মা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি বলেই
ছেলেকে খুন, অভিযোগ বাবার

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৬ই মে , ২০১৮

স্বরূপনগর, ১৫ই মে— ‘স্ত্রী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি বলে আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।’ মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমের কাছে এমনই অভিযোগ করলেন দিলীপ সরকার। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের খবর দেয়। তারা তখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। সি পি আই (এম) কর্মীরা খবরটা শুনে ভেঙে পড়বে সেই কারণে তখনকার মতো বুকে পাথর চাপা দিয়ে পুত্রশোকের কথা কাউকে জানাননি পার্টির একনিষ্ঠ কর্মী দিলীপ সরকার। নির্বাচন মিটে গেলে স্ত্রী ও অন্যদের জানান সুশংকর (২৫) আর বেঁচে নেই। খবর জানাজানি হতেই স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়া খালপাড় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ময়নাতদন্তের পর সোমবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

শাসকদলের দুষ্কৃতীরা ষড়যন্ত্র করে তার ছেলেকে খুন করেছে। অভিযোগ করলেন স্বরূপনগর বাংলানী গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৮নং বুথের প্রার্থী যমুনা সরকার। ‘ওরা বহুবার আমাকে ফোন করে হুমকি দেয় নমিনেশন তুলে নিতে। বলে ভোটে যদি লড়িস তোর স্বামী, ছেলেকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেব। বংশে বাতি দেওয়ার কাউকে রাখবো না। কিন্তু আমি ওদের হুমকি পাত্তা না দিয়ে স্পষ্ট বলে দেই আমরা আগা মাথা সি পি আই (এম) করি। নমিনেশন তুলবো না। ভোটের আগের দিন রাত ১১টা নাগাদ আমার ছেলে শেষ ফোনটা করে। তৃণমূলীরা বারবার হুমকি, খিস্তি খেউর দিচ্ছে বলে ফোনটা বন্ধ রেখেছিলাম।’

দিলীপ সরকার জানান, তার ছেলে স্ত্রী সুমিতাকে নিয়ে মছলন্দপুরে ভাড়াবাড়িতে বাস করতো। দমদম বিমানবন্দরের কাছে একটি দোকানে কাজ করতো। ভোট দিতে ওর স্ত্রী দক্ষিণ ২৪পরগনার নামখানায় বাপের বাড়ি চলে যায়। ছেলে একাই বাড়িতে ছিল। ১৪ই মে ভোট দিতে আসার কথা।

দিলীপ সরকার জানান, ছেলের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারলাম ঘরের জানালার কাছে গলায় গামছার ফাঁস জড়ানো অবস্থায় ছেলে আমার বসেছিল। পাশে ভাতের থালা। সেখানকার অনেকেই আমাদের জানিয়েছে ও আত্মহত্যা করেনি। নিঃশব্দে কারা ওকে খুন করে চলে গেছে। কারণ তাঁর ছেলেকে, তাদের বহুবার খুনের হুমকি দিয়েছিল তৃণমূল দুষ্কৃতীরা। জানালেন দিলীপ সরকার। তিনি এই ঘটনার সত্যতা জানতে চান। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি চান, পুলিশ অপরাধীকে খুঁজে বার করুক। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস সুশংকর আত্মহত্যা করতে পারে না। এই একই দাবি মঙ্গলবার করলেন সুশংকরের স্ত্রী সুমিতা সরকার।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement