কেল্লার নাম লালকেল্লা

পার্থপ্রতিম বিশ্বাস   ১৮ই মে , ২০১৮

সম্প্রতি মোদী সরকার লালকেল্লাকে নিলামে তুলেছে। নিলামে জিতে শাসক ঘনিষ্ঠ ডালমিয়া গোষ্ঠী লালকেল্লাকে দত্তক নিয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত এই ঐতিহ্যবাহী সৌধটিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার অধিকার কি কেন্দ্রীয় সরকারের আছে? সেই আলোচনাই লেখক করেছেন।

ক্ষমতায় আসার আগে কেন্দ্রের শাসকদল কথা দিয়েছিল সরকার পরিচালনার নীতি হবে ‘Minimum gove

ment, maximum gove

ence’। এভাবেই একুশ শতকে দেশে ‘অচ্ছে দিন’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেই দল। যেমন ছিল কথা তেমনই হলো কাজ। দেশের কর্মসংস্থান, কৃষি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারের দায় এখন ক্রমশ বিলীয়মান। সম্প্রতি দেশের সরকার দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রকল্প ও স্থাপত্যগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়ভারও তুলে দিতে চাইছে কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের হাতে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের সরকার ঐতিহ্যের স্থাপত্যগুলির ‘দত্তক’ খোঁজার নীতি ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। ‘দত্তক’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে দেশের বেশ কিছু কর্পোরেট গোষ্ঠী। আর এমন কর্পোরেটদের নামকরণ করা হয়েছে ‘হেরিটেজ মিত্র’। সরকারের এহেন পদক্ষেপে সংশয় তৈরি হচ্ছে যে, হেরিটেজ স্থাপত্যের সংরক্ষণে এই নব্য কর্পোরেটের দল সত্যিই মিত্র না খলনায়কের ভূমিকা পালন করবে ভবিষ্যতে। কারণ কর্পোরেট বাণিজ্যের পথ ধরে স্থাপত্যের হেরিটেজের মর্যাদা কোথাও জোটেনি গোটা পৃথিবীতে। এখন শুরু হয়েছে হেরিটেজ স্থাপত্যের সংরক্ষণে কর্পোরেটদের মধ্যে নিলাম, কে পা‍‌বে তাজমহল? কার জুটবে লালকেল্লা? কার কপালে সূর্যমন্দির — কার ভাগ্যে সুন্দরবন? এভাবেই চমক লাগানো এই বাণিজ্য নীতিতে যারপরনাই বিস্মিত গোটা দেশের মানুষ। এসবের পক্ষে যুক্তি হিসাবে হাজির করা হচ্ছে যে, দেশের মাটিতে ব্যবসা করা কর্পোরেট বাণিজ্য গোষ্ঠীগুলোকে দেশের ঐতিহ্যের সংরক্ষ‍‌ণে আর্থিক দায় নিতে হবে। কিন্তু এ যুক্তির অন্তরালে রয়েছে আরও বড়ো কুযুক্তি। সেই কুযুক্তির পথ ধরে দেশের শয়ে শয়ে বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া স্থাপত্যের ঐতিহ্যকে পুঁজি করে বেসরকারি বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে দেশে সরকারি উদ্যোগে। ফলে ঐতিহ্য এখন পরিণত হচ্ছে পুঁজিতে আর ইতিহাস এখন হতে চলেছে লেনদেনের বিষয়বস্তু। কিন্তু জাতীয় ঐতিহ্যের একচেটিয়া মালিকানার দাবিতে খড়্গহস্ত যে দল গোধরা থেকে দাদরি সর্বত্রই, তাদের এমন নৈতিক ডিগবাজি বিস্ময়ের কারণ বৈকি? সরকারের দায়হীন পথ চলার দায়িত্বের ভার দিতে সম্প্রতি নিলাম হয়েছে দিল্লির ‘লালকেল্লা’। নিলামে শিকে ছিঁড়েছে শাসক ঘনিষ্ঠ কর্পোরেট ‘দেশজ হিন্দু’ কোম্পানি ‘ডালমিয়া’ ভারত গোষ্ঠীর।

কেল্লার নাম লালকেল্লা বলেই এহেন নজিরবিহীন দত্তক গ্রহণের সরকারি সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে নাড়া খেয়েছে মানুষ। সরকারি সম্পত্তির দত্তক গ্রহণের নীতি হাল আমলের ফ্যাশনের মতো দেখতে চায় দেশের সরকার। ইতিমধ্যে চিড়িয়াখানার জীবজন্তু দত্তক নেওয়ার ভাবনা শুরু হয়েছে। মূল কারণ সরকারি খরচ কমানো আর বাড়ানো বেসরকারি অংশগ্রহণ। কারণ চিড়িয়াখানাকে কেবলমাত্র বিনোদনের উপায় হিসাবে দেখার ভাবনা। অথচ সরকার বেমালুম ভুলে যাচ্ছে একটা জীবন্ত চিড়িয়াখানা একটা নতুন প্রজন্মের বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে প্রাথমিক বোধ গড়ার এক শিক্ষালয়ও বটে। ঠিক একইভাবে ঐতিহ্যবাহী স্মারক ইমারত-কেল্লা মানুষের জীবনে শুধু বিনোদনের বিচারবস্তু নয়। এগুলো এক স্বাধীন জাতির জীবনে এক জীবন্ত শিক্ষালয়ও। কর্পোরেট স্টাইলে এসব স্থাপত্যের বাজারকেন্দ্রিক ভাবনা শুধু ভ্রান্ত নয় বিপজ্জনকও বটে।

চারশো বছরের একটা কেল্লা ইতিহাসের চড়াই-উতরাইয়ের পথ বেয়েই ঐতিহ্যের শিখরে পৌঁছেছে। আর সেই ঐতিহ্যের মর্যাদার প্রতীক হিসাবে আজও দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেন লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে।। সে কেল্লা হলো জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় সংহতির প্রতীক। ফলে এই জাতীয় মর্যাদা রক্ষার প্রথম ও শেষ দায় কেবলমাত্র দেশের সরকারেরই। এই দায় কোনও ইচ্ছুক বা অনিচ্ছুক কর্পোরেট সংস্থার সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র হতে পারে না।

ইতিমধ্যে লালকেল্লার দায়িত্বে নির্বাচিত গোষ্ঠীর সর্বময় কর্তা যিনি রামজন্মভূমি আন্দোলনে পরিচিত করসেবকদের তালিকায় ছিলেন বলে শোনা যায়, তিনি এমন ‘মোগলাই’ স্থাপত্যের ‘হেরিটেজ মিত্র’-এর ভূমিকা পালন করবেন তাতেও প্রবল বিস্ময় তৈরি হয়েছে। ‘ডালমিয়া ভারত’ গোষ্ঠীর বাৎসরিক মাত্র পাঁচ কোটি টাকায় লালকেল্লাকে দত্তক নেওয়ার দেশপ্রেমের প্রকল্পে বিতর্ক বহুমাত্রিক চেহারা পাচ্ছে। প্রথমত : যে কেল্লা থেকে চব্বিশ লক্ষ দর্শকের টিকিট বেচেই বছরে ছ’কোটি টাকা আয় হয়, সেই টাকা কেন পর্যটন উন্নয়নে খরচ না করে বছরে পাঁচ কোটি টাকার বিনিময় কেল্লার মধ্যে শৌচালয়-পানীয়জল চায়ের দোকান আর আলো লাগানোর মতো পর্যটক স্বাচ্ছন্দ্যের দায়িত্ব তুলে দিচ্ছে কর্পোরেটের হাতে। পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থা পাচ্ছে গোটা লালকেল্লাজুড়ে বিজ্ঞাপনের যথেচ্ছ সুযোগ। এই বিজ্ঞাপন যে শুধু লালকেল্লার ভেতরে তৈরি হওয়া নতুন হাজার স্কোয়ার ‍ফিটের খদ্দেরদের জন্য তা নয়। এখন থেকে ‘অতুল্য ভারত’ গড়ার সফল কারিগর হিসাবে দেশের সমস্ত সংবাদ ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে ঐ গোষ্ঠীর দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত। বলাইবাহুল্য ‘ডালমিয়া ভারত’ গোষ্ঠীর সমস্ত পণ্য ও পরিষেবা বিক্রির ক্ষেত্রে এই দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়া দিয়ে শুরু হবে নজিরবিহীন ব্র্যানডিং। দেশের ঐতিহ্যকে পুঁজি বা পণ্যের মতো ব্যবহারের এই ভাবনায় দেশের সরকার আজ জোট বেঁধেছে কর্পোরেটদের স্বার্থে। বেকায়দায় দেশজ ‘জড়িবুটি’ ব্যবহারের নাম করে দেশের শাসকঘনিষ্ঠ সাধুসন্তরা পলিমারের টুথব্রাশ ফেস ক্রিমের বাজার দখল করে কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য বানিয়েছে অনেকটা সেই ভাবনায় এই কেল্লা দত্তকের নিয়োগ বৃত্তান্ত। আজ লালকেল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে এই নতুন পরীক্ষা। এতে সফল হলে তালিকায় রয়েছে তাজমহল থেকে কুতুবমিনার অনেক কিছুই। এ পথে সরকার চললে অচিরেই সংসদভবন, সুপ্রিম কোর্টের দেখভালের দায়িত্ব যেতে পারে ‘ইচ্ছুক’ কর্পোরেটদের হাতে। ভেবে দেখুন কখনও ‘দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির’ দত্তক নিতে চলেছে ‘সারদার’ মতো চিট ফান্ড সংস্থা। হয়তো এভাবেই ভেঙে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে দেশের সমন্বয়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পীঠস্থান ও ইতিহাসকে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রকল্পের সংরক্ষণে সরকারি অথবা যৌথ উদ্যোগের কোনও মডেলই বাতিল নয়। কিন্তু সংরক্ষণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন সেই স্থাপত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্বের মূল্যায়ন। আর প্রয়োজন সেগুলোর গুরুত্ব অনুযায়ী তার সাযুজ্যপূর্ণ ব্যবহারের আর্থ-সামাজিক মডেল, পর্যটন মানেই শুধু বিনোদন নয়, এমনকি বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের নামে পর্যটনের নয়া মডেল — তথাকথিত ‘ই‍‌কো টুরিজম’ বহুক্ষেত্রেই পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি করেই এগিয়ে চলেছে। পর্যটন-বিনোদনের রাজস্ব আদায়ের নতুন পথ সেক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে — দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যের পথ থেকে, সরকারের সাম্প্রতিক ‘হেরিটেজ’ প্রকল্পের অধিগ্রহণ নীতিতেও এই ঝোঁক সুস্পষ্ট। শুধু লালকেল্লা নয় এ তালিকায় এ রাজ্যের সুন্দরবন থেকে শুরু করে, লাদাখের বিখ্যাত ‘প্যানগং’ লেক — অজন্তা ইলোরা গুহা, কোনার্কের স্বর্ণমন্দির এমন বহু ঐতিহ্যবাহী প্রকল্প।

এখানে মনে রাখা উচিত যে কোনও ঐতিহ্যেরও স্থাপত্যের একটা বাস্তুতন্ত্র থাকে তাই সেই ঐতিহ্যের সংরক্ষণ আর ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখা সমার্থক ও পরিপূরক। এই সত্যিটা ভুলে গিয়ে লালকেল্লার সংরক্ষণ ভাবনা হবে ঐতিহাসিক ভুল। আর সেই ইতিহাসেই কখনও ভরসা কখনও বিড়ম্বনা শাসকের যুগে যুগে। তাই ঐতিহ্যের ইতিহাসের দখলদারির ঝোঁক শুরু হয় সরকারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেই। আশঙ্কা লালকেল্লার বর্তমান দত্তক গ্রহণের গল্প হয়তো ইতিহাসের সেই দখলদারির লক্ষ্যেই। কেল্লা থাকবে চোখের সামনে দাঁড়িয়ে অথচ কেল্লার ভেতরের ইতিহাস পালটে যাবে বিজ্ঞাপনের স্ক্রিপ্ট মেনে, আলো আঁধারি কেল্লা বিহারের শো অথবা লালকেল্লার নতুন অ্যাপসে। ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরির চেষ্টা আজ বি জে পি এবং আর এস এস-এর অন্যতম বড় কর্মসূচি। এই ইতিহাসের বিকৃতির লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে বহুমাত্রিক সরকারি কর্মসূচি। কেল্লা অধিগ্রহণের মতো দেশের জায়গায় জায়গায় রাস্তা অধিগ্রহণের কায়দায় শুরু হয়েছে নামবদলের হিড়িক। ইতিমধ্যে দিল্লির আওরঙ্গজেব রোডের নাম বদলে রাখা হয়েছে এ পি জে আবদুল কালাম রোড। বি জে পি প্রার্থী ‍‌হিসাবে জয়ী প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধেয় কালাম সাহেবের নামে রাস্তার নামকরণ করা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু আপত্তি আওরঙ্গজেবকে হটিয়ে সে নামকরণ কেন? এক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলাই যায় যে, নামকরণের জন্য রাস্তা ‘কি কম পড়িয়াছে’? উত্তর দিচ্ছেন বি জে পি নেতারাই। বলছেন তারা আওরঙ্গজেবের ইতিহাস স্মরণে রাস্তার নামকরণের প্রয়োজন নেই। এই যুক্তিতে অনায়াসেই তাজমহল বা কুতুবমিনারের নাম বদলও শাসক নেতারা চাইতে পারেন এবং চাইছেনও। বি জে পি-র হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন যে, দিল্লির আকবর রোডের নাম বদলে ধর্মনিরপেক্ষ মহারানা প্রতাপ রোড করা হোক। আপাতদৃষ্টিতে এমন নাম বদলের উদ্যোগ তুচ্ছ মনে হ‍‌লেও এই বদলের ভাবনার ভেতর নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে উগ্র অন্ধ বিকৃত জাতীয়তাবাদী আদর্শ। কেন্দ্রের সরকার ও সরকারি দল এ পথে চলেই দেশের কর্পোরেট ও উগ্র হিন্দুত্বের কারিগরদের মেলবন্ধনের চেষ্টা চালাচ্ছে মেরুকরণের রাজনীতির স্বার্থে। এটাই হলো এই সময়ের অন্যতম বিপদ।

ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য আসলে ইট-কাট-পাথরের জড় স্তম্ভ নয়, সেই স্থাপত্য আসলে এক জীবন্ত ইতিহাসের ছবি। ইতিহাসের উত্থান-পতন-সংঘাত-সহাবস্থানের সাক্ষী ঐ ঐতিহাসিক স্থাপত্য বর্তমান প্রজন্মের আত্মসমীক্ষার উপাদান, লালকেল্লার মতো একটা কাঠামোর নির্মাণ শৈলী, নির্মাণ সামগ্রী ও নির্মাণ ভাবনার মধ্যে আজও বহু সংকটের সমাধানের পথ নির্দেশ খুঁজে পায় বিজ্ঞান প্রযু‍‌ক্তির ছাত্র ও পেশাদারেরা। ফলে সামগ্রিকতার নিরিখে দেশের সরকার বা আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার মতো স্বশাসিত সংস্থার টাকার অছিলায় এই দায়িত্ব পালনের পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত চরম হটকারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। মনে রাখা উচিত ‘ঐতিহ্যের সব স্থাপত্যই বিনোদনধর্মী নয় বিশেষত : জাতীয় সংহতি ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এমন স্থাপত্যগুলির ক্ষেত্রে ভিন্নধর্মী বিকল্প সংরক্ষণ ভাবনার প্রয়োজন।’

সে প্রয়োজন মিটতে পারে স্থাপত্য সংরক্ষণে দক্ষ পেশাদার সংস্থার পরামর্শকে সঙ্গী করেই। যাঁরা দেশে নির্মাণ সামগ্রী বেচে বড় হয়েছে তারা নতুন নির্মাণে পটু হলেও স্থাপত্য সংরক্ষণে যে অপটু তা এই কর্পোরেটদের ইতিহাস দেখলেই প্রমাণ হয়। এহেন কর্পোরেটদের সামাজিক ব্যয় বাবদ অর্থ সরকার জড়ো করে নিজ উদ্যোগে বা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে কেন সেসব স্থাপত্যের সংরক্ষণের পথে এগচ্ছে না — এটাই আজ বড় প্রশ্ন। কারণ সরকার নির্ধারিত বেসরকারি সংস্থার তথাকথিত রুটিন রক্ষণাবেক্ষণের ভুল পন্থা একটা সৌধের চিরস্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে। যা হবে আমাদের জাতীয় জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি। শেষে অবাক হতে হয় যখন দেখি দেশের শাসকদলের শীর্ষ স্থানীয় নেতা কর্মীরা মহাভারতের যুগে ইন্টারনেটের আষাঢ়ে গল্প ফেরি করে বিকৃত জাতীয়তাবাদের প্রচার চালাচ্ছেন আর তারাই দেশের প্রকৃত জাতীয়তাবাদী সৌধকে হাটেবাজারে বেচে ফেলার পথে হাঁটছেন ধান্দার তাগিদে। এই দেউলিয়া নীতিই আজ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সমাজকাঠামোর প্রধান বিপদ। ‘দত্তক’ নেওয়ার অভ্যাস যদি ‘লালকেল্লা’ দিয়ে শুরু হয় অদূর ভবিষ্যতে দেশের সরকার গড়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে ‘কর্পোরেট’ দত্তকের দল — এমন আশঙ্কার জন্ম হচ্ছে এখান থেকেই। কারণ দেশের কর্পোরেট ‘দত্তক’ এরাই এখন ভোটের খরচের জোগান দিচ্ছে কেন্দ্রের শাসকদল সমেত অনেকেরই। তাই আওয়াজ উঠেছে সাধু-সাবধান।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement