ত্রিভুজ ভেঙেই ফাইনালের
টিকিট চায় মোহনবাগান
চেনা শত্রুর বিরুদ্ধে চনমনে সুনীলরা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৭ই এপ্রিল , ২০১৮

ভুবনেশ্বর, ১৬ই এপ্রিল —‘ক্লাসিকোতে ত্রিভুজাতঙ্ক’।

ত্রিভুজ কয়প্রকার এবং কি কি? স্কুলে থাকাকালীন বাকি সব ছাত্রের মত নিশ্চয় এই প্রশ্নের উত্তরটা লিখতে হয়েছিল মোহনবাগান কোচ শংকরলাল চক্রবর্তীকে। তারপর সেই অঙ্ক বই, জ্যামিতির বক্সের খোঁজ করেননি। বহু বছর পর আবার ত্রিভুজ নিয়ে পড়াশুনা করতে হচ্ছে মোহনবাগান কোচকে। কখনও টিম মিটিংয়ের হোয়াইট বোর্ড বা সাদা কাগজ। বারবার ত্রিভুজ আঁকছেন শংকর। আর সেই সঙ্গেই বাতলে দিচ্ছেন এই ত্রিভুজকে ভেঙে ফেলার রাস্তাও।

মিকু, উদান্ত এবং সুনীল ছেত্রী। তিনটে বিন্দু হিসাবে ধরা যেতেই পারে। সবুজ মাঠে নামলেই এই তিনজনই নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন এক অদৃশ্য ত্রিভূজ। আর তাতেই ফালা ফালা হয়ে যায় বিপক্ষ রক্ষণ। কখনও ডানপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে যান উদান্ত। আবার কখনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিপক্ষ রাইট ব্যাক পরাস্ত হন সুনীলের কাছে। আর বাকি রক্ষণভাগ যখন এদের নিয়ে বিব্রত তখন আসল কাজটা সেরে ফেলেন মিকু। তবে ত্রিভুজটা এখানেই শেষ নয়। পিছন থেকে এসে এঁদের সাহায্য করেন লেনি, রাহুল ভেকে, শুভাশিস বোসরা।

শেষ কয়েক বছর ধরেই বেঙ্গালুরু-মোহনবাগান ম্যাচ ভারতের ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ভারতীয় ফুটবল মহলে এই ম্যাচের নামকরণও হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। ‘ইন্ডিয়ান ক্লাসিকো’। আর সেই ক্লাসিকোতে মোহনবাগানের চিন্তা বাড়াচ্ছে সেই ত্রিভুজই। টিম মিটিংয়ে বারবার শংকরলাল বুঝিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে ভেঙে দিতে হবে এই ত্রিভুজ। সঙ্গে মাঝমাঠে লোক বাড়িয়ে আটকে দিতে হবে এই ত্রিভুজের শক্তি বাড়ানোও। অনুশীলনে একবার শংকরলাল ডেকে নিচ্ছিলেন রিকিকে আবার পরক্ষণেই অরিজিতকে। কারণ মঙ্গলবারের ম্যাচে মোহনবাগানকে জিততে হলে দুই সাইডব্যাককে দুরন্ত খেলতেই হবে। মাঝমাঠে ওয়াটসনের উপর থাকছে বাড়তি দায়িত্ব। মিকুকে মাঝমাঠেই থামিয়ে দিতে চাইছেন শংকরলাল।অনুশীলন থেকে বাসে ওঠার সময় সুনীল ছেত্রী সম্বন্ধে একটা দারুণ কথা বললেন তাঁরই প্রাক্তন সতীর্থ ওয়াটসন। মোহনবাগানের এই নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার জানাচ্ছেন, ‘সুনীলেরও যে বয়স বাড়ছে একবারও কি মনে হয়? মনে হয় বছর পঁচিশের এক ফুটবলার খেলছে। ওর এই প্রাণবন্তভাবটাই ও গোটা দলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। যোগ্য নেতার মতো। তবে এই মরশুমে ও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে মিকুর জন্য। মিকু অনেকটা দায়িত্ব নিচ্ছে।’ সুনীলের সতীর্থ খাবরা থেকে কোচ রোচা। সবার মুখেই একটা কথা, সুনীল যোগ্য অধিনায়কই। মাঠে। মাঠের বাইরেও। তবে বেঙ্গালুরু কোচ অবশ্য একবারও মানতে রাজি নন যে তাঁরা এগিয়ে আছেন মঙ্গলবারের ম্যাচে। ‘ফুটবল খেলাটা কি নাম দিয়ে হয় নাকি? যেখানে বড় নাম তাঁরা জিতবে? খেলাটা মাঠে হবে। ওদেরও অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। লাজঙয়ের বিরুদ্ধে ওদের খেলা দেখেছি। যথেষ্ট ভারসাম্য আছে দলে’ প্রতিক্রিয়া অ্যালবার্ট রোকার। বেঙ্গালুরুতে আছেন বহু বছর ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলা খাবরাও। পাঞ্জাবি এই ফুটবলার জানাচ্ছেন ‘মোহনবাগানে অনেক ফুটবলার নেই এই বছর ঠিকই। তবে দলটা মোহনবাগানই।’

আর অন্যদিকে শংকরলাল চক্রবর্তী। রক্ষণাত্মক বরাবরের মতো। বেঙ্গালুরুকে নিয়ে গলায় সেই চেনা সমীহের সুর। আর মাথায় গত বছর ফেড কাপ ফাইনালের হারের প্রতিশোধ নেওয়ার ছক। ‘গত বছরের সেই হারটা আমি এখনও ভুলিনি। ম্যাচে রোকা ২-৩বার ছক বদলে বিপক্ষের সব পরিকল্পনা ঘেঁটে দেন। আর এই মোহনবাগান-বেঙ্গালুরু ম্যাচটা এখন ভারতের সেরা ম্যাচ। আমাদের জিততেই হবে’ জেদের সুর শংকরলালের। জেদটাই সঙ্গী শংকরলালের। জেদটাই সঙ্গী মোহনবাগানের। ধারে ভারে এগিয়ে থাকা বেঙ্গালুরু। সুনীল-মিকু-উদান্তর মতো ফুটবলার। আর সঙ্গে প্রতি দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা ভুবনেশ্বরের গরম। সব কিছুকে হারিয়ে দিতে জেদটাকেই অস্ত্র বানাচ্ছেন মোহনবাগান। আর সেই অস্ত্রেই ডিকারা ঘায়েল করতে চান ‘দ্য ব্লুজ’কে।

মোহনবাগান : বেঙ্গালুরু এফ সি (বিকাল ৪টা)

Featured Posts

Advertisement