ঔরঙ্গাবাদ দাঙ্গায় পুলিশের
ভূমিকা খতিয়ে দেখবে সিট

সংবাদসংস্থা   ১৬ই মে , ২০১৮

ঔরঙ্গাবাদ, ১৫ই মে— পুলিশ গত সপ্তাহে ঔরঙ্গাবাদের সাম্প্রদায়িক হিংসা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। শহরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মঙ্গলবার অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল বিপিন বিহারী সাংবাদিকদের কাছে কবুল করেছেন, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। তিনি জানান, দাঙ্গায় পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ঔরঙ্গাবাদের অস্থায়ী কমিশনার মিলিন্দ ভারাম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছেন।

বেআইনি জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান ঘিরে গত শুক্রবার রাত থেকে মধ্য মহারাষ্ট্রের এই শহরে গোষ্ঠী সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নতুন করে হাঙ্গামা ঠেকাতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। বন্ধ রাখা হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। লোকজন যাতে বেশি সংখ্যায় জড়ো হতে না পারে তার জন্য গোটা শহরেই ১৪৪ধারা জারি ছিল।

সেই রাতে পুলিশের গুলিতে এক ১৭বছরের তরুণের মৃত্যুর পাশাপাশি বছর ৬৫-র এক দোকানিরও মৃত্যু হয়েছিল। কয়েকদিন ধরেই ঔরঙ্গাবাদ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অসন্তোষ ছিল। পৌরসভা বেআইনি জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযানে নেমেছে। শুক্রবার পৌরকর্মীরা জলের লাইন কেটে দেয় মোতি কারানজা এলাকার একটি প্রার্থনাস্থলের। তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। প্রশ্ন ওঠে এক সম্প্রদায়ের জলের লাইন কাটা হলেও আরেকটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থানে কীভাবে বেআইনি জলের সংযোগ থেকে যায়। তা নিয়েই দ্রুত অসন্তোষ ছড়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায়।

শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ শহরের গান্ধীনগর, রাজাবাজার, শাহগঞ্জ এবং সরাফা এলাকায় সংঘর্ষ সাম্প্রদায়িক চেহারা নেয়। একে অপরকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানোর পর গুলিও চালায়। সেই সময়ই স্থানীয় এক যুবকের মৃত্যু হয় গুলিবিদ্ধ হয়। পরের পর দোকানে আগুন লাগানো শুরু হয়। প্রায় ১০০টি দোকানে আগুন লাগানো হয়। ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। প্রায় ৮০টি গাড়ি পুড়িয়েও দেওয়া হয়। আগুনে জ্বলতে থাকা একটি ঘরে আটকে পড়ে নিহত হন বছর পঁয়ষট্টির এক দোকানী। পুলিশ জানিয়েছিল উড়ে আসা ইটের ঘায়ে বাহিনীর দশজন কর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত জনা ষাটেকের মধ্যে ১০জন মহিলাও ছিলেন। এদিন পুলিশের শীর্ষ কর্তা স্বীকার করে নিলেন যে পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ সেদিন ব্যর্থ হয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement