তমলুকে মহিলাকে ধর্ষণ অভিযুক্ত
তৃণমূলী পঞ্চায়েত সদস্য

নিজস্ব সংবাদদাতা   ২৪শে মে , ২০১৮

তমলুক, ২৩শে মে— এখনও ভোটে জেতার পর শপথবাক্য পাঠ হয়নি। তৃণমূলের ‘বিশাল জয়’-এর বিজয় মিছিলও হয়নি এখনও। এরই মধ্যে সদ্য নির্বাচিত তৃণমূলী পঞ্চায়েত সদস্য ধর্ষণ করলেন এবং বহাল তবিয়তে বুক ফুলিয়েই ঘুরছেন এলাকায়।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর-২ ব্লকের গড়বাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ পূর্বচক গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯শে মে। এখানেই এবারের পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘উন্নয়ন’ বাহিনীর প্রধান দয়াল বারুই (৪৪) নির্বাচনে জয়ী হয়েছে জোড়াফুলের প্রতীকে। ঘটনাটি শনিবার ঘটলেও উন্নয়নবাহিনীর চাপে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেননি ধর্ষিতা মহিলা। অবশেষে মঙ্গলবার বিকালে সম্পূর্ণ ঘটনার বিশদ বিবরণ জানিয়ে কাঁথির এস ‍‌ডি পি ও-কে অভিযোগ জানান ঐ মহিলা। এরপর তার নির্দেশে ভূপতিনগর থানাতেও অভিযোগ জানান মহিলা। বুধবার থানাতে ধর্ষিতার বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

এই পূর্বচক গ্রামেই বাড়ি তৃণমূলের সদ্য জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য দয়াল বারুইয়ের। এলাকায় তিনি বেশ নামকরা মস্তান এবং চরিত্রহীন নেতা হিসাবেই পরিচিত। গত ১৯শে মে তিনি এই পূর্বচক গ্রামেরই এক বিধবা মহিলা সুলেখা প্রধান (৩২)-কে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। চার বছর আগে ঐ মহিলার স্বামী মারা যায়। বর্তমানে তার একটি পাঁচ বছরের কন্যা সন্তান র‍‌য়েছে। একা থাকার সুযোগ নিয়ে তৃণমূলের সদ্য জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য দয়াল বারুই ঐ মহিলাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। দয়াল নি‍‌জেও বিবাহিত। তার দুটি মেয়ে এবং স্ত্রী রয়েছে।

ঘটনার পরেই ঐ নির্যাতিত মহিলা ভূপতিনগর থানায় অভিযোগ জানাতে যায়। কিন্তু থানার ওসি বলেন বিয়টি নিয়ে ‘জলঘোলা’ না করে নিজেদের মধ্যে আপসে মিটিয়ে নিতে। তখন স্থানীয় তৃণমূল নেতারাই চাপ দিয়ে ঐ মহিলাকে থানায় অভিযোগ জানাতে বাধা দেয়। নিজেরাই ‘মিটিয়ে’ নেওয়ার কথা বলে ঐ নির্যাতিতাকে পাশের গড়বাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের খিরিশবাড়ি গ্রামে পাঠিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, ঐ মহিলাও তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ঐ মহিলার বাড়িতেই দুবার নির্বাচনীসভা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। এমনকি মাংসভাতের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল ঐ মহিলার বাড়িতেই। সেই তৃণমূলী কর্মী সমর্থক মহিলাকেই ধর্ষণ করল সদ্য জয়ী তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য।

ঘটনার পরে নির্যাতিতাকে জোর করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হলেও মেয়েটি কিন্তু দমে যাননি। তিনি সরাসরি এস ডি পি ও-কে জানান পুরো ঘটনার বিবরণ জানিয়ে। ভূপতিনগর ব্লক নির্বাচনী কমিটির অহ্বায়ক (বামফ্রন্ট) তথা সি পি আই (এম) ভূপতিনগর এরিয়া কমিটির সম্পাদক অমলেন্দু দাস জানান, তৃণমূলের রাজত্বে বিরোধীরা তো নিরাপত্তা পাচ্ছেই না। তৃণমূলের লোকজনও ছাড় পাচ্ছেন না। ভোটের আগে থেকেই গোটা ব্লকজুড়ে যে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল পূর্বচক গ্রামের ঘটনা তার একটি ছোট্ট উদাহরণ মাত্র। যদিও ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং উদ্বেগজনক।

গড়বাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩টি আসনেই এবারে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। বেশিরভাগ আসনেই বিরোধীদের প্রার্থী দিতেই দেয়নি। কিন্তু পূর্বচক গ্রামে তৃণমূলী দয়াল বারুইয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হন সি পি আই (এম)-র আনন্দ দাস। এ গ্রামেরই দিলীপ জানা ছিলেন সি পি আই (এম)-র জেলা পরিষদ প্রার্থী। প্রত্যেকেই জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী তার ‘স্বভাব চরিত্র’ বজায় রাখতে পারেনি। এবার প্রশাসন কি করবে— সেটা বলা সম্ভব নয়। পুরো ঘটনায় এলাকায় অবশ্য বেশ উত্তেজনা। আগামী পাঁচ বছর কি হবে তা নিয়ে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement