পঞ্চায়েতে হিংসার প্রতিবাদ দিল্লিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৭ই মে , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১৬ই মে- পশ্চিমবঙ্গে হিংসার প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখাল সি পি আই (এম)। পশ্চিমবঙ্গের রেসিডেন্ট কমিশনারের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন পার্টি পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত। বিক্ষোভসভায় কারাত বলেন, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে গণতন্ত্রকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রশাসন সরাসরি জড়িত জঘন্য এই কাজে। মদত দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র হত্যার মমতা ‘ব্র্যান্ড’ দেখল পশ্চিমবঙ্গ।

এদিন সি পি আই (এম) দিল্লি রাজ্য কমিটির পক্ষে রেসিডেন্ট কমিশনারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে কাকদ্বীপে সি পি আই (এম) কর্মী দম্পতি দেবপ্রসাদ দাস এবং ঊষারানি দাসকে পুড়িয়ে হত্যা, আমডাঙায় তৈবুর গায়েনকে খুন, নন্দীগ্রামে বিশ্বজিৎ মান্না ও যজ্ঞেশ্বর ঘোষকে খুনের মতো বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। মু্র্শিদাবাদে নির্দল প্রার্থীর সমর্থক শাহিন শেখকে খুনের ঘটনারও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, লাগামছাড়া হিংসার মুখেও মানুষ প্রতিরোধ গড়েছেন। সি পি আই (এম) এবং বামপন্থীরা প্রতিরোধ এবং প্রতিবাদে সামনে রয়েছেন।

কারাত বলেছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন মনোনয়ন পর্ব থেকেই ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হয়েছে সি পি আই (এম) সহ বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের উপর। বামপন্থী নয় এমন বিরোধী দলের সমর্থকরাও রেহাই পাননি। তিনি বলেন, প্রশাসন এবং তৃণমূল মিলে গিয়ে হিংসা ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট অসম্ভব ছিল। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের নির্দেশও মানেনি প্রশাসন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা বুথ দখল করেছে, ব্যালট বাক্স লুট করেছে। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা হলো তৃণমূলস্তরের গণতন্ত্র। ৩৪শতাংশ আসনে বিরোধীরা প্রার্থী দিতে না পারলে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকে না। দিল্লির বাবা খড়ক সিং মার্গে এই বিক্ষোভসভায় সি পি আই (এম) দিল্লি রাজ্য সম্পাদক কে এম তিওয়ারিও বক্তব্য রাখেন।

পশ্চিমবঙ্গে হিংসার নিন্দায় ঝাড়খণ্ডেও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বামপন্থী দলগুলি। প্রতিবাদ হবে রাঁচিতেও।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement