অজানা জ্বরে আক্রান্ত ৬০,
আতঙ্কে বংশীহারি ব্লকের
দুই গ্রামের মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা   ২৪শে মে , ২০১৮

বালুরঘাট, ২৩শে মে — অজানা জ্বর, সঙ্গে পেট ব্যথাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে বংশীহারি ব্লকের দুটি গ্রামের বহু মানুষ ছুটছেন রসিদপুর হাসপাতালে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিনভর আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দুই গ্রামের মানুষ। এদিকে রসিদপুর হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ায় চরম অব্যবস্থা দেখা দিয়েছে। শয্যার অপ্রতুলতার দরুন সব রোগীরা হাসপাতালের বেডে ঠাঁই পায়নি। রোগীদের আশ্রয় হয়েছে হাসপাতালের বাইরের দিকের বারান্দায়। আবার অনেকে হাসপাতালের ভেতরে মেঝেতে আশ্রয় নিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত থেকে ব্লকের এলাহাবাদ অঞ্চলের সাউথপুর ও প্রামাণিকপাড়া এই দুটি গ্রামের শিশু, মহিলা, যুবক, যুবতী, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা সব বয়সিরাই জ্বর, পেটের ব্যথা, বমি এই সমস্ত উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে সকলেই রসিদপুর হাসপাতালে যান। বুধবারও সারাদিন এই একই উপসর্গ নিয়েই একের পর এক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এতো মানুষ অজানা জ্বরে আক্রান্ত হবার পরেও জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কোনও হেলদোল নেই।

এই খবর পেয়ে বুধবার রসিদপুর হাসপাতালে রোগীদের দেখতে যান সি পি আই (এম) নেতা গৌতম গোস্বামী, সফিরুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেন। রোগীদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন প্রায় ৫০/৬০জন রোগীর মধ্যে ৬জনকে ইতিমধ্যেই কালদিঘি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকিদের রসিদপুর হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চলছে। তবে চিকিৎসাধীন কারোরই শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি ঘটেনি। রোগ সম্পর্কে চিকিৎসকরাও পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে পারছেন না।

চিকিৎসকদের অনুমান, জলবাহিত রোগ অথবা খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকেও এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাউথপুর ও প্রামাণিক পাড়ায় ব্লক মেডিক্যাল অফিসারের উদ্যোগে দুটি ক্যাম্প করা হয়েছে। কিন্তু বুধবার বিকাল পর্যন্ত জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পর্যবেক্ষণে আসেননি এবং জেলা সদর দপ্তর থেকে কোন চিকিৎসক পাঠাননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দুই গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষের আচমকা জ্বরসহ নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষে কোন ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ক্ষোভের পাশাপাশি বাড়ছে আতঙ্ক।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement