকে ময়নাপুর পর্যন্ত ট্রেনে চাপবেন ওঁরা। ইতিমধ্যেই গোঘাট লাগোয়া বাঁকুড়ার কোতলপুরেও হয়েছে লিফলেট বিলি। গোঘাট ও আশপাশের এলাকাগুলিতে রোজই চলছে লিফলেট বিলি।

Featured Posts

Advertisement