ভোটের পর গণনার দিনও
ব্যালট ছিনতাই তৃণমূলের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৮ই মে , ২০১৮

জলপাইগুড়ি, ১৭ই মে— গণনায় হার মেনে নিতে না পেরে ব্যালট ছিনতাইয়ের পথে নামলো তৃণমূল। এরপর সি পি আই (এম)-র অভিযোগের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ব্যালট উদ্ধার করে ফের গণনা হলে সেখানেও জয়ী হয়েছেন সি পি আই (এম) প্রার্থী। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬নং আসনে সি পি আই (এম) প্রার্থী প্রকাশচন্দ্র রায় তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী ঘোষণা করার মুহূর্তে আচমকা তৃণমূলীরা গণনা কেন্দ্রের মধ্যেই ব্যালট ছিনতাই করে। এরপর গণনা কেন্দ্রে ব্যালট পেপার উদ্ধার হয় এবং ফের গণনা চলে। শেষে পুনর্গণনাতেও সি পি আই (এম) প্রার্থীরই জয় নিশ্চিত হয়। এই খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে ২টি আসন জিতেছে সি পি আই (এম)।

জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত আসন হারল তৃণমূল। রাজগঞ্জের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮/৫৪ নম্বর আসন ফার্ম প্রাইমারি স্কুলের বুথেই ব্যালট বাক্স আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। ব্যালট বাক্সে আগুন লাগিয়ে ব্যালট লুট করা হয়েছিল গত ১৪ই মে। এই আসনে সি পি আই (এম) প্রার্থী চন্দ্রমোহন রায় জয়ী হয়েছেন। শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতির আসনেও রাজ্যের শাসকদলের পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে।

মনোনয়ন পর্ব থেকেই জলপাইগুড়ির মালবাজারের সি পি আই (এম) নেত্রী গোলেজান সরকারের ওপর বারংবার হামলা আক্রমণ চালিয়েছে তৃণমূলীরা। মনোনয়নে বাধা দিতে ১৭বার তাঁর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটের ফল ঘোষণার দিনেও ফের গোলেজান সরকারের বাড়িতে ভাঙচুর চলল নির্বিচারে। এমন হিংস্র তাণ্ডবের পর তাঁর বাড়ি আর বসবাসের যোগ্য রইল না। এদিন বিকালে এই হামলা আক্রমণের সময় গোলেজান সরকার বাড়িতে ছিলেন না।

এদিকে রাজগঞ্জের ফুলবাড়ির গণনা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যালট ছিনতাইয়ের পথে নামলো তৃণমূল। এমন বেপরোয়া ব্যালট ছিনতাইয়ের পরিণতিতে এদিন গণনা বন্ধ থাকে। খোদ মন্ত্রী গৌতম দেবের এলাকায় ফের ভোটগ্রহণ হবে। এদিন ফুলবাড়ি-১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে গণনার সময় দেখা যায় ৪৭৩টি ব্যালট পেপার নিখোঁজ। অনেক তল্লাশি চালিয়েও সেই ব্যালট পেপার পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে এই আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে। তবে জলপাইগুড়ি জেলার তরাই, ডুয়ার্স এলাকায় পঞ্চায়েত ভোটে শাসকবিরোধী ভোটে বড় ধরনের ভাগ বসিয়েছে কেন্দ্রের শাসক বি জে পি। এর ফলে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আদায় হয়েছে সহজ পথে। তবে এরপরও বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ত্রিশঙ্কু অবস্থা তৈরি হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯০টা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে যেখানে ৪৭টি তৃণমূল, ৩২টি বি জে পি, ১০টি সি পি আই (এম) এবং একটি নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। মাল ব্লকে ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে যার মধ্যে ৯৪টি আসন তৃণমূল, ১৭টি আসন বি জে পি, সি পি আই (এম) ৩টি, কংগ্রেস একটি, অন্যান্য ২টি এবং নির্দল ১১টি আসন জিতেছে। মেটেলিতে ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে যার মধ্যে ৪৫টি আসনে তৃণমূল, ১৬টি বি জে পি, ৭টি সি পি আই (এম), ৪টি কংগ্রেস, অন্যান্য একটি এবং নির্দল ৪টি আসনে জয়ী হয়েছে।

এদিকে আলিপুরদুয়ার জেলায় সর্বমোট ৬৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল জিতল সরাসরি ৪৩টিতে। এর বাইরে বি জে পি ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়ী হয়েছে এবং বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস একটা গ্রাম পঞ্চায়েত জিতেছে এবং ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement