বি এস এন এল-র মোবাইল
টাওয়ারের কাজ বেসরকারি
হাতে, ক্ষোভ কর্মীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি   ২০শে এপ্রিল , ২০১৮

কলকাতা, ১৯শে এপ্রিল— বি এস এন এল–র প্রয়োজনীয় টাওয়ার সংস্থাপন ও পুরানো টাওয়ারগুলির সংস্কারের কাজ সংস্থার হাতে না রেখে তা বেমালুম তুলে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি নানা সংস্থার হাতে। এটি কেন্দ্রীয় সরকারেরই সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ বি এস এন এল-এর বড় অংশের আধিকারিক ও বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের কথা শোনা হচ্ছে না। তাঁরা তাঁদের প্রতিবাদ ও ক্ষোভের কথা প্রথমেই জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত নিগম হলেও তাকে ঘুর পথে পঙ্গু করে দেওয়ার এই চক্রান্ত মেনে নিতে রাজি নন বি এস এন এল–এর কোনও স্তরের কর্মীরা। তাই বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকার তথা বি এস এন এল কর্তৃপক্ষের এই গা জোয়ারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলছেন। তারই অঙ্গ হিসাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে অল ইউনিয়নস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনস অব বি এস এন এল–এর আহ্বানে কলকাতায় টেলিফোন ভবনে ধরনা এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হলো। তার আগে প্রতিটি সংগঠনের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা দলবদ্ধভাবে যান রাজ্যপালের কাছে, তাঁর হাতে এই স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

রাজভবন থেকে ফিরে এসে নেতৃবৃন্দ জানান, রাজ্যপালের পক্ষে তাঁর সচিব স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। সচিব জানিয়েছেন, তিনি এই স্মারকলিপি পাঠিয়ে দেবেন কেন্দ্রীয় টেলি যোগাযোগ ও দূর সঞ্চার মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে। সঙ্গে রাজ্যপালের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধও থাকবে।

এদিনের কর্মসূচিতে প্রতিবাদ আন্দোলনের বিষয় এবং এর আশু সমাধানের দাবির সমর্থনে বক্তব্য রাখেন বি এস এন এল ইউ–র সার্কেল সম্পাদক শিশির রায়, এ আই বি এস এন এল ই এ–র পক্ষে শুভাশিস মিত্র, এন এফ টি ই ও–র পক্ষে শেখর মুখার্জি, এফ এন টি আই ও–র অলোক নন্দী, এস এন ই পি–র সৌমেন ঘোষ এবং এ আই জি টি ও এ–র সৈকত দাস। তাঁরা বলেন, কোনও অবস্থাতেই বি এস এন এল-এর বাণিজ্যিক ক্ষতি মুখ বুজে সহ্য করা হবে না। আরও বড় প্রতিবাদ হবে। এবার প্রতিবাদ আন্দোলন হবে সংস্থার সমস্ত স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও ঠিকা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে। কলকাতার মধ্যে তা সীমায়িত আর থাকবে না। সারা দেশে এর প্রতিবাদ হবে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে বি এস এন এল-এর অন্তর্ভুক্ত ১ লক্ষ ২৫ হাজার মোবাইল টাওয়ার প্রতিস্থাপনের কাজ করছে বহুজাতিক বেসরকারি সংস্থার ঠিকাদাররা। তারা মূল চুক্তির শর্তও লঙ্ঘন করে চলেছে। এই কাজে থাকছে না সংস্থার কোনও কর্তৃত্ব বা নজরদারি। এসবের পরিচালন ব্যবস্থাতেও সংস্থার কোনও কর্তৃত্ব থাকছে না। এই বিপদ শুধু সংস্থার আধিকারিক ও কর্মীদের নয়। দেশের নিরাপত্তার সামনেও তা বড় বিপদ হয়ে উঠছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement