গণনা কেন্দ্রেও ঢুকতে বাধা
বামফ্রন্ট প্রার্থী, এজেন্টদের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৮ই মে , ২০১৮

কোচবিহার, ১৭ই মে— বিরোধী প্রার্থী ও এজেন্টদের ঢুকতেই দেওয়া হলো না কোচবিহারের বিভিন্ন গণনা কেন্দ্রে। হলদিবাড়িতে বিরোধীশূন্য গণনা কেন্দ্রে ভোট গণনা করে জয়ের সার্টিফিকেট নিল তৃণমূল। মাথাভাঙাতেও বিরোধীদের গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। গণনা কেন্দ্রগুলিতে শুধু বিরোধী এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে এমনটা নয়, মাথাভাঙায় সাংবাদিকদেরও খবর সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়। জেলা তথ্য আধিকারিকের কাছে গিয়ে সাংবাদিকরা বিক্ষোভও দেখায়।

ভোটের দিনের মতো এদিনও রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে মেজাজ হারাতে দেখা যায়। এদিন কোচবিহার-১ ব্লকের গণনা কেন্দ্রে গিয়ে মন্ত্রী পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। মোবাইলে হুমকি দেন বি ডি ও-কেও। মেখলিগঞ্জে তৃণমূল কর্মীদের সাথে পুলিশের বচসা গড়ায় মারামারিতে। পুলিশের ৪টি গাড়ি ভাঙচুর করে তৃণমূল কর্মীরা।

এদিকে এদিন গণনার ফলাফলে ভোট লুটের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বহু বুথেই। দিনহাটার আটিয়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬/২২৭ নম্বর বুথে ব্যালট বাক্স খোলা হলে মোট ৮৮৫ টি ব্যালট পাওয়া যায়। অথচ ভোটের দিন ভোট পড়েছিল ৮৭০টি! 

নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের জিরানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২টি আসনের মধ্যে ৪ টি আসনে বিরোধী কোনও প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে না দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় তৃণমূল। বাকি ৮ আসনে নির্বাচন হয়। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় ৬টি আসনেই জয়লাভ করেছে বামফ্রন্ট সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা।

মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে ভোটের দিন এমন কি গণনাতেও শাসকদল ভোট লুট করলেও তারই মধ্যে বামপন্থীরা জয় ছিনিয়ে এনেছে মেখলিগঞ্জের নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েতে। এখানে শাসকদল পেয়েছে মাত্র একটি আসন।

সি পি আই (এম) জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পঞ্চায়েত ভোটের এই ফলে মানুষের রায় প্রতিফলিত হয়নি। এটা ভোট লুটের ফল। মানুষ যেখানে সুযোগ পেয়েছে সেখানেই শাসকদলের প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন। সন্ত্রাস উপেক্ষা করে যারা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন এবং ভোট দিয়েছেন তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement