ভোটে লুটে ব্যর্থ হয়ে রাতে গ্রামের
বাড়িগুলিতে আগুন ধরাল তৃণমূলীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৬ই মে , ২০১৮

উলুবেড়িয়া, ১৫ই মে— সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে ফিরে গিয়ে গভীর রাতে বাগনানের বীরকুলে তৃণমূলের বহ্ন্যুৎসব। ভোট লুট না করতে পারার প্রতিশোধ নিল পৈশাচিক বর্বরতায়। বীরকুল গ্রামের ২৫টি বাড়িতে আগুন লাগালো খুনে বাহিনী। চলল প্রতিশোধের বিজয় উল্লাস। বাগনান ২নম্বর ব্লকের বাটুল বৈদ্যনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বীরকুল গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ভোট লুট করতে এসে গ্রামের মানুষের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে তৃণমূল বাহিনী। মূলত কয়েকশো গরিব কৃষক, খেতমজুর পরিবারের বাস এই গ্রামে। সোমবার সারাদিন ধরে বাটুল বৈদ্যনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একের পর এক বুথ দখল চলতে থাকে। বিকাল পর্যন্ত বীরকুল গ্রামের মানুষের মেজাজ দেখে ওই বুথের ধারে কাছে ঘেঁষেনি লুটেরার দল।

বিকাল ৫টা নাগাদ ভোটের নির্ধারিত সময় প্রায় শেষের পথে। জমি থেকে কাজ শেষে এই গ্রামের প্রায় ৩০০ মানুষ ভোটের লাইনে এসে দাঁড়ান নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য। মাঠের কাজ সেরে শেষের দিকে ভোট দেওয়ার এই রেওয়াজ তাঁদের দীর্ঘদিনের। কারণ ভোটের জন্য দিনের আয়ের ক্ষতি করতে পারেন না পেটের জ্বালায়। ভোটে লাইন দিয়ে তাঁরা প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে নিয়মমাফিক ভোট স্লিপের দাবি করেন। ভোট স্লিপ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেন অফিসার। এই সময়কে বেছে নেয় তৃণমূল। তৃণমূল বাগনান বিধানসভা কেন্দ্রের নেতা মলয় সাহার নেতৃত্বে বুথে হামলা চালানো হয়। কয়েকশো বহিরাগতকে ভোটের লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। যাদের অনেকেরই বাঁ হাতের তর্জনীতে ভোটের কালির দাগ। ভোটের লাইনে দাঁড়ানো গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করলে বচসা শুরু হয়। এরপর তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ভোটের লাইনে দাঁড়ানো গ্রামবাসীদের মেরে তাড়িয়ে দেয়। বুথে ঢুকে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা যখন ছাপ্পা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রামবাসীরা রুখে দাঁড়ান। ঘর থেকে গ্রামের মহিলারা ঝাঁটা, বটি নিয়ে বেরিয়ে আসেন। প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে বুথ থেকে পালানোর সময় তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা ব্যালট বাক্সগুলো পুকুরে ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।

গ্রামবাসীদের হাতে তাড়া খাওয়ায় তৃণমূলের আঁতে ঘা লাগে। রাতেই গ্রামে হামলা চালায় তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। শরৎচন্দ্র এবং ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েতে দুষ্কৃতীরা জড়ো হয় তৃণমূল নেতা মানি সরকারের নেতৃত্বে। গ্রামে হামলা চালিয়ে তারা একের পর এক গরিব গ্রামবাসীর ঘরে আগুন লাগাতে থাকে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় অটোতে ও ইঞ্জিন ভ্যানে। পোড়ানো হয় কয়েকটি বাইক। গরিব কৃষিজীবী মানুষের ঘরে চলতে থাকে নির্বিচারে লুটপাট। ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালায় গ্রামবাসীরা। স্থানীয় একটি পুকুরে বিষ ঢেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রায় ২৫টি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর বিজয়োল্লাস করতে করতে গ্রাম ছাড়ে তারা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement