কর্ণাটকে বি জে পি-র
‘ঘোড়া কেনাবেচা’ বন্ধ
হোক : পলিট ব্যুরো

সংবাদসংস্থা   ১৭ই মে , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১৬ই মে — কর্ণাটকে বি জে পি-র ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ বন্ধের দাবি জানালো সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো। সেরাজ্যে নগ্নভাবে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ করতে এবং টাকা ছড়িয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় গরিষ্ঠতা জোগাড়ে উৎসাহিত করার জন্য বি জে পি-কে যেভাবে সময় দেওয়া হচ্ছে, তারও তীব্র বিরোধিতা করেছে পলিট ব্যুরো।

বুধবার এখানে এক বিবৃতিতে পলিট ব্যুরো বলেছে, কর্ণাটকে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বি জে পি-র নেই। এই অবস্থায় বি জে পি যাতে নগ্নভাবে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ করতে পারে এবং টাকা ছড়িয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় গরিষ্ঠতা জোটাতে পারে সেজন্য তাদের সময় দেওয়া হচ্ছে। এর তীব্র বিরোধিতা করছে পলিট ব্যুরো।

পলিট ব্যুরো মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রে বর্তমান বি জে পি সরকারের আমলে নিযুক্ত রাজ্যপালরা এতদিন ভোট পরবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছেন। ভোটের ফল প্রকাশের পরে রাজনৈতিক দলগুলির বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হলে, তাদেরই সরকার গঠনের জন্য ডেকেছেন রাজ্যপালরা।

২০১৭সালের মার্চ মাসে ৪০সদস্যের গোয়া বিধানসভার নির্বাচনে কংগ্রেস ১৭টি আসনে এবং বি জে পি ১৩টি আসনে জয়ী হয়েছিলো। কিন্তু অন্যান্য দলের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বি জে পি-জোটকেই মন্ত্রিসভা গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো।

একইভাবে ২০১৭সালে ৬০সদস্যের মণিপুর বিধানসভার ভোটে কংগ্রেস জিতেছিল ২৮টি আসনে, বি জে পি জয়ী হয়েছিল ২১টিতে। কিন্তু ভোট পরবর্তী বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বি জে পি-কেই সরকার গড়তে দেওয়া হয়েছিল।

আবার ২০১৮সালের মার্চে ৬০সদস্যের মেঘালয় বিধানসভার ভোটে কংগ্রেস একাই ২১টি আসনে জয়ী হয়েছিল। বি জে পি পেয়েছিলো মাত্র ২টি আসন। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির ভোট পরবর্তী বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে সরকার গড়ার ডাক পেয়েছিল বি জে পি-ই।

এবারে কর্ণাটকে ভোট পরবর্তী যে বোঝাপড়া হয়েছে, তাতে নির্বাচিত ২২২জন বিধায়কের মধ্যে কংগ্রেস এবং জনতা দল (এস)-এর সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। উপরোক্ত রাজ্যগুলিতে গৃহীত নীতির ভিত্তিতে কর্ণাটকেও অবিলম্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষের প্রস্তাবিত মুখ্যমন্ত্রীকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো উচিত। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বিধানসভার কক্ষে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বলা উচিত।

স্পষ্টভাষায় পলিট ব্যুরো জানিয়েছে, এই কাজে দেরি করার অর্থই হলো নগ্নভাবে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’-র স্বার্থে রাজ্যপালের সাংবিধানিক অফিসের অপব্যবহার করা এবং তা হবে নির্লজ্জভাবেই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement