অভাবের সংসারে
ভরসা সেই অনন্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৭ই মে , ২০১৮

কলকাতা, ১৬ই মে— ৯ ওভার ৫ মেডেন ১৬ রানে ৮ উইকেট। এই পারফরম্যান্স কালীঘাট ক্লাবের বছর ২২শের বোলার অনন্ত সাহার। এই বয়সে ছেলেটির কোনও স্কুল বা কলেজে পড়ার কথা। অর্থ কষ্ট মেটাতে পড়াশোনা ছেড়ে খেলাকেই কেন বেছে নিল বছর ২২শের অনন্ত। সেজন্যই দৌড়ে চলেছেন ক্রিকেটের ২২গজে। পৈতৃক বাড়ি তুফানগঞ্জের চিলাখানা। খেলার জন্য শিয়ালদহের কোলে মার্কেটের ছোট মেস বাড়িই আপাতত তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। ২২গজে তাঁর বোলিং বিপক্ষের ব্যাটিং ব্রিগেডকে সমস্যায় ফেললেও ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতিতে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন অনন্ত। তুফানগঞ্জের চিলাখানা শহর থেকেই অতীতে বাংলার ক্রিকেট সংসারে জায়গা করে নিয়েছিলেন পেসার শিবশংকর পাল। তাঁর কোচিংয়েই ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছেন অনন্ত। ছাত্রের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত কোচ শিবশংকর। সিনিয়ার ওয়ান ডে লিগে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে দুরন্ত বোলিং করেছিলেন তিনি। ৪ উইকেট নেন। তারপর এই ম্যাচে ৮ উইকেট। জয়ের নায়ক বললেন, ‘কালীঘাট ক্লাবের ট্রায়ালে ওকে দেখে বেশ ভালো লাগে। তখনই ওকে বেছে নিই। গত তিনবছর ধরে কালীঘাটের হয়ে দুর্দান্ত খেলছে এই ছেলেটা। প্রতিশ্রুতিমান তো বটেই। প্রতিভাবানও। চেষ্টা আছে।’ অভাবের সংসারে একচিলতে রোদ্দুর পিতৃহীন অনন্ত। পাঁচ ভাইবোনের সংসারে অনন্ত আর্থিকভাবে সচ্ছল। অনূর্ধ্ব ২৩ বাংলার হয়ে খেলা অনন্তর কথায়, ‘খেলেই অর্থ উপার্জন করতে হবে। এছাড়া উপায় নেই। যতদিন পারব, চালিয়ে যাব। আমার লক্ষ্য বাংলার হয়ে খেলা। সুযোগ আসেনি এখনও, আশা করি আসবে। সেই অপেক্ষায় দিনগুনছি। পরিবারের অর্থ সাহায্য করতেই পড়াশোনা ছেড়ে খেলাধূলাকেই বেছে নিয়েছি।’

সি এ বি আয়োজিত প্রথম ডিভিসন চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে অফের কোয়ার্টার ফাইনালে অনন্তর বোলিং ঝড়ে বিদ্ধ ইস্টার্ন রেলওয়েজ স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন। যার ফলে মাত্র ৫১ রানে অলআউট হয় প্রিয়ম সরকাররা। ৬.৪ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছায় অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। অভিষেক রামান (৩২নঃ আঃ) এবং অভিমন্যুর (১৮নঃ আঃ) অপরাজিত ইনিংসে ১০ উইকেটে জয়ী কালীঘাট।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement