আলোচনাসভায় অভিমত বক্তাদের
আক্রান্ত সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে
লড়াই জারি প্রগতিশীলদের

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৭ই এপ্রিল , ২০১৮

কলকাতা, ১৬ই এপ্রিল— এরাজ্যের শিক্ষা সংস্কৃতি ক্ষেত্রে যখন চরমতম অসহনীয় এক পরিবেশ বিরাজ করছে তখন হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের তাগিদে সোমবার আয়োজিত হলো শিক্ষাব্রতী প্রয়াত কৃষ্ণা মৈত্রের স্মরণ অনুষ্ঠান। পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘের একনিষ্ঠ সুহৃদ এই বিশিষ্ট মহিলা সমাজকর্মী প্রয়াত হন গত ২০০৩ সালের ঠিক এই দিনটিতেই। তারপর প্রতি বছর ধরেই তাঁর স্মরণে গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘের কলকাতা জেলার উদ্যোগে আয়োজিত হয়ে আসছে সময়ের প্রান্তে দাঁড়িয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি-সমাজ বিষয়ক আলোচনা। সেইসব আলোচনার স্মারক বক্তৃতাগুলির নিয়ে ইতিমধ্যে একটি সংকলন আগে প্রকাশিত হয়েছে। তার দ্বিতীয় প্রয়াস সম্পন্ন হবে আগামী বছর।

সোমবার বিকালে বাংলা আকাদেমিতে জীবনানন্দ সভাঘরে প্রয়াত কৃষ্ণা মৈত্রের এবারের স্মরণ-আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক অশোক চৌধুরি। সভার সঞ্চালক ছিলেন বেণু চট্টোপাধ্যায়। আলোচনার বিষয় ছিল ‘আক্রান্ত সংস্কৃতি: শিল্পীর স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা’। এই বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়। তিনি দেশ, রাজ্য ও বিশ্বজুড়ে তথাকথিত বিশ্বায়নের সংস্কৃতির ধারক বাহকদের উন্মত্ত বর্বরতা ও তার ভয়াবহ পরিণতির নানা দিক তুলে ধরেন। মানবিকতার ওপর উলঙ্গ আক্রমণগুলির আখ্যান ও উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দেখান, আজ আমাদের দেশ ও রাজ্যেও তারই তল্পীবাহকেরা গণতন্ত্র, জীবনের বিকাশের সব দিকে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে। যদিও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধটাও সত্য। প্রগতিবাদীদের এই ধারাবাহিকতার লড়াই জারি আছে আমাদের রাজ্যেও। আমরা আশাবাদের সঙ্গে এই বিষয়টি অনুধাবন করে যাব। কেন না জীবনের কাছে সংগ্রাম ছাড়া আর কিছুই সত্য নয়।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা আঘাতে আঘাতে সভ্যতা ও মূল্যবোধের সব নির্মাণগুলি ধ্বংস করতে উদ্যত তখন আমরা চলি প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের শপথ নিয়ে সমুখপানে। আমরা জানি, আমাদের এই শপথ অটুট। তাকে বিধ্বস্ত করার সমস্ত অপপ্রয়াস পর্যুদস্ত হবেই। আমাদের স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশ করতে যত বাধাই ওরা দিক হার ওদের মানতেই হবে। এটাই ইতিহাসের বীক্ষা।

এদিন এই আলোচনা শুরুর আগে প্রয়াত কৃষ্ণা মৈত্রের জীবন প্রতিভা, তাঁর সুস্থ শিক্ষা ও সংস্কৃতি চেতনার পথ পরিক্রমা নিয়ে একটি স্মারকলিপি পাঠ করেন সমীর মৈত্র। সংগীত পরিবেশন করেন মৃগাঙ্ক সরকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের ওপর যে বীভৎস নিগ্রহের ঘটনা ঘটে চলেছে তার নিন্দা করে শ্রদ্ধা জানিয়ে পালিত হয় কিছুক্ষণের নীরবতা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement