নীরব মোদীদের বিরুদ্ধে
দ্বিতীয় চার্জশিট দাখিল

সংবাদসংস্থা   ১৭ই মে , ২০১৮

মুম্বাই, ১৫ই মে— নীরব মোদীর বিরুদ্ধে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (পি এন বি) জালিয়াতি নিয়ে বুধবার দ্বিতীয় চার্জশিট পেশ করল সি বি আই। একইসঙ্গে পি এন বি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঊষা অনন্তসুব্রহ্মণ্যমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। লেটার অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এল ও সি)-র মাধ্যমে যে জালিয়াতি করে ব্যাঙ্কের টাকা লোপাট করা হয়েছে তা প্রমাণ হিসাবে দাখিল করা হয়েছে এই চার্জশিটে। ১কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে ব্যাঙ্কের কর্মী গোকুলনাথ শেঠির থেকে এই এল ও সি জোগাড় করেছিল নীরব মোদী ও মেহুলা চোকসিরা। চার্জশিটে এই তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, হীরে জহরত অলঙ্কার কারবারের নামে জালিয়াতি করে ব্যাঙ্কের টাকা লোপাট করে নীরব মোদী ও মেহুলা চোকসি এখন বিদেশে চম্পট দিয়েছে। তাদের কোন হদিশ পায়নি সি বি আই। এতে মোট ১৭জনের বিরুদ্ধে দুদফায় চার্জশিট দিয়েছে সি বি আইঁ। যে হীরে জহরতের প্রতিষ্ঠানের নাম চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো গীতাঞ্জলি জেমস, গিলি ইন্ডিয়া ও নক্ষত্র লিমিটেড। এরই সঙ্গে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (পি এন বি) অনাদায়ী ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪হাজার ৩৫৭কোটি টাকা। এই অনাদায়ী ঋণের সিংহভাগই নীরব মোদীর জালিয়াতির কারণে লোপাট হওয়া টাকা।

হীরে ও অলঙ্কারের নকশার ব্যবসায়ী নীরব মোদী এবং তাঁর সহযোগীদের জালিয়াতি প্রথম নজরে আসে মুম্বাইয়ে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ব্রাডি হাউস শাখায়। ওই শাখার ‘অলঙ্কার ও রত্ন’ ক্ষেত্রের হিসাবে ভয়ানক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দেখা যায়, ব্যাঙ্কের ‘সুইফট মেসেজিং ব্যবস্থা’র অপব্যবহার করে ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির বিদেশি শাখায় বহু ‘লেটারস অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ এবং ‘ফরেন লেটার অব ক্রেডিট’ দেওয়া হয়। এই ‘লেটারস অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ এবং ‘ফরেন লেটার অব ক্রেডিট’ এখন তদন্ত করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। কারণ এর মাধ্যমেই জালিয়াতি করা হয়েছিল বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের।

এই বিশাল অঙ্কের জালিয়াতিতে বড় ধরনের ভূমিকা থাকার জন্য নীরব মোদী, তাঁর ভাই নিশাল মোদী এবং সংস্থার অন্যতম কর্তা সুভাষ পরবের বিরুদ্ধে সোমবারই একদফা চার্জশিট দাখিল করেছে সি বি আই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement