চীনের কমিউনিস্ট পার্র্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সি পি আই(এম)নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৮ই মে , ২০১৮

কলকাতা, ১৭ই মে— চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সি পি সি)-র এক প্রতিনিধিদল মতবিনিময় করলেন সি পি আই (এম) রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে। সি পি সি-র কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের ছয় সদস্যের এক প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার এসেছিলেন পার্টির রাজ্যদপ্তর কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ভবনে। নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি তাঁরা আলোচনা করেন শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র-যুব, মহিলা, শিক্ষক, কর্মচারী আন্দোলনসহ সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের নেতৃত্বের সঙ্গে। গত অক্টোবরেই হয়েছে সি পি সি-র ১৯তম কংগ্রেস। সেই কংগ্রেসেই পার্টি বলেছে, চীনের বৈশিষ্ট্যসহ সমাজতন্ত্র এক সীমান্ত পেরিয়ে ‘নতুন যুগে’ প্রবেশ করেছে। এই যুগে মোটামুটি সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা নির্ণায়কভাবেই অর্জন করতে হবে, গড়ে তুলতে হবে আধুনিক সমাজতান্ত্রিক সমাজ। কংগ্রেস থেকেই পার্টির নির্দেশক নীতিতে যুক্ত হয়েছে শি জিনপিঙ চিন্তাধারা।

শুরুতে সি পি আই (এম) রাজ্য নেতৃত্ব, পরে গণসংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় সি পি সি-র প্রতিনিধিদল জানান, চীনের সমাজে নতুন যুগের মুখ্য দ্বন্দ্ব হলো উন্নততর জীবনের জন্য জনগণের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষা এবং অপ্রতুল ও ভারসাম্যহীন উন্নয়নের দ্বন্দ্ব। মানে একদিকে জনগণের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষা। অন্যদিকে অপ্রতুল, ভারসাম্যহীন উন্নয়ন। জনগণের উন্নততর জীবনের জন্য চাহিদা ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে। শুধু বস্তুগত বা সাংস্কৃতিক চাহিদাই বৃদ্ধি পায়নি। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায্যতা, সুবিচার, নিরাপত্তা, উন্নততর পরিবেশের চাহিদাও বাড়ছে। কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত, ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে মার্কসবাদকে। আরও বিকশিত করতে হবে কমিউনিজমের আদর্শকে, লালনপালন ও রূপায়ণ করতে হবে মৌল সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলিকে। প্রসারিত করতে হবে গণতন্ত্রকে, যাতে জনগণই হয় দেশের প্রকৃত শাসক। রক্ষা করতে হবে তাদের জীবনজীবিকা।

সি পি সি-র এই প্রতিনিধিদলের নেত্রী ছিলেন সেদেশের পার্টির ফুজান প্রদেশের পার্টিস্কুলের বিশেষ গবেষক এবং কেন্দ্রীয় পার্টির নীতি নির্ধারণ দপ্তরে দায়িত্বশীল জি ইউ উয়েলি। ছিলেন পার্টির ইউনান প্রদেশের অর্থবিষয়ক পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক জু কিংপিং, আন্তর্জাতিক বিভাগের অধিকর্তা হু ওয়াংজুন, বিভাগীয় সদস্য ঝাং সাওকি। এছাড়াও ছিলেন দিল্লিতে ভারতস্থ ডেপুটি কনসাল কল জেইফেং এবং ভাইস কনসাল শিয়ে চাও। সি পি আই (এম) নেতৃত্বের পক্ষে ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল চক্রবর্তী, মৃদুল দে, রবীন দেব, মিনতি ঘোষ, রেখা গোস্বামী, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, নৃপেণ চৌধুরি, কল্লোল মজুমদার, গণশক্তির সম্পাদক অভীক দত্ত, বার্তা সম্পাদক দেবাশিস চক্রবর্তী, সারা ভারত শান্তি ও সংহতি সংস্থার রাজ্য সম্পাদক অঞ্জন বেরা প্রমুখ। প্রায় এক ঘণ্টা তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক নানা বিষয়, আধুনিক চীনের ক্রমউন্নয়ন ও সেই উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্যের কারণ, সীমাবদ্ধতা, সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার জন্য পদক্ষেপ, সেদেশের জনগণের অংশগ্রহণ, গত অক্টোবরে সি পি সি-র উনিশতম কংগ্রেসে আলোচনায় আসে নানা প্রসঙ্গ।

দ্বিতীয় পর্বে পার্টির রাজ্যদপ্তরেই কমরেড আব্দুল হালিম সভাঘরে সি পি সি-র প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মিলিত হন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রথমে প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা ও স্মারক উপহার দেন নেতৃত্ব। আজকের চীন ও সেই দেশের উন্নয়নের ধারা, তার বাঁক ও মোড় নিয়ে প্রাসঙ্গিক ভাষণ দেন উয়েলি। পরিচালনায় ছিলেন দেবাশিস চক্রবর্তী। পরে হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব।

Featured Posts

Advertisement