এবার গণনা কেন্দ্রে ছাপ্পা ভোটের
নজির গড়ল তৃণমূল

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৮ই মে , ২০১৮

কল্যাণী, ১৭ই মে— ভোটের পর গণনা। ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে চলল ছাপ্পা! পুলিশের সামনে গণনা কেন্দ্রের ভিতরে তৃণমূলের এই বেনজির তাণ্ডবে হতবাক গোটা রাজ্য। টিভির পর্দায় ভেসে উঠেছে সেই দৃশ্য। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মাঝদিয়ার সুধীররঞ্জন লাহিড়ী মহাবিদ্যালয়ে গণনা কেন্দ্র কার্যত তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের দখলে চলে যায়। পুলিশ প্রথমে নিশ্চুপ থেকে ব্যালট ছিনতাই, ছাপ্পা দিতে সাহায্য করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিন সকালে কয়েক রাউন্ড গণনা হতেই তৃণমূলের ব্লক সভাপতি পার্থ ঘোষ শিবনিবাস পঞ্চায়েতে সি পি আই (এম) সমর্থিত নির্দল প্রার্থী নিলাদ্রী সুকুলের থেকে প্রায় ৩০০ ভোটে পিছিয়ে পড়েন। এরপরই তৃণমূলের দাগী দুষ্কৃতীরা গণনা কেন্দ্রের মধ্যে গন্ডগোল শুরু করে। ৬নং হলঘরের লোহার তারের জাল দেওয়া ঘেরা অংশ যেখানে সরকারি ভোট কর্মীরা ব্যালট গুনবেন সেই জায়গায় তারের জাল ভেঙে দিয়ে দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ে। ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে পকেটে করে নিয়ে আসা ভোট দেওয়ার ‘সিল’ নিয়ে ছাপ্পা দেওয়া শুরু করে। বেশ কিছু ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ভোটকর্মী।

গণনা কেন্দ্রের ভিতর এই তাণ্ডবে তখন অসহায় বিরোধী দলের এজেন্টসহ ভোটকর্মীরা। সকলের চোখের সামনে লুট হয়ে যায় ব্যালট। এইরকম ঘটনা আগে থেকে পরিকল্পনামাফিক করার জন্যও ওই হলঘরের সামনে বাঁশের ওপর বাঁধা সি সি টি ভি ক্যামেরাও তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খুলে নেয়। এই হট্টগোলের মধ্যে বাইরে থেকে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাও ঢুকে পড়ে। প্রায় ১০-১২টি বোমা মারা হয় গণনা কেন্দ্রে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়ে তৃণমূলীরা। আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে যায় সকলে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয় তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের। পুলিশের ভূমিকা দেখে সাধারণ মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে পুলিশের ‘গটআপ’ বলেই জানিয়েছেন।

বন্ধ হয়ে যায় ওই কেন্দ্রে ভোট গণনা। ভোটকর্মী নিরাপত্তার অভাব বোধ করতে থাকেন। তাঁরা রাজি হচ্ছিলেন না গণনা শুরু করতে। এরপর সাধারণ মানুষ এবং সি পি আই (এম) কর্মীরা আশ্বস্ত করায় দুপুর আড়াইটে নাগাদ ফের গণনা শুরু হয়। এত কিছু করেও নিলাদ্রী সুকুলের জয় আটকাতে পারেনি তৃণমূল, প্রশাসন থেকে দীর্ঘক্ষণ নিলাদ্রী সুকুল বসিয়ে রাখা হয় গণনা কেন্দ্রে। তাঁর সার্টিফিকেট দিতে গড়িমসি করা হয়। এই গণনা কেন্দ্রে সন্ধ্যা নাগাদ ফের তৃণমূলীরা উত্তেজনার সৃষ্টি করে। দফায়-দফায় গণনায় বিঘ্ন ঘটনায় শাসকদলের এজেন্ট ও দুষ্কৃতীরা।

এদিন করিমপুরের মহিষবাথান মনোজমোহন বিদ্যামন্দির গণনা কেন্দ্রে তৃণমূল বাহিনী উত্তেজনা সৃষ্টি করে। গণনা শুরুর সময় লুম্পেন বাহিনী ব্যালটে ছাপ্পা মারতে চেষ্টা করে। এই কাজে তৃণমূল সমর্থিত সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

বিরোধীদের ভয় দেখাতে গণনা কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলীরা গুলি, বোমা ছোঁড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। মহিষখোলার কাছে উত্তেজিত মানুষজন একটি সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হাঁসখালিতে গণনা কেন্দ্রে বিরোধীদের ঢুকতে বাধা দেয় তৃণমূলের উন্নয়ন বাহিনী। চিত্রশালির কাছে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। পরে বিরোধীদলগুলির এজেন্ট, প্রার্থীরা জেলাশাসকের দপ্তরে এসে অভিযোগ ও অবস্থান করে।

শান্তিপুরে সকালবেলা গণনাকেন্দ্রে ঢোকার সময় আড়বান্দি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সি পি আই (এম) প্রার্থী নারায়ণ দেবনাথ ও তাঁর এজেন্টকে মারধর করে তৃণমূলীরা। নারায়ণ দেবনাথকে পুলিশের সামনে থেকেই তুলে নিয়ে যায়। এরপর সি পি আই (এম) এর প্রার্থী ও এজেন্টরা যখন গণনা কেন্দ্রে ঢুকছেন সেখানে বাধার সৃষ্টি করে দুষ্কৃতীরা। কার্ড কেড়ে নিতে চায়। প্রতিরোধ হয়। পরে পুলিশ এসে প্রার্থী ও এজেন্টদের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement