গ্রামীণ ডাকসেবক ধর্মঘটকে
ঘিরে মিছিল, সভা রাজ্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি   ২৪শে মে , ২০১৮

কলকাতা, ২৩শে মে—মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালীন সর্বভারতীয় ডাক ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন গ্রামীণ ডাকসেবকরা। গ্রামীণ ডাকসেবকদের সঙ্গে যুক্ত সবকটি সংগঠন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। গ্রামীণ ডাক সেবকদের কর্মক্ষেত্রের শর্তাবলি সংক্রান্ত কমলেশ চন্দ্র কমিটির সুপারিশ মানছে না কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ ওই কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার আশ্বাস দিয়েছিল সরকার। এই কমিটি গঠন ও হয়েছিল এন ডি এ আমলে। রিপোর্ট দাখিলের পর আঠারো মাস কেটে গেলেও সরকার নির্বিকার। গত এপ্রিলের মধ্যে সুপারিশ কার্যকর করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েও সরকার প্রতিশ্রুতি রাখেনি। ফলে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট।

উত্তর ২৪পরগনা জেলার প্রায় ১২০০ গ্রামীণ ডাকসেবকরা এদিন এই ধর্মঘটে শামিল হন। এই ধর্মঘটের সমর্থনে বুধবার সারা ভারত ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের বারাসত বিভাগীয় শাখার উদ্যোগে জেলাশাসকের অফিসের সামনে থেকে প্রধান ডাকঘর পর্যন্ত মিছিল হয়েছে। মিছিল শেষে কর্মচারী জমায়েতে বক্তব্য রাখেন অসিত বঙ্গবাস, নির্মল দে, প্রদীপ মোহরে, স্বপন রায়, অনিরুদ্ধ শিকদার, নীলরতন চক্রবর্তী প্রমুখ।একইসঙ্গে বসিরহাট, বনগাঁ এবং বারাকপুরে সভা ও মিছিল হয়েছে। বারাসত পোস্টাল ডিভিসনে ৭৭ অফিস এরমধ্যে ৭টি বাদ দিয়ে সমস্ত অফিস দ্বিতীয় দিনেও বন্ধ আছে। যারমধ্যে বারাসত ও বসিহাটের দুটি হেড অফিস আছে। বন্ধ আছে জেলার ৪১৬টি শাখা অফিস।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ডাকবিভাগের ৬০ শতাংশের বেশি কর্মী গ্রামীণ ডাকসেবক। ৮০ শতাংশের বেশি শাখা কার্যত এঁরাই চালান। ডাকবিভাগের সিংহভাগ রাজস্ব আসে বস্তুত এঁদের প্রতিদিনের কাজকর্মের মাধ্যমেই। অথচ এঁদের ডাককর্মী হিসাবে ধরা হয় না। অত্যন্ত কম মজুরি দিয়ে এঁদের কাজ করিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে দেশজুড়ে ডাককর্মীদের ধর্মঘটের প্রভাব শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গ জুড়েও পড়েছে। বিভাগীয় কর্মচারী এবং জি ডি এস কর্মীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। শিলিগুড়িতে বুধবার সকাল থেকেই বড় ডাকঘরের সামনে ডাক কর্মচারীদের অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়। এন এফ পি ই-র অনুমোদিত এ আই পি ই ইউ (গ্রুপ সি), এ আই পি ই ইউ (পোস্টম্যান এবং এম টি এস) ও এ আই পি ই ইউ-র (জি ডি এস) কর্মীদের পক্ষ থেকে প্রদীপ সেন জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট চলবে।

বুধবার এক প্রেস বিবৃতিতে কো অর্ডিনেশন কমিটি অব সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মানব সেনশর্মা জানান, কেন্দ্রীয় পেনশনার্স সংগঠনগুলোর কো-অর্ডিনেশন কমিটি এই ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে এবং এই ধর্মঘটের সমর্থনে আগামী ২৫শে মে বিকাল ৪টায় কলকাতা যোগাযোগ ভবনে পেনশনারদের বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলায় জেলায় প্রধান ডাকঘরের সামনে আগামী ২৬শে মে বিক্ষোভ সভা হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement