আউশগ্রামে মেলায় গিয়ে
দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার
আদিবাসী কিশোরী

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৭ই এপ্রিল , ২০১৮

আউশগ্রাম, ১৬ই এপ্রিল — চড়কমেলায় গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলো এক আদিবাসী কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার গভীর রাতে আউশগ্রাম থানার বন নবগ্রাম এলাকার জঙ্গলে। সোমবার সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গলে ধর্ষিতা কিশোরীকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় মানুষ আউশগ্রাম থানার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ওই কিশোরীকে আউশগ্রাম থানায় নিয়ে আসে। এদিনই তার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু গোটা ঘটনাকে আউশগ্রাম থানার পুলিশ চাপা দেবার চেষ্টা করে চলেছে। থানার আই সি জানিয়েছেন, ওই কিশোরী নাকি নিজের ইচ্ছাতেই গিয়েছিল দুষ্কৃতীদের সাথে!

কিন্তু গ্রামবাসীদের বিবরণ অনুযায়ী, প্রকৃত ঘটনা হলো, হলদি দেপাড়া থেকে দলবদ্ধভাবেই আউশগ্রামের যাদবগঞ্জের চড়কমেলায় গিয়েছিল ওই কিশোরী ও আরও অনেকে। ১৬ বছরের এই কিশোরী চড়কমেলায় ঘুরতে ঘুরতে দলছুট হয়ে পড়ে। রাত গভীর হয়ে যায়। মেলায় চারজন যুবক যারা দুটি বাইক নিয়ে ঘুরছিল তাদের কাছেই ঝাড়গড়িয়াতে আত্মীয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেবার জন্য সাহায্য চায় ওই কিশোরী। ওই যুবকরা তাকে বাইকে নিয়ে মেলা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বন নবগ্রাম জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর উপর পাশবিক অত্যাচার করে চার যুবক। রাতভর নির্যাতনের পর ছেড়ে পালায় ধর্ষিতাকে দুষ্কৃতীরা। ভোরবেলা জঙ্গল থেকে ওই ধর্ষিতা রাস্তায় এলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পায় স্থানীয় মানুষ। তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ধর্ষিতাকে প্রথমে থানায়, সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এনে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করায়। কিন্তু ঘটনার পর সোমবার রাত পর্যন্ত ওই চার যুবককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশের কাছে ওই ধর্ষিতা কিশোরী সমস্ত ঘটনা খুলে বললেও কেন অপরাধীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারলো না? যাদবগঞ্জ মেলা চত্বরে এই ঘটনার কথা আদিবাসীদের মধ্যে প্রচার হলে তা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পুলিশ মেলা চত্বরে থাকলেও কেন এমন ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদিবাসীদের নিরাপত্তার প্রশ্নই বড় আকারে উঠে এসেছে। আউশগ্রাম থানার পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে ধর্ষিতাকেই অপরাধী সাজিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ওই কিশোরী নাকি স্বেচ্ছায় গিয়েছিল। যদিও পুলিশের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন ধর্ষিতার পরিবার। তাঁদের দাবি পুলিশ অপরাধীদের আড়াল করতেই এই গল্প ফেঁদেছে।

শুধু এই ঘটনা নয়, এর আগে আউশগ্রাম থানার গুসকরা শহরে কালীপুজোর সময় রাতে আদিবাসী মহিলাদের শ্লীলতাহানি করেছিল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তারপর আদিবাসীরা জোটবদ্ধভাবে অপরাধীদের চিহ্নিত করে প্রতিবাদে শামিল হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিনের ঘটনাতেও আদিবাসী সমাজ ক্ষোভে ফুঁসছে। যদি অপরাধীরা ধরা না পড়ে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয় তাহলে বড় ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে পুলিশ ও প্রশাসনকে। আউশগ্রাম থানার আই সি জানিয়েছেন, ধর্ষিতা ওই কিশোরীর শারীরিক অবস্থা এখন ভাল। তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

Featured Posts

Advertisement