কথা বলা শেখানো কেন্দ্রে মাথা
ফাটলো শিশুর, ধৃত শিক্ষিকা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৭ই মে , ২০১৮

কলকাতা, ১৬ই মে— বয়স মোটে আড়াই বছর। ভাল করে কথা বলতে পারে না। তাই স্পিচ থেরাপিস্ট-র কাছে গিয়েছিল পরিবার। কিন্তু সেখানে গিয়ে ওই শিশু এমন নির্যাতিত হবে কে জানত!

অধৈর্য স্পিচ থেরাপিস্টের মারে মাথা ফাটল শিশুর। খাস কলকাতায় এমন ঘটনায় বিস্মিত অনেকে। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবির ভিত্তিতে ওই স্পিচ থেরাপিস্টকে গ্রেপ্তার করল চারু মার্কেট থানার পুলিশ। ধৃত ওই শিক্ষিকার নাম চৈতালী মুখার্জি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুপুত্রকে প্রিন্স বক্তিয়ার শাহ রোডের একটি বেসরকারি থেরাপি সেন্টারে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন বেহালার দম্পতি অভীক ও কথাকলি মালাকার। সোমবার ছিল দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিন যাওয়ার পর আড়াই বছরের আদ্রিক মালাকার আর সেখানে যেতে চাইছিল না ওই স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে। তবু কথার উন্নতি হবে এই ভেবে তাঁকে একপ্রকার জোর করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার মর্মান্তিক পরিণাম ঘটল আদ্রিকের। শিক্ষিকা চৈতালী মুখার্জির শারীরিক অত্যাচারে মাথা ফাটল ছোট্ট আদ্রিকের।

মালাকার দম্পতি জানিয়েছেন, থেরাপির নিয়ম মেনেই চিকিৎসার সময় মা-বাবাকে থাকতে দেওয়া হয় না। তাই আদ্রিকের মা কথাকলি ‘স্পিচ প্লাস’ নামে ওই থেরাপিস্ট সেন্টারের রিসেপশনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এরপরে ওই অত্যাচারের কথা নিজ মুখেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ওই মহিলা।

কথাকলি মালাকার জানাচ্ছেন, ‘‘আদ্রিক ঢোকার কিছুক্ষণ পর থেকেই থেরাপিস্টের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। তার পর দেখলাম, হঠাৎ রিসেপশনে একটা ফোন এল। তারপরই এক কর্মী ওপরে স্যাভলন আর তুলো নিয়ে দৌড়ালো। দেখে আমার সন্দেহ হয়। আমিও পিছন পিছন গেলাম। গিয়ে দেখি, আমার ছেলে মেঝেতে পড়ে রয়েছে। মাথার পিছন দিয়ে রক্ত ঝরছে।’’

ওই রক্তাক্ত অবস্থাতেই আদ্রিককে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান কথাকলি। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন ছেলের সঙ্গে সামান্য কথা বলেই মা কথাকলি বুঝে যান, থেরাপিস্ট আদ্রিককে মারধর করেছেন। সময় নষ্ট না করে তাই চারু মার্কেট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করে মালাকার দম্পতি। তদন্তের শুরুতেই থেরাপি সেন্টার থেকে সি সি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ওই ফুটেজ মা কথাকলি দেখেছেন। সেখানে পরিষ্কার দেখা গিয়েছে, কত নৃশংসভাবে আদ্রিককে মারধর করছে ওই থেরাপিস্ট।

প্রথম থেকেই ওই শিক্ষিকার কাছে থাকতে চাইছিল না আদ্রিক। ওকে বোঝানোর বদলে উলটে গায়ের জোরে আড়াই বছরের শিশুকে আটকে রাখছেন ওই শিক্ষিকা। এই ঘটনায় ওই চিকিৎসা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদ্রিকের বাবা অভিযোগ করেছেন, ওর মাথায় আঘাত করা হয়েছে। আঘাত এতটাই জোরাল যে মাথায় ফুটো হয়ে রক্ত বেরোতে থাকে। আবার ধৃত শিক্ষিকা পালটা অভিযোগ করেছেন আদ্রিকের বাবার বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, বাচ্চাটির বাবা অভীক মালাকার তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন। তাঁকে নাকি চড় মেরেছেন। অথচ তদন্তে তা পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ পাওয়ার পর চারু মার্কেট থানার পুলিশ ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে মঙ্গলবার চৈতালী মুখার্জিকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁকে জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত আদ্রিকের মা। তিনি বলেছেন, ‘‘এখনও আদ্রিক সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এখনও ওর চোখেমুখে ভয়।’’ এই ভয় কাটাতে আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা ভাবছে বেহালার ওই পরিবার।





Current Affairs

Featured Posts

Advertisement