ফের গণহত্যা

  ১৭ই মে , ২০১৮

চার বছর পর ফের গণহত্যায় মেতে উঠেছে নরেন্দ্র মোদীর ভারতের অতি ঘনিষ্ঠ ইজরায়েল। সেবার সরাসরি প্যালেস্তাইন ভূখণ্ড গাজায় গুলি, বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে নির্বিচারে খুন করা হয়েছিল প্যালেস্তিনীয়দের। ভেঙে গুঁড়িয়ে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছিল তাদের বসত এলাকা। হাসপাতাল, স্কুল থেকে শুরু করে কোনও কিছুই বাদ যায়নি ইজরায়েলি বর্বরতা থেকে। চার বছর পর আবার পুনরাবৃত্তি। এবার সীমান্ত থেকে ইজরায়েলি খুনে সেনাবাহিনী প্যালেস্তাইন ভূখণ্ডস্থিত প্যালেস্তিনীয়দের সরাসরি গুলি করে খুন করেছে। গুলি খেয়ে মারা গেছে ৭০-র ওপর। জখমের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। ইজরায়েলি সেনাদের নিশানা থেকে বাদ যায়নি নয়মাসের শিশুও। কেন এই হত্যালীলা? ইজরায়েলের অজুহাত প্যালেস্তিনীয়রা নাকি সীমান্ত পেরিয়ে পূর্ব জেরুজালেমে ঢুকে পড়তে চাইছিল। প্রশ্ন হলো সন্ত্রাসবাদী বা দাগী অপরাধী ছাড়া কোনও সাধরণ মানুষ যদি সীমান্ত অতিক্রম করতে চায় তবে কোনও আন্তর্জাতিক বিধিতেই তাদের গুলি করে মারার অধিকার বর্তায় না। এইসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবার হরেকরকম রাস্তা আছে। কিন্তু ইজরায়েফ সে পথে না গিয়ে তাদের চিরাচরিত হিংস্র আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করে প্যালেস্তিনীয়দের নিকেশ করার রাস্তাই বেছে নিয়েছে। আর এই কাজ তারা করেছে এবং অতীতেও বারবার করে গেছে আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদতে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। অবশ্য এবার নির্লজ্জতা ও অমানবিকতার সীমা ছাড়িয়েছে আমেরিকার ভূমিকায়। যে সময় ইজরায়েলি জল্লাদ সেনারা নিরস্ত্র প্যালেস্তিনীয়দের গুলি করে মারছে সেই সময়ই কয়েক কিলোমিটার দূরে ইজরায়েলি দখলিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে মহানন্দে মহা ধুমধাম সহকারে তেল আবিব থেকে স্থানান্তরিত নতুন মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধন হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক সহমতের বিরুদ্ধে গিয়ে এবং বিশ্বের প্রায় সব দেশের আপত্তি ও বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের দূতাবাস জোর করে একতরফাভাবে বিতর্কিত জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করে ইজরায়েলকে খুশি করার জন্য।

জেরুজালেমের ওপর ইজরায়েলের অধিকারের কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। ইজরায়েল জেরুজা‍‌লেমকে তাদের রাজধানী বলে ঘোষণা করলেও সারা বিশ্বের চোখে, সেটা দখলিকৃত ভূখণ্ড। তাই ইজরায়েলের অনুরোধ সত্ত্বেও কোনও দেশই জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস তৈরি করেনি। সকলের দূতাবাসই তেল আবিবে। এমনকি মার্কিন দূতাবাসও এতদিন ছিল তেল আবিবে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই সিদ্ধান্ত নেয় জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস স্থানান্তরিত হবে। গাজায় গণহত্যার মধ্যেই তারা উৎসব করে স্থানান্তরের কাজ করেছে ইজরায়েলের বেআইনি দখলদারিকে স্বীকৃতি দেবার জন্য। পরোক্ষে গাজায় গণহত্যাকেও তারা সমর্থন জানিয়েছে। ইজরায়েল প্রতিষ্ঠার আগে ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘ সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ শাসিত প্যালেস্তাইনকে দ্বিখণ্ডিত করে প্যালেস্তিনীয় ও ইহুদিদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র হবে। জেরুজালেম থাকবে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে অর্থাৎ রাষ্ট্রসঙ্ঘের অধীনে। কিন্তু ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশরা প্যালেস্তাইন ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েল জোর করে সাড়ে সাত লক্ষ প্যালেস্তিনীয়কে উৎখাত ও বিতাড়িত করে জেরুজালেম দখল করে এবং তাদের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করে। ফলে আন্তর্জাতিক বিধিতে জেরুজালেম ইজরায়েলের ভূখণ্ড নয়। বিশ্বের কোনও দেশই জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। অন্যদিকে, গোড়া থেকেই প্যালেস্তাইনের দাবি তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে জেরুজালেম হবে তাদের রাজধানী। ইজরায়েল সেই দাবি নস্যাৎ করতে জোর করে দখল নেয় জেরুজালেম। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৫ই মে উৎখাতের পর থেকে প্রতি বছরই ঐদিনে প্যালেস্তিনীয়রা বিক্ষোভ দেখায়, প্রতিবাদ করে। এবারও তাই হয়েছে। তাতেই গুলি করে গণহত্যার অভিযান চালিয়েছে ইজরায়েল। ইজরায়েলের এই অমানবিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুখর হয়েছে গোটা বিশ্ব। তুরস্ক ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে। আয়ারল্যান্ড ও বেলজিয়াম ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে প্রতিবাদ করেছে। ফ্রান্স কড়া নিন্দা করেছে। বিরোধিতা করেছে ব্রিটেনও। সকলেরই আশঙ্কা মার্কিন মদতে ও ট্রাম্পের নতুন পশ্চিম এশিয়া নীতিতে অশান্তি বাড়ছে। ইজরায়েল আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। সারা বিশ্ব নিন্দায় মুখর হলেও মোদী সরকার এখনও নীরব। ইজরায়েল ও আমেরিকার পাশে থাকতে তারা নিন্দা করতে দ্বিধা করছে।

Featured Posts

Advertisement