গরিষ্ঠতা নেই, তবুও
বি জে পি-কেই ডাক

বিধায়ক কিনতে ১৫ দিন সময়

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৭ই মে , ২০১৮

বেঙ্গালুরু, ১৬ই মে— ১১৭ নয়, ১০৪-কেই সরকার গড়তে ডাকা হলো।

বি জে পি-র দীর্ঘদিনের নেতা কর্ণাটকের রাজ্যপাল বাজুভাই ভালা বি জে পি-র বি এস ইয়েদুরাপ্পাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বুধবার রাতে তিনি ইয়েদুরাপ্পাকে চিঠি দিয়েছেন। ইয়েদুরাপ্পা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টাতেই রাজভবনে শপথ নিয়ে নেবেন বলে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইয়েদুরাপ্পাকে ১৫দিন সময় দেওয়া হয়েছে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের। আশঙ্কা, গরিষ্ঠতা না-থাকা বি জে পি-কে বিধায়ক কেনার জন্যই এই দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুতে তোলপাড়ের সঙ্গে সঙ্গে নয়াদিল্লিতেও রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাতেই কংগ্রেসের তরফ থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যপাল সংবিধান হত্যা করছেন। রাতেই শুনানি করার জন্য কংগ্রেস নেতারা প্রধান বিচারপতিকে আবেদনও জানিয়েছেন।

ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় কেউই স্পষ্ট গরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মঙ্গলবারই কংগ্রেস জনতা দল (এস)-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিল। জে ডি (এস) নেতা কুমারস্বামীকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস নেতারা রাজ্যপালকে জানিয়েও এসেছিলেন তাঁদের সমর্থনের কথা। গিয়েছিলেন ইয়েদুরাপ্পাও। রাজভবন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তখন থেকেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল।

বিধানসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ২২৪। ভোট হয়েছে ২২২ কেন্দ্রে। গরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৩। বি জে পি-র বিধায়ক সংখ্যা ১০৪। কংগ্রেসের ৭৮, জে ডি (এস)-র ৩৭, বহুজন সমাজ পার্টির ১ ও আরও এক নির্দল মিলে কুমারস্বামীর পিছনে ১১৭ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। বুধবার কুমারস্বামী ও কংগ্রেস নেতারা বিধায়কদের নিয়েই রাজভবনে গিয়েছিলেন। ১১৭জনের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠিও তাঁদের হাতে ছিল। রাজভবনে প্রথমে তাঁদের প্রবেশের অনুমতিই দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে দশজনকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। কুমারস্বামী পরে জানান, রাজ্যপাল তাঁদের কথা শুনেছেন। আইনজ্ঞের পরামর্শ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

তারও আগে সকালেই কুমারস্বামী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন বি জে পি বিধায়ক কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। জে ডি (এস) বিধায়কদের প্রত্যেককে ১০০কোটি টাকা করে দেবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রীসভার পদ। কুমারস্বামী এও বলেন, অতীতে এভাবেই সরকার রক্ষা করেছেন ইয়েদুরাপ্পা। এবারেও যদি এই একই কাজ তিনি করতে চান তাহলে ফল ভুগতে হবে। বি জে পি-র দ্বিগুণ ক্ষতি হয়ে যাবে। বি এস পি-র নির্বাচিত বিধায়কও অভিযোগ করেন, বি জে পি-র নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ইয়েদুরাপ্পাকে সমর্থনের টোপ দেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠকে দুই বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়েও গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু বেল্লারি থেকে নির্বাচিত ওই দুজনের সঙ্গে কংগ্রেসের যোগাযোগ রয়েছে বলে কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমার জানান। কুমারস্বামী ও কংগ্রেসের নেতারা বলেন, ১১৭ জনের একজনকেও ভাঙাতে পারবেন না ইয়েদুরাপ্পা। তবে, এসবই রাজ্যপালের আমন্ত্রণের আগে।

ইঙ্গিত ছিলোই যে গুজরাটে মোদীর মন্ত্রীসভার মন্ত্রী ভালা রাজ্যপাল পদেও মোদীর কথা শুনেই চলবেন। কংগ্রেস ও জনতা দল (এস) নেতারা তাই বলছিলেন, রাজভবন যদি কুমারস্বামীকে না ডাকে রাজভবনের সামনেই ধরনায় বসা হবে। কংগ্রেস নেতারা জানিয়েছিলেন, তাঁরা আদালতেও যাবেন।

কর্ণাটকের বি জে পি-র তরফ থেকে সন্ধ্যাতেই টুইটারে জানানো হয় বৃস্পতিবার সকালে ইয়েদুরাপ্পা রাজভবনে শপথ নেবেন। রাজ্যপালের তরফে সরকারি ভাবে ঘোষণা হবার আগেই এই টুইট থেকে বোঝা যায়, রাজ্যপাল কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। তা নিয়ে বিস্ময় ছড়ানোয় ওই টুইট মুছে দেওয়া হয়।

রাতেই রাজ্যপাল ইয়েদুরাপ্পাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চিঠি পৌঁছে যায় বি জে পি নেতার হাতে। কংগ্রেস আদালতে যেতে পারে, এই আশঙ্কাতেই সকাল ৯টাতেই শপথ নেবেন বলে ঠিক করেছেন ইয়েদুরাপ্পা। তিনি একাই শপথ নেবেন।

রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন কংগ্রেস নেতারা ও কুমারস্বামী। কুমারস্বামী সাংবাদিকদের বলেন, ১৫দিন সময় দিয়ে বিধায়ক কেনার রাস্তা করে দিলেন রাজ্যপাল। অন্যদিকে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেছেন, গোয়া, মণিপুরে বৃহত্তম দলকে ডাকা হলো না, সেখানে ভোটের ফল বেরোনোর পরে তৈরি হওয়া জোটকে সরকার গড়তে ডাকা হলো। কিন্তু কর্ণাটকে অন্য নিয়ম।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement