তৃণমূলীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব সংবাদদাতা   ২০শে এপ্রিল , ২০১৮

সিউড়ি, ১৯শে এপ্রিল — এ কেমন শাসকদল, যাদের গণতন্ত্রে বিশ্বাস নেই!যদি উন্নয়ন করেই থাকে তাহলে তো মানুষ এমনিতেই ভোট দেবে। মারধর, শাসানির কি প্রয়োজন? জোর করে পঞ্চায়েত দখলেরই বা প্রয়োজন কি? কথাগুলি বলেন, ৮৫ বছরের প্রবীণ শিক্ষক ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য মোস্তাক আহমেদ। তাঁর বাড়ি মুরারই ১ ব্লকের ডুমুরগ্রাম পঞ্চায়েতের কনকপুর গ্রামে। তিনি বলেন, জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হয়েই কংগ্রেসী পঞ্চায়েতে বাস্তু ঘুঘুর বাসা ভেঙে দিয়ে বলেছিলেন। ১৮ বছর ধরে কংগ্রেস পঞ্চায়েত নির্বাচন করেনি। ১৯৭৮ সালে প্রথম ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোট হয়। সেই ভোটে আমিই সি পি আই (এম)-র সদস্য নির্বাচিত হই গ্রাম পঞ্চায়েতে। তিলে তিলে গড়ে তোলা হয়েছে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট থেকে যাবতীয়। মানুষ ফিরে পেয়েছিলেন গণতান্ত্রিক অধিকার। আর তৃণমূল ক’বছরেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটাকেই হত্যা করেছে। বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে দিচ্ছে না।

এই জেলায় ১৯টি পঞ্চায়েত সমিতি ও ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত। নির্বাচনের আগে থেকেই বিরোধীশূন্য পঞ্চায়েত গঠনের হুমকি দিচ্ছে শাসকদল। অস্ত্র, বোমা নিয়ে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ঝাঁপিয়ে পড়ছে বিরোধীদের ওপর। ৫ই এপ্রিল নলহাটিতে শাসকদলের আক্রমণে গুরুতর জখম হয়েছিলেন সি পি আই (এম) নেতা ডাঃ রামচন্দ্র ডোম ও বীরু লেট। পরে প্রতিরোধ করে সেখানে বিরোধীরা মনোময়ন জমা দেন। এইভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে ১৯টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ১৪টি পঞ্চায়েত সমিতির গ্রাম পঞ্চায়েত, সমিতির আসন এবং ৪২টি জেলা পরিষদের আসন জবর দখল করে তৃণমূলীরা।

জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি ব্রজ মুখার্জি বলেন, ৩৪ বছর ধরে বীরভূম জেলা পরিষদ বামফ্রন্টের ছিল। কোনওদিন এভাবে পঞ্চায়েত ভোট হয়নি। তৃণমূল গণতন্ত্রের ওপর যে ভাবে আক্রমণ নামিয়ে এনেছে তা নজিরবিহীন। এর বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement