লালকেল্লার বেসরকারিকরণ
উদ্যোগের সরব প্রতিবাদ
জানালেন বিশিষ্টজনেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৭ই মে , ২০১৮

কলকাতা, ১৬ই মে— ভারতের ঐতিহ্যপূর্ণ স্থাপত্য লালকেল্লা বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ জানালেন বিশিষ্টজনেরা। বুধবার কলকাতার রাণুছায়া মঞ্চে এক সভায় তীব্র ক্ষোভে সোচ্চার হন তাঁরা। এই সমাবেশেই এক বার্তা পাঠিয়ে ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব বলেছেন, এখনই যদি দেশজুড়ে আমরা প্রতিবাদে সোচ্চার হই, তাহলে পিছু হটতে বাধ্য হবে সরকার।

এদিন সভার সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার। বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেন, অধ্যাপক রঞ্জিত সেন, সমীর রক্ষিত, শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়, অরবিন্দ সামন্ত প্রমুখ। প্রতিবাদ জানিয়ে কবিতা পাঠ করেন রজত বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিবেশন করেন শুভপ্রসাদ নন্দীমজুমদার ও যাদবপুর অভিযান। সভা পরিচালনা করেন অধ্যাপক সুস্নাত দাশ। পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এই সভায়।

ভারতের বিভিন্ন স্থাপত্য নির্মাণ ও ভবনগুলিকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চাইছে না ভারত সরকার। কেন্দ্রের পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রক ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের হাত থেকে নিয়ে তা বেসরকারি বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রয়াস নিয়েছে। যেমন লালকেল্লা চলে যাচ্ছে বেসরকারি সিমেন্ট সংস্থার হাতে। এই ধরনের প্রাচীন শিল্পকর্ম রক্ষণাবেক্ষণের কোনও অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা ওই বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির নেই। এই কাজ কেন্দ্রীয় সরকারের হটকারিতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় বলে মন্তব্য করে সভায় উপস্থিত বিশিষ্টরা বলেন, এতে ইতিহাস বিকৃতির সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

আমাদের সংস্কৃতি বিপন্ন— এদিন এই মন্তব্য করে পবিত্র সরকার বলেন, যেভাবে দেশ বিকিয়ে যাচ্ছে তা আমাদের লজ্জা। এই ধরনের কাজে সাধারণত টাকার হাতবদল হয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও কি তাই হয়েছে? লালকেল্লার ইতিহাস বড় গৌরবের। আমরা ভারতীয় হিসাবে অত্যন্ত বিপন্ন ও অসহায়বোধ করছি। চন্দন সেন বলেন, একই সঙ্গে দেশ বিক্রি, ঐতিহাসিক স্থান বিক্রি ও ইতিহাস বিকৃতি চলছে। এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন তো করতেই হবে। সভায় বিভিন্ন বক্তারা বলেন, একসময়ে এই লালকেল্লা থেকেই ভারত শাসন চলতো। স্বাধীনতার পর প্রথম পতাকা উড়েছিল এখান থেকেই। স্থাপত্য-ভাস্কর্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন এই লালকেল্লা। সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪৩ সালে পূর্ব এশিয়া থেকে যে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেন তারও অভিমুখ ছিল লালকেল্লা। এই ভবন দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতির প্রতীক। সেই লাল কেল্লার ওপরেই কোপ! অবিলম্বে এই নিন্দনীয় কাজ বন্ধ করতে হবে সরকারকে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement