পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি
করার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক

মোহনবাগানের সাধারণ সভা ২৩শে জুন

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৮ই মে , ২০১৮

কলকাতা, ১৭ই মে — মোহনবাগানের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করা হোক। এমনই প্রস্তাব উঠল বৃহস্পতিবারের সবুজমেরুনের কর্মসমিতির বৈঠকে। বর্তমানে মোহনবাগান প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ১ লক্ষ টাকার শেয়ার রয়েছে মোহনবাগানের চার শীর্ষকর্তার কাছে। টুটু বোস, সৃঞ্জয় বোস, দেবাশিস দত্ত এবং অঞ্জন মিত্র। কর্মসমিতির বৈঠকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই চারজনের থেকেই শেয়ার কিনে নেবে মোহনবাগান ক্লাব। প্রাইভেট কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হলে কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করা হবে সাধারণ সদস্যদের কাছেও। তবে সদস্যদের শেয়ার কেনার উপরেও থাকবে নিয়মকানুন। একজন সদস্য কটি শেয়ার কিনতে পারবে, সেই সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হবে।

এদিনের বৈঠকে ক্লাবের ২০১৬-১৭ মরশুমের হিসাব অনুমোদিত হয়েছে। মরশুমের ঘাটতি প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকা। এদিন সভায় সাধারণ সভার দিনও ঘোষণা করা হয়েছে। মোহনবাগানের বার্ষিক সাধারণ সভা ২৩শে জুন। এই সভার পরই নির্বাচনের জন্য বিশেষ কমিটি তৈরি করা হবে। সেই কমিটিই নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বৃহস্পতিবারের সভায় সাত জন বিশেষ আমন্ত্রণী সদস্য কর্মসমিতিতে এলেন। তাঁরা হলেন অরবিন্দ সেন (সহ সভাপতি), দেবাশিস লাহিড়ী, দেবাশিস রায়, অশোক গুছাইত, আশিস ঘোষ, চিন্ময় চ্যাটার্জি এবং বীরেশ্বর গাঙ্গুলি। কমিটিতে এসেছেন দুজন কো-অপ্ট সদস্যও। বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়েছে কর্মসমিতির তিনজন সদস্যকে গ্রুপ অব ডিরেক্টর করার জন্য। তাঁরা হলেন স্বপন ব্যানার্জি, মদন দত্ত এবং শুভাশিস পাল। প্রসঙ্গত এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেননি বিদায়ী সভাপতি টুটু বসু। অন্য দুই শীর্ষকর্তা দেবাশিস দত্ত এবং সৃঞ্জয় বোস লিমিটেড কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু ১ মাস মধ্যে তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না হওয়ায় তাঁরা বোর্ডে রয়ে গেছেন। তাই সচিব গোষ্ঠী নতুন সদস্যদের বোর্ড অব ডিরেক্টরসে আনতে চাইলে বোর্ড মিটিংয়ে প্রতিবাদ করবেন সৃঞ্জয়-দেবাশিসরা। তাই সচিব ভেবে রেখেছেন সেরকম হলে এ আই এফ এফ-এর দ্বারস্থ হয়ে কর্মসমিতির সদস্যদের সমর্থন নিয়ে নতুন কোম্পানি তৈরি করার প্রস্তাব রাখবেন।

এরই মধ্যে কর্মসমিতির বৈঠক শুরুর কয়েক ঘন্টা আগেই বোর্ড মিটিং ডেকেছেন বিদায়ী সভাপতি টুটু বসু। শুক্রবার দুপুরে বিদায়ী সভাপতির হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটের অফিসে এই মিটিং ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর এই মিটিংয়ে আসছেন না বোর্ডের দুই ডিরেক্টর অঞ্জন মিত্র এবং সোহিনী মিত্র। কারণ হিসাবে সচিব ঘনিষ্ট মহলে জানিয়েছেন কারুর ব্যক্তিগত অফিসে যাবেন না তিনি। কিন্তু পদত্যাগী কর্তাদের দাবি এই অফিসই মোহনবাগান কোম্পানির নথিভুক্ত অফিস। তাহলে আসতে অনীহা কেন? পদত্যাগী কর্তাদের আরও দাবি কর্মসমিতির বৈঠকে যে কটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে, সেগুলোর কোনটিরই বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হয়ে গেলে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের সমস্যা হবে বলেও তাঁদের দাবি। সচিব ঘনিষ্ঠ কর্তারা বলছেন, বিশ্বের সবকটি বড় ক্লাবই এই পদ্ধতিতেই চলে। এরই মধ্যে কর্মসমিতির বৈঠকের দিন মোহনবাগান লনে বিরোধী গোষ্ঠীর বলরাম চৌধুরির ঘনিষ্ট কয়েকজনকে দেখা গেছে বলে খবর। তাহলে কি আবার কোনও নতুন সমীকরণ? আগামী দিনে মোহনবাগান নির্বাচন নিয়ে যে অনেক নতুন নাটক দেখতে পাওয়া যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement